বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেওয়ার  নৈতিক অধিকার নেই  --- আমীর খসরু 

ফাইর ফটো

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঋণনির্ভর হয়ে পড়বে, এই ঋণ শোধ দিতে দেশের মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। নাগরিকদের ভূগতে হবে চরমভাবে। তিনি বলেন, অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেওয়ার কোন নৈতিক অধিকার নেই। জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে, একইভাবে বাজেটও দিচ্ছে। জনগণ এই নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি বাজেটও গ্রহণ করবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর বনানীতে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে এটি বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নয়। দলীয়ভাবে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ শুক্রবার প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। 

আমির খসরু বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র অনির্বাচিত দেশ বাংলাদেশ। এই অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধও নয়। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি কিছু সংখ্যক মানুষের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। তারা বাজেট প্রণয়ন করছে। তারা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। আবার তারাই সরকার পরিচালনা করছে। 

তিনি আরও বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতি নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঋণনির্ভর বাজেট দিতে হচ্ছে। এখন যে এক মিলিয়নের বাজেট তিন মিলিয়ন দেওয়া হচ্ছে এই টাকা আমার আপনার পকেট থেকেই নেওয়া হবে। করের মাধ্যমে, ভ্যাটের মাধ্যমে বা অন্যান্য মাধ্যমে এই টাকা সরকার মানুষের পকেট কেটে নেবে।

সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অনির্বাচিত সরকার, অনির্বাচিত সংসদে এই বাজেট দিয়েছে। গণতন্ত্র না থাকায় সুশাসন নেই দেশে। সুশাসনের অভাবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বাধাগস্ত। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ বন্ধ, শেয়ার বাজারে অস্থিরতা, ব্যাংকে তারল্য সংকট। এর ফলে ঋণনির্ভর অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে সরকার। রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি হচ্ছে। যে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে, সার্ভের সাথে তার কোন মিল নেই। 

ধনী ও সুবিধাভোগী শ্রেণীর কথা চিন্তা করেই প্রস্তাবিত বাজেট দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, এতে সাধারণ মানুষের কোন উপকার হবে না। প্রস্তাবিত বাজেট এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উপর নতুন করে ঋণ ও করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে যেমন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি এ বাজেটে ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। 

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অনুমোদন দেওয়া হলেও সে বৈঠকেও আধঘণ্টা দেরিতে পৌঁছান অর্থমন্ত্রী। দুপুর ১টা ২১ মিনিটে বৈঠকে যোগ দেন তিনি। এবার অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তাফা কামালের এটিই প্রথমবারের মতো বাজেট পেশ। এটি দেশের ৪৮তম ও আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম বাজেট। বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পক্ষ থেকে সংসদে বাজেট বক্তৃতা পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট সংসদে পেশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের আকার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে না পারা ও উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থ খরচ করতে না পারায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকারের চেয়ে ৮০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বেশি। আর চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ১২ দশমিক ৬২ শতাংশ ও সংশোধিত বাজেটের আকারের চেয়ে ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ বড়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ