বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

অবশেষে কার্যকর হচ্ছে নতুন ভ্যাট আইন

 

স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পুরক শুল্ক আইন, ২০১২ আইন কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর নতুন ভ্যাট আইনে কিছু সংস্কারের কথা বলা হয়েছে বাজেট বক্তৃতায়। নতুন ভ্যাট আইনে যেসব সংস্কার হচ্ছে সেগুলো হচ্ছে-

ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়িদের মূসক নেটের বাইরে রাখার জন্য বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূসক অব্যাহতি প্রদান করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকার বেশি হলেই ভ্যাট দিতে হবে।

বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার কর দিতে হবে। মূসক নিবন্ধন সীমা ৮০ লাখ টাকা থেকে ৩ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে ৩টি তফসিল আছে। প্রথম তফসিলে পণ্যের অব্যাহতি, দ্বিতীয় তফসিলে সেবার অব্যাহতি ও তৃতীয় তফসিলে সম্পূরক শুল্ক হার। নতুন আইনে প্রথম তফসিলে পণ্য ও সেবার অব্যাহতি, দ্বিতীয় তফসিলে সম্পূরক শুল্ক হার এবং তৃতীয় তফসিলে পণ্য ও সেবার হ্রাসকৃত বা নির্ধারিত মূসক হার ও পরিমাণ।

১৫ শতাংশ মূসকের পাশাপাশি নির্দিষ্টকৃত পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ৫,৭.৫ ও ১০ শতাংশ মূসক আরোপ, মুদ্রাস্ফীতির সম্ভাবনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কতিপয় পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কর নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ি পর্যায়ে করভার কমানোর জন্য মূসক হার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

পণ্যের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে ওষুধ ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বর্তমানের ন্যায় স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসকের হার যথাক্রমে ২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২ শতাংশ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তি সনদ গ্রহন, রিটার্ণ দাখিল, কর পরিশোধ, রিফান্ড ও প্রত্যর্পণ সমন্বয় ইত্যাদি কার্যক্রম অনলাইনে সম্পাদনের সুযোগ রাখা হয়েছে, পন্য সরবরাহের পূর্বে বিদ্যমান মূল্য ঘোষনা পদ্ধতি রহিত করে বিনিমেয় বা ন্যায্য বাজার মূল্যের ভিত্তিতে কর পরিশোধের ব্যবস্থা, বর্তমান পণ্য সরবরাহের পূর্বে প্রযোজ্য কর ‘হিসাব চলতি’ নামক হিসাবে জমা রাখার বিধান রয়েছে, নতুন আইনে ‘হিসাব চলতি’ সংরক্ষণ করতে হবেনা, ব্যবসায়ি মাস শেষে দাখিলপত্রের মাধ্যমে কর পরিশোধ করতে হবে, যেক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ মূসক প্রযোজ্য সেক্ষেত্রে দাখিলপত্রের মাধ্যমে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করা যাবে, দাখিলপত্রই রিফান্ডের আবেদন হিসেবে বিবেচিত হবে।

উল্লেখ্য, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যে প্রস্তাব করা হয়েছিল তা ব্যবসায়িদের অনুরোধে ২ বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়। এ আইনটি এ বছর বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ি সংগঠনগুলোর সাথে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনানুষ্ঠানিক ঐকমত্য হয়েছে। আইনটি যুগোপযোগী কর এবং মূসক হারের পুনর্বিন্যাস করার প্রস্তাব অর্থবিল আকারে বাজেটে উত্থাপিত হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ