বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

ঋণ মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে : অর্থমন্ত্রী

 

সংসদ রিপোর্টার: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশে উন্নত ঋণ সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঋণ গ্রহীতারা যাতে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে সক্ষম হয়, সে লক্ষ্যে আর্থিক খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বড় ঋণগুলোকে আরও নিবিড় পরিবীক্ষণ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ মনিটরিং ব্যবস্থাকে জোরদার করার লক্ষ্যে সেন্ট্রাল ডাটাবেজ লার্জ ক্রেডিট (সিডিএলসি) গঠন করা হয়েছে।

গণকাল বৃহস্পতিবার সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতার সময় তিনি এসব কথা বলেন। 

অর্থমন্ত্রীর অনুরোধে তার পক্ষে সংসদে বাজেট বক্তৃতার বেশিরভাগ অংশ পড়ে শোনান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া অন্যান্য খাতে ঋণ ও আমানতের গড় ভারিত সুদহারের ব্যবধান ৪ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আমরা ব্যাংকের মূলধনের পরিমাণ বাড়াবো।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রয়োজন বোধে ব্যাংক একীভূতকরণ প্রয়োজন হলে সেটা যে আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা যায়; তার জন্যও ব্যাংক কোম্পানি আইন এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতে প্রতিযোগিণায় সক্ষম করার লক্ষ্যে আমরা ব্যাংক ঋণের ওপর সুদের হার এক অংকের উপর দেখতে চাই না। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, যেসব ঋণ গ্রহীতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন পরিশোধ না করার জন্য (ইচ্ছাকৃত খেলাপি), সেই সমস্ত ঋণ গ্রহীতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গত দুই বাজেটের মতো আগামী অর্থবছরের বাজেটেও সবার জন্য পেনশনের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। তবে এবারও সুষ্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘সরকারি যে পেনশন ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে জনসংখ্যার খুব সামান্য একটি অংশ এই সুবিধার আওতায় রয়েছে। দেশের সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের সব কর্মীকে ক্রমান্বয়ে পেনশন সুবিধার আওতায় আনতে শিগগিরই ইউনিভার্সাল পেনশন অথরিটি গঠন করবে সরকার।’

গত জুনে চলতি অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময়ও সার্বজনীন পেনশনের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন সে সময়ের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের মধ্যে এ নিয়ে একটি রূপরেখা দেওয়া হবে। আর পুরোপুরি চালু না হলেও একটি পাইলট প্রকল্প চালু হবে। ধীরে ধীরে সবাইকে পেনশন সুবিধার আওতায় আনা হবে।

উন্নত বিশ্বে সরকারি চাকুরেদের মতো বেসরকারি চাকুরেরাও পেনশন সুবিধা পান। তারা যখন আয় করেন, তখন এর একটি অংশ জমা রাখেন তারা পেনশন তহবিলে। আর সরকারও সেখানে একটি অংশ দিয়ে থাকে। অবসরে গেলে সে তহবিল থেকে মাসোহারা পেয়ে থাকে তারা।

তবে বাংলাদেশে পেনশন সুবিধা কেবল সরকারি চাকুরেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর বেসরকারি চাকুরেরা অবসরে যাওয়ার পর আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েন অনেকখানি।

পেনশনভোগীদের অর্থ তোলার ক্ষেত্রে ভোগান্তি কমানোর কথাও বলেন অর্থমন্ত্রী। জানান, তাদের মাসিক বরাদ্দ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে চলে যাবে।

এই পদ্ধতিতে বর্তমানে ২৭ হাজার পেনশনভোগী তাদের টাকা পাচ্ছেন। আগামী অর্থবছরে সব পেনশনভোগী এই পদ্ধতির আওতায় চলে আসবেন।

অধিবেশনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপনের সময় রাষ্ট্রপতি মো, আবদুল হামিদ, প্রধান বিচারপতি, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ