বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

নতুনত্ব নেই বাজেটে॥ ব্যয়  বাড়ছে জনসাধারণের

মিয়া হোসেন: নতুন অর্থ বছরের নতুন বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে জাতীয় সংসদে। কিন্তু বাজেট নতুন হলেও তাতে নতুনত্ব নেই। জনসাধারণের জন্য খুশির খবরও নেই। পুরনো ধাচের বাজেট কাঠামোতে সরকারের আয় বাড়াতে বাড়ছে জনসাধারণের ব্যয়। করমুক্ত আয়সীমা বাড়েনি। বেড়েছে মোবাইল ফোনে কথা বলার ব্যয়। কার্যকর হচ্ছে বহুল আলোচিত ভ্যাট আইন। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০২০ নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সেই সাথে চলতি অর্থ বছরের সংশোধিত সম্পূরক বাজেটও উপস্থাপন করা হয়। এবারের বাজেটের আকার হচ্ছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। আর এর ঘাটতি ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। যা মূল বাজেটের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। চলতি অর্থবছর বাজেটের আকার ছিল চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। কিন্তু সম্পূরক বাজেটে এসে সে অংক কমিয়ে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরের বাজেটের তুলনায় নতুন অর্থবছরে বাজেটের আকার বাড়ছে ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা।

গতকাল কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বেলা ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। এরপর স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে বাজেট উপস্থাপনের জন্য আহ্বান জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাসহ সরকারি এবং বিরোধী দলের প্রায় সব সংসদ সদস্য সংসদে উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বাজেট উপস্থাপন করার আগে অর্থমন্ত্রী মাঝেমধ্যে বসে পাঠ করার অনুমতি নিয়েছেন। তিনি বাজেট উপস্থাপন করার শুরুতে একটি প্রামাণ্যচিত্র তুলে ধরেন। ১৮ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্রে বাংলাদেশের ইতিহাস, পাকিস্তান আমলের অর্থনৈতিক বৈষম্য, দেশের স্বাধীনতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তুলে ধরা হয়। ৩টা ২৬ মিনিটে তিনি মূল বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন। শুরুতে বসে বক্তব্য দেন। পরে অর্থমন্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী বাজেটের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। বিকাল চারটা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা পাঠ শেষ করেন। বাকী অংশ পাঠ পঠিতব্য বলে গণ্য করা হয়। এবারের বাজেট হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২১’তম বাজেট। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের এটা ১৭’তম বাজেট।

বাজেট পেশের আগে বেলা পৌনে ১টা থেকে শুরু হওয়া সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়। সাধারণত প্রতিবছরই বাজেট পেশের দিনে সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার সংক্ষিপ্ত বৈঠক বসে, সেখানে বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়। ওই বৈঠক শেষ হয় দুপুর আড়াইটায়।

‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শীর্ষক শিরোনামের এই বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে ২০ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা বেশি। বাজেটের এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎসের ঋণই মূল ভরসা। এ ঋণ ব্যাংকিং খাত ও সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে। এ ছাড়া নতুন বাজেটে সম্ভাব্য মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা (জিডিপির ১৩.১ শতাংশ)। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাতে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা (জিডিপি’র ৭ শতাংশ) ধরা হয়েছে। আসন্ন বাজেটে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও মূল্যস্ফীতির চাপ ৫.৫ শতাংশে আটকে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

এবারের বাজেট বাস্তবায়নে জনসাধারণের ব্যয় বাড়বে। প্রতিদিনই মোবাইল ফোনের কলে প্রতি একশত টাকায় সরকারকে দিতে হবে ২৭ টাকা। যা এতদিন দিতে হতো একশ টাকায় ২২ টাকা হারে। নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে ভোক্তা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়বে। ফলে সাধারণ মানুষের ঘাড়েও ভ্যাটের চাপ পড়বে। কিন্তু করমুক্ত আয়েরসীমা বাড়েনি। গতবছরও করমুক্ত আয়েরসীমা বাড়ানো হয়নি। করমুক্ত আয়েরসীমা বাড়ানো হলে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ কিছুটা সুবিধা পেত।

এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জনপ্রশাসনে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। তার পরের রয়েছে শিক্ষায় ৭৯ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। খাতওয়ারী বরাদ্দে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৩৭ হাজার ৮৮৪ কোটি, প্রতিরক্ষা খাতে ৩২ হাজার ৫৫৮ কোটি, জনশৃংখলা ও নিরাপত্তা খাতে ২৭ হাজার ৬৩৬ কোটি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি ৭৯ হাজার ৪৮৬ কোটি, স্বাস্থ্য ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি, সামাজিক নিরাপক্তা ও কল্যাণ খাতে ২৯ হাজার ৭৬৯ কোটি, গৃহায়ন খাতে ৬ হাজার ৬০৩ কোটি, বিনোদন,সংস্কৃতি ও ধর্ম খাতে ৪ হাজার ৩৮৮ কোটি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২৮ হাজার ৫০ কোটি, কৃষিতে ২৮ হাজার ৩৫৫ কোটি, শিল্প ও অর্থনৈতিক খাতে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৪ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

জিডিপি আকার: আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হচ্ছে ২৮ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি বাজেটের তুলনায় ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বেশি। চলতি অর্থবছরে জিডিপির আকার ধরা হয় ২৫ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। আর জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জিডিপি ৭.৮ শতাংশ ধরা হলেও ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতির চাপ ৫.৫ শতাংশে আটকে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এডিপি আকার: আগামী অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা খরচের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। সেই তুলনায় নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার বাড়ছে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। নতুন এডিপিতে মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৫৬৪টি। গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। 

বাড়ছে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা: ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান। চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। সে হিসাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। যেখানে কর রাজস্ব ৩ লাখ ৪০ হাজার ১শ’ কোটি, করবহির্ভূত রাজস্ব ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭শ’ ১০ কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত করের পরিমাণ ধরা হচ্ছে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত করের পরিমাণ ধরা হচ্ছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বৈদেশিক অনুদান ধরা হচ্ছে ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা।

বাজেটের ব্যয়: বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে তিন লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে দুই লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এরই মধ্যে এডিপি অনুমোদন করা হয়েছে।

বাড়ছে বাজেটের ঘাটতি: বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের থেকে ২০ হাজার ৮৭ কোটি টাকা বেশি। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের ঘাটতি ছিল এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস থেকে নিট ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা ঋণ নেয়া হতে পারে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এর পরিমাণ ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা। এছাড়া অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নিট ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা নেওয়া হবে। চলতি অর্থবছরে এর পরিমাণ ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা (চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এর পরিমাণ ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা) এবং সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা (চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এর পরিমাণ ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা) নেয়া হতে পারে। এ ছাড়া অন্যান্য খাত থেকে নেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে তিন হাজার কোটি টাকা। এটি চলতি অর্থবছরে একই পরিমাণ রয়েছে।

বাড়ছে ভর্তুকি: আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও ঋণ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে। এসব খাতে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বরাদ্দ ছিল ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ বরাদ্দ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা বেড়ে হচ্ছে ৫০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। যা পদ্মাসেতুর মোট ব্যয়ের প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি থাকছে ৩২ হাজার ১০০ কোটি টাকা, প্রণোদনা ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, নগদ ঋণ সহায়তা থাকছে ৫ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়লেও প্রণোদনা ও নগদ ঋণে বরাদ্দ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বাড়ছে না করমুক্ত আয়ের সীমা: পেশাজীবী-ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সব মহলের দাবির পরও আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি-শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হচ্ছে না। অর্থাৎ আগামী অর্থবছরেও আড়াই লাখ টাকা বেশি বার্ষিক আয় হলে আয়কর দিতে হবে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পর থেকে ব্যক্তি-শ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়নি, আড়াই লাখ টাকাই রয়েছে। এর আগে প্রায় প্রতিবছরই এই সীমা বাড়ানো হয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২ লাখ এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। 

 রেমিট্যান্স প্রেরণে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা: প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেয়া হবে। প্রবাসীরা বছরে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাবেন তার ওপর ২ শতাংশ হারে এ সুবিধা দেয়া হবে। এজন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। 

ভ্যাট আইন কার্যকর: আগামী ১ জুলাই থেকে বহুল আলোচিত ভ্যাট আইন কার্যকর করা হবে। এটি কার্যকর হলে আগামী বছর রাজস্ব আয়ে গতি আসবে। এজন্য ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে পুরনো আইনের আদলেই নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইন হচ্ছে। পুরনো আইনের সাতটি হারের পরিবর্তে নতুন আইনে সব মিলিয়ে পাঁচটি ভ্যাট হার হচ্ছে। এই হারগুলো হলো-পণ্য বা সেবা আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ, উৎপাদনে ১০ শতাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ, খুচরায় ৫ শতাংশ এবং পণ্য বা সেবায় ট্যারিফ মূল্যে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ হবে। এছাড়া ১ হাজার ৯৮৩টি পণ্যে মূসক অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। 

রপ্তানিতে সহায়তা: রূপকল্প বাস্তবায়নে ২০২১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় করতে চায় সরকার। এজন্য রপ্তানিতে উৎসাহী করতে উদ্যোক্তাদের আগামী ১ জুলাই থেকে রপ্তানিকৃত সব পণ্যে ১ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হবে। বর্তমান ৪৫টি পণ্য রপ্তানির ওপর নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

১৯৭২ সালের ৩০ জুন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকারের ৭৮৬ কোটি টাকার প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ। বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসে। পরে ১৯৯৭ সালের ২৮ জুলাই তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া ঘোষণা করেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট। ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরের ২৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকার সে বাজেট তৎকালীন সরকারের শেষ বছরে গিয়ে দাঁড়ায় ৪২ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা।

এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় এলে প্রথমবারের মতো ১ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। যা পরবর্তী কয়েক অর্থবছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে বেশ বড় আকার নেয়। নবম জাতীয় সংসদের শেষ বাজেটেই রেকর্ড ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় নির্বাচনে টানা দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ক্ষমতায় এসে তৃতীয়বারের মতো অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব আড়াই লাখ কোটি টাকার ওপরে। ২০১৭-১৮ অর্থবছর বাজেটের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকায়। আর গত মেয়াদের শেষ অর্থবছর ২০১৮-১৯ এর জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২০তম বাজেট পেশ করে। যার আকার ধরা হয় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে সামগ্রিকভাবে ২১তম বাজেট প্রস্তাব পেশ হয়েছে গতকাল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ