মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

উগ্র সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ না করলে উন্নয়ন থমকে যাবে ....সাঈদ খোকন 

গতকাল বৃহস্পতিবার মেয়র মোহাম্মদ হানিফ অডিটোরিয়ামে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ঢাকা মেট্রোটলিটন পুলিশ আয়োজিত সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে জনপ্রিতিনিধিদের করণীয় শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পাশে থেকে কাজ করে যাবার কথা বলেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, উগ্র সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ না করলে উন্নয়ন থমকে যাবে। তাই জঙ্গীবাদ নির্মূলে নির্বাচিত সব সিটি কাউন্সিলরদেরকেও সম্পৃক্ত করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার  দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনের মিলনায়তনে ‘সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক সেমিনারে ডিএসসিসির মেয়র এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। এতে সভাপতিত্ব করেন সিটিটিসির প্রধান এবং ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

 মেয়র বলেন, শতবছরের শান্তিপ্রিয় এ বাংলার মাটিতে হঠাৎ অশান্তির যে ছায়া পড়েছে, তা অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে। এজন্য আমরা ডিএসসিসির সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবো। এজন্য সব কাউন্সিলরদেরকেও সম্পৃক্ত করা হবে। সবার সম্মিলত প্রয়াসে আমরা একটি শান্তিপ্রিয় জনপদ রেখে যেতে চাই আগামী প্রজম্মের জন্য। এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে আশ্বস্ত করে বলেন, নগর কর্তৃপক্ষ, নাগরিকরা, নগরের সব প্রতিনিধি এবং কর্তকর্তা-কর্মচারী রয়েছে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সিটিটিসিকে সহযোগিতা করবো।

তিনি আরও বলেন, আমাদের যে অর্জন, প্রিয় নেত্রীর নেতৃত্বে এবং যে লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি, সেই লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে যদি আমরা এ সহিংস উগ্রবাদ-জঙ্গীবাদকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি। কোনোভাবে যদি শুরু হয়ে যায় উগ্রবাদ, তাহলে সমস্ত অর্জন একেবারে ম্লান হয়ে যাবে।

সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।বলেছেন, ‘সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’ 

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ‘সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ মুক্ত একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণ যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে সেভাবে জনপ্রতিনিধিরা যদি সহযোগিতা করেন তাহলে দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ থাকবে না।’ তিনি বলেন, ‘হলি আর্টিজানে জঙ্গী হামলার ঘটনার পর ডিএমপিতে কোনও অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা ঘটেনি। এ কৃতিত্ব শুধু পুলিশের নয়, নগরবাসীরও। জঙ্গীবাদ দমনে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গীদের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার কোনও সুযোগ নেই। তবে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, আমরা বিট পুলিশিংসহ প্রত্যেক থানাকে কেন্দ্র করে পুলিশিং কমিউনিটি ফোরাম গঠন করেছি। মাদক, ইভটিজিং, অজ্ঞানপার্টিসহ সব অপকর্ম প্রতিরোধে আমরা জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চাই।

নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার সন্তান আবদ্ধ রুমে ইন্টারনেটে কী করছে সে বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ ইন্টারনেটে শান্তির ধর্ম অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মের নামে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে কেউ কেউ। আর একে ঘিরেই সৃষ্টি হচ্ছে দ্বন্দ্ব-সংঘাত।

অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গীবাদ নিয়ন্ত্রণে সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে রোল মডেল হিসেবে অনুসরণ করে বলে মন্তব্য করেছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি  বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গীবাদ দমনে দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছে। একারণেই বাংলাদেশ জঙ্গীবাদ দমনে সফল হয়েছে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ