বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশী হচ্ছে ॥ অনুৎপাদনশীল খাতে খরচ অত্যধিক

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে বিভিন্ন মহল ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের ঘোষিত বাজেট সর্ম্পকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

 চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি-- চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা.শাহাদাত হোসেন বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, বাজেটে মোট ব্যয়ের মধ্যে ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকাই অনুন্নয়ন ব্যয়। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ দিতে ৫৩ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদ দিতে ব্যয় হবে আরো ৪ হাজার কোটি টাকা। আর ৬০ হাজার কোটি টাকার মত ব্যয় হবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিতে। ব্যয়ের মধ্যে বড় প্রশ্ন রয়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের মান নিয়ে, কাজের বিনিময়ে খাদ্য সহ (কাবিখা) নতুন বাজেটে মোট উন্নয়ন ব্যয় বা এডিপি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ২ হাজার কোটি টাকা। হাজার কোটি টাকার ডেমু ট্রেন এখন ভাগাড়ে পড়ে আছে। বিআরটিএ এখন পরিকল্পনা করছে ৭০০ কোটি টাকার চালকের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য গাড়ী কেনার। যেটাও হয়তো ভাগাড়ে পরিণত হতে পারে। বিশাল বাজেটের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপির জালে আটকে আছে। যা অবলোপনসহ ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকাতে দাঁড়াবে। বাজেটের ঘাটতি থাকছে জিডিপির ৫ শতাংশ, এ হিসেবে বাজাট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি মেটানোর জন্য বিদেশি ঋণের উপর সরকারকে নির্ভর করতে হবে। এ ঋণের পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা, বাকি টাকা দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারে। যার পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা। আর ব্যাংক বহির্ভূত হাত থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা। যার ম্যাক্সিমাম ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে, যা অনেক চড়া সুদে। অর্থাৎ বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে বাজেটের পরিকল্পনা, বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া, খাতভিত্তিক বরাদ্দ ও সমস্যা নির্ধারণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশী হচ্ছে, অনুৎপাদনশীল খাতে খরচ অত্যধিক। প্রতিবছরই বাজেটে বিপুল পরিমাণ ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, ঘাটতি মেটাতে ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দকৃত ব্যয় কতটা গুণসম্পন্ন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে? উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বারবার সংশোধনের ফলে ঋণের পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে অস্বাভাবিক খরচও চোখে পড়ার মতো। পদ্মাসেতু প্রকল্প ৮ হাজার কোটি টাকা থেকে এখন ৩৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৫৮ হাজার কোটি টাকা থেকে ১ লক্ষ ৫২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ২৪ হাজার কোটি টাকা থেকে ৫৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চার লেন সড়ক তৈরীতে যেখানে ভারতে ১১ থেকে ১৩ লাখ ও চীনে ১৩ থেকে ১৬ লাখ মার্কিন ডলার খরচ হয়, সেখানে বাংলাদেশে ৫০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশী খরচ হয়। বাজেটে মৌলিক সমস্যা সমাধানের কোন নির্দেশনা নেই, নতুন কর্মসংস্থান তৈরীতে দিন দিন জিমিয়ে যাচ্ছে, বর্তমানে ৪ কোটি ৮২ লাখ তরুন-তরুনী বেকার, কর্মসংস্থানের অপ্রতুলতা ও প্রার্থীদের দক্ষতার অভাব নিয়েও বাজেটে কোনো দিক নির্দেশনা নেই। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ ও স্থবির, জিডিপিতে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ ২৩% ঘুরপাক খাচ্ছে। আমলাতান্ত্রিক পদ্মতিতে বাজেট সংশোধিত না হয়ে সাংবিধানিক উপায়ে সংসদের বাজেট সংশোধন হওয়াও জরুরী।চট্টগ্রামের জলবদ্ধতা নিরসনে, চট্টগ্রামের শিল্পকারখানা উন্নয়নে এবং বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এবং বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চাকতাই-খাতুনগঞ্জকে জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচানোর জন্য, চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল সরকারী করনের বা অবকাঠামোগত উন্নয়নে কোন পরিকল্পনা না থাকায় এবং চট্টগ্রামেক ক্লীন সিটি, গ্রীণ সিটি ও হেলদী সিটি রূপান্তরে এবং চট্টগ্রামের পানি বিদ্যুৎ, গ্যাস সমস্যার সমাধানে কোন বাজেট না থাকায় চট্টগ্রামবাসী হতাশ হয়েছে।

চিটাগাং চেম্বার : জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপনের প্রেক্ষিতে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র পরিচালকমন্ডলীর পক্ষ থেকে সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চট্টগ্রাম-ঢাকা দ্রুতগতির ট্রেন ও বে-টার্মিনাল নির্মাণ পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের দাবী জানিয়েছেন। তিনি বলেন-এসএমই খাতের উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব আহরণের আওতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে প্রস্তাবিত বাজেট। ১৩ জুন উত্থাপিত বাজেট উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। চেম্বার সহ-সভাপতি বলেন- ৮.২% জিডিপি অর্জন করা গেলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। প্রস্তাবিত বাজেটের কারণে বাজারে বেশীরভাগ দ্রব্যমূল্যের কোন পরিবর্তন হবার সম্ভাবনা নেই। সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অব্যাহত সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি কিছু নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সরকার, সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে ও দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।তিনি বলেন-ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা গত ৪ বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। আমরা এই সীমা বৃদ্ধি করার দাবি জানাচ্ছি। ঠিকাদারী ও সরবরাহ বিলে উৎসে কর হ্রাস করা হয়েছে, অগ্রিম কর প্রদানের ক্ষেত্রে সীমা ৪ লক্ষ থেকে ৬ লক্ষ টাকা এবং এসএমই খাতে টার্নওভার ৩৬ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষে উন্নীত করা হয়েছে যা ইতিবাচক। হস্তশিল্প রপ্তানিকে করমুক্ত রাখার সময়সীমা ৫ বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। তৈরীপোশাক শিল্পে হ্রাসকৃত করহার সুবিধা অব্যাহত রাখা দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে উৎসাহিত করবে। এছাড়া সারচার্জের ক্ষেত্রে ২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার সীমা ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশীয় কৃষি যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, চামড়াজাত পণ্য, গৃহস্থালী পণ্য ইত্যাদি কর অবকাশ সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ডিভিডেন্ড হতে আয়ের করমুক্ত সীমা ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা, স্টক ডিভিডেন্ডের পরিবর্তে ক্যাশ ডিভিডেন্ডকে উৎসাহিত করার জন্য স্টক ডিভিডেন্ডের উপর ১৫% কর প্রদান পুঁজি বাজার উন্নয়নে সহায়ক হবে।নতুন ভ্যাট আইনে নিবন্ধন, তালিকাভুক্তি, রিটার্ণ দাখিল, কর পরিশোধ ইত্যাদি অনলাইনে সম্পাদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে বিদ্যমান মূল্য ঘোষণা পদ্ধতির পরিবর্তে বিনিময় বা ন্যায্য বাজার মূল্যের ভিত্তিতে কর পরিশোধের যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এ আইনে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে মূসক অব্যাহতি ও মূসক নিবন্ধন সীমা ৮০ লক্ষ টাকা থেকে ৩ কোটি টাকা করা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৫% মূসক হার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক হবে। তবে ইলেকট্রনিক ফিসকেল ডিভাইস এবং সেলস ডাটা কন্ট্রোলার স্থাপন বাধ্যতামূলক করার বিষয় পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন কারণ আমাদের দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখনো ততটা প্রস্তুত নয়। নারী উদ্যোক্তা পরিচালিত শো রুমের ক্ষেত্রে মূসক অব্যাহতি অর্থনীতিতে তাঁদের সম্পৃক্ততা উৎসাহিত করবে। স্মার্ট ফোনের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করা ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। ঔষধ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের শুল্ক রেয়াত সুবিধা এবং মেডিক্যাল গ্যাস প্রস্তুতকারী কাঁচামালের উপর ডিউটি হ্রাস করায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বজ্রপাত প্রতিরক্ষা সামগ্রী আমদানি শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। শিল্প খাতে আমদানিকৃত নমুনা দ্রুত ছাড়করণের ক্ষেত্রে ডিমিনিমাস বিধিমালা সহায়ক হবে। এছাড়া স্বর্ণ আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করা কালোবাজারী রোধ এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করবে। দেশীয় শিল্প রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশন ইত্যাদিতে মূসক অব্যাহতি বহাল রাখা এসব শিল্পের সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। চেম্বার সহ-সভাপতি গণপরিবহন ছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ীর ক্ষেত্রে ১০% সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করার আহবান জানান। 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি : দেশের চলমান অগ্রযাত্রায় ২০১৯-২০২০ সালে ৫ লক্ষ ২৩ হাজার কোটি টাকার সর্বোচ্চ বাজেট জাতিকে উপহার দেয়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানাই।যেখানে বাংলাদেশের ১ম বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা মাত্র। ৪৯ বছর পর বর্তমানে জাতি পেয়েছে ৫ লক্ষ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট। এতেই অনুমেয় হয় বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।এতবড় সাহসী বাজেটের জন্য আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির পক্ষ থেকে যে সকল পরামর্শ রাখতে চাচ্ছি তা হল যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ¦ালানী ও বন্দর উন্নয়ন খাতে আরও বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন। যার ফলে দেশের শিল্পায়ন বৃদ্ধি পেয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের জিডিপি ৮.৫ ছাড়িয়ে যাবে। বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজস্ব আহরন বৃদ্ধি, রেমিটেন্স এর পরিমান বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় বৈদেশিক সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে সরকারকে ব্যাংক ঋণ গ্রহন কমিয়ে রাখতে পারলে দেশের অর্থ তারল্য সংকট সৃষ্টি হবে না। পক্ষান্তরে ব্যাংক ঋণ ছাড়াই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। 

 চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ--চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ বর্তমান সরকারের ঘোষিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জন্য ঘোষিত বাজেটকে ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও স্বপ্ন পূরণের বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছে। উপর্যুপরি তৃতীয় দফায় ক্ষমতাসীন সরকারের প্রথম বছরের বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীত করণের জন্য প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে নতুন আঙ্গিকে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে এই বাজেট ঘোষিত হওয়ার জাতি স্বস্থিবোধ করছে। সর্বোপরি সর্বজনের জন্য সহনশীল এই বাজেট সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রাকে অধিকতর গতিশীল করবে। তাঁরা এই বাজেটকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক মুক্তির ম্যাগনাকাটা হিসেবে অভিহিত করেন। বাজেটে আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে রাষ্ট্রীয় রির্জাভ সাশ্রয়, কৃষি সম্প্রসারণ উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিজিএমইএ চট্টগ্রাম ’র তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া--২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার জন্য বিজিএমইএ চট্টগ্রাম অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে। বিজিএমইএর প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে,৫,২৩,১৯০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণার বিশেষত্ব হলো যে গতানুগকিতার বাইরে এ বাজেটে অনেক নতুন খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। যুবকদের স্টার্ট আপ প্রতিষ্ঠার জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, গবেষনা ও উদ্ভাবন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ, সামাজিক নিরাপত্তাখাতে ৭৪ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শিক্ষাখাতে অতিরিক্ত প্রায় ১৩ হাজার কোটি ও স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যোগাযোগ অবকাঠামোখাতে ৭৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে ২৮,০৫১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটে পোশাক শিল্পের জন্য ৫% প্রণোদনা প্রদানের দাবির বিপরীতে শুধুমাত্র ১% বা অতিরিক্ত ২৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যদিওবা আমাদের দাবীর ত’লনায় এটি অপ্রত’ল, তদুপরি শিল্পের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। পোশাক শিল্পে কর্পোরেট করহার ১০% করার সুপারিশ করেছিলাম। তবে তা অপিরবর্তিত রাখা হয়েছে। বাজেটে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ৫টি উপকরন এর শূল্ক হার হ্রাস করে ৫% করার ঘোষণা শিল্পের জন্য ইতিবাচক। সামাজিক সুরক্ষাখাতে যে ৭৪,৩৬৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সেখানে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদেরকে অন্তভর্’ক্ত করা হয়নি। পোশাক শিল্পের বিনিয়োগ সুসংহত করতে এবং শিল্পের বিকাশ অব্যাহত রাখতে শিল্পকে সহায়তা প্রদান জরুরি।বিজিএমইএ মনে করে, বাজেট শুধুমাত্র ঘোষনা করা হয়েছে। এখনও এ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ আছে। বিজিএমইএ আশা করে, কর্তৃপক্ষ অর্থমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে এসবের সমাধান করতে পারে। বিশেষ করে যে খাতটি অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছে,তার জন্য বাজেটে বিশেষ কিছু থাকবে, এটি বিজিএমইএ একান্তভাবে আশা করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ