শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেয়ার অভিযোগ অব্যাহতিপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

সংগ্রাম রিপোর্ট : দেশের ঐতিহ্যবাহী ও কুমিল্লা বোর্ডের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন না অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) শাহাদাত হোসেন সিকদার। অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক এ অধ্যক্ষ পুলিশ প্রহরায় একাডেমির অধ্যক্ষের অফিস কক্ষ অবৈধভাবে জোরপূর্বক দখলে রাখার চেষ্টা করছেন বলে একাডেমি সূত্রে জানা গেছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্নেল (অব.) শাহাদাত হোসেন সিকদারকে গত ৩০ এপ্রিল’১৯ তারিখে একাডেমির গবর্নিং বডির গবায় সর্বসম্মতভাবে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তার বর্তমান বয়স ৬০ ঊর্ধ্ব হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তিনি উক্ত পদে থাকার কোনো সুযোগ নেই। ২ মে উক্ত অব্যাহতির চিঠি ও দায়িত্ব হস্তান্তরের চিঠি পাওয়ার পরপর তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত হঠাৎ একাডেমির শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধের নোটিশ প্রদান করেন। আগামী ১৫ জুন তারিখে একাডেমি খুলবে। দীর্ঘ প্রায় দেড়মাস প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করায় ছাত্র/ছাত্রীদের বিশেষ ক্লাস হয়নি। হঠাৎ একাডেমি বন্ধ ঘোষণা করায় অভিভাবকদের মাঝে উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। 

একাডেমির গবর্নিং বডি ও আদালত মূলে জানা গেছে-কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক মহোদয়ের স্বাক্ষরিত চিঠির যার স্মারক নং-ক.প/ কমিটি/ চাঁদ ৩৬ তারিখ ১২/০৩/২০১৯ মাধ্যমে আল আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ গবর্নিং বডি বাতিল করে এডহক কমিটি গঠনের আদেশ প্রদান করেন। উক্ত বেআইনী আদেশের বিরুদ্ধে অত্র প্রতিষ্ঠানের গবর্নিং বডির পক্ষে চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং ৩৩৩৮/১৯ দায়ের করেন। গত ২১/০৩/২০১৯ তারিখে শুনানী অন্তে হাইকোর্ট সন্তুষ্ট হয়ে রুল ইস্যু করেন এবং কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের বিগত ১২/০৩/২০১৯ তারিখের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের উপরোক্ত আদেশের কপি যথাসময়ে লিখিতভাবে অবগত করানো হয়। পরবর্তীতে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্যরা সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে  Civil Petition for Leave to Appeal No. 1137 of 2019 দায়ের করলে শুনানীঅন্তে গত ০৯/০৪/২০১৯ তারিখে চেম্বার জজ আদালত গত ২১/০৩/২০১৯ তারিখের হাই কোর্টের রীট পিটিশন নং ৩৩৩৮/১৯ আদেশটি স্থগিত করে দেন এবং লিভ টু আপীল নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানীর জন্য ২৮/০৪/২০১৯ তারিখ ধার্য করেন। গত ২৮/০৪/২০১৯ তারিখে শুনানী অন্তে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সচিব, শিক্ষা মন্ত্রনালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্যদের দায়েরকৃত Civil Petition for Leave to Appeal No.113 of 2019 টি খারিজ আদেশ প্রদান করেন। উক্ত খারিজ আদেশের ফলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ৩৩৩৮/১৯ এর বিগত ২১/০৩/২০১৯ তারিখের আদেশটি বহাল থাকল। সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের উপরোক্ত খারিজ আদেশটি সকলের অবগতির জন্য গত ২৮.০৪.২০১৯ তারিখে বিজ্ঞ এডভোকেট অন-রেকর্ড “ল-ইয়ার সার্টিফিকেট ইস্যু করেন, পরবর্তীতে আদালতের সার্টিফাইড কপিসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে যথাসময়ে লিখিতভাবে অবগত করানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের উপরোক্ত আদেশের আলোকে আল আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ এর গবর্নিং বডি বিগত ৩০/০৪/২০১৯ তারিখে অধ্যক্ষের কার্যক্রম সন্তোসজনক না হওয়ায় চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগকৃত অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) শাহাদাত হোসেন শিকদারকে ০২/০৫/২০১৯ তারিখ থেকে চুক্তির শর্ত মোতাবেক অব্যাহতি প্রদানের সর্বসম্মতক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং উক্ত পদে একাডেমির সিনিয়র সহকারী অধ্যাপক মোঃ মকবুল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। গবর্নিং বডির উক্ত সিদ্ধান্তের আলোকে অব্যাহতি ও দায়িত্ব হস্তান্তর পত্র পাওয়ার পর অব্যাহতিপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (অব.) কর্নেল শাহাদাত হোসেন সিকদার সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের উপরোক্ত সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকার করতঃ নব নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে অস্বীকার করেন। তিনি নিয়ম বর্হিভূতভাবে ছাত্র/ছাত্রীদের প্রদত্ত বেতন ও অন্যান্য ফি বাবদ টাকা যথানিয়মে ব্যাংকে জমা না দিয়ে হাতে রেখে দেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে নগদ লেনদেন করেন। কারণ ব্যাংকের যাবতীয় লেনদেন তার স্বাক্ষরে নয় বরং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষরে পরিচালিত হয়। একাডেমির ক্যা¤পাসে মিথ্যা তথ্য প্রদান পূর্বক পুলিশ মোতায়নের ব্যবস্থা করেন, গবর্নিং বডির সদস্যগকে নানাভাবে পুলিশী হয়রানী ও হুমকী ধমকী প্রদান করেন যা অদ্যবধি অব্যাহত রয়েছে। তিনি একাডেমি প্রশাসন শাখার কক্ষের দরজার তালা ভেঙ্গে নতুন তালা লাগিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ছাত্র/ছাত্রীদের লেখাপড়া ধ্বংসের পাঁয়তারা করছেন। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরেও একাডেমি অধ্যক্ষের অফিস কক্ষ জোরপূর্বক দখলে রাখার চেষ্টা করেন এবং প্রতিষ্ঠানের জরুরি কাগজপত্র অন্যত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। একাডেমিতে নিয়মিত পুলিশের উপস্থিতি কোমলমতি শিশু-কিশোর ও অভিভাবকদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ নিয়ে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা উৎকণ্ঠিত।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের আলোকে গবর্নিং বডির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অব্যাহতি প্রাপ্ত অধ্যক্ষের অন্যায় ও বেআইনী বাধা প্রদান প্রসঙ্গে বিগত ০৫/০৫/১৯ তারিখে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব, কলেজ পরিদর্শক, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার চাঁদপুর সদর, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চাঁদপুর সদর, অফিসার ইনচার্জ মডেল থানা চাঁদপুরকে যথানিয়মে লিখিতভাবে অব্যাহতি করা সত্ত্বেও অব্যাহতি প্রাপ্ত অধ্যক্ষ বেআইনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং উল্লেখিত ব্যক্তিগণ বে-আইনীভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। অব্যাহতি প্রাপ্ত অধ্যক্ষের কার্যক্রম একাডেমির শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। চাঁদপুর জেলার ২৫ লাখ মানুষের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ বাস্তবায়নে কার্যকরি সহায়তা প্রদান পূর্বক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতঃ একাডেমির গবর্নিং বডিকে তার দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আবেদন জানিয়ে গত ১৮/০৫/১৯ তারিখে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এর নিকট আবেদন করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। কিন্তু তিনি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বিগত ২১/০৫/১৯ তারিখে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত আবেদন করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। 

এতকিছুর পরও চাঁদপুরের প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও শিক্ষা অফিস বেআইনীভাবে গত ২৪/০৫/১৯ এবং ৩১/০৫/১৯ তারিখে আল-আমিন একাডেমি কেন্দ্রে প্রাইমারী সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে না ডেকে অব্যাহতি প্রাপ্ত অধ্যক্ষকে বেআইনীভাবে কাজে লাগিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করেন। এতে একাডেমির অভ্যন্তরে চরম বিশৃংখলা দেখা দিয়েছে। সাড়ে ৬ হাজার ছাত্র/ছাত্রীর অভিভাবকগণ বর্তমানে চরম হতাশার মধ্যে আছে। এমতাবস্থায় উচ্চ আদালতের আদেশ ও গবনিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আল-আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন গবনিং বডির গবাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাবেক এম.পি প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ