মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অসুস্থ রুহুল কবির রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার : ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির আন্দোলনের কারণে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অবস্থা এমন যে, তাকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য আসা ডাক্তাররাও কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারছে না। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখায় ভেতরে খুবই অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। এ ছাড়া কার্যালয়ের ভেতরে আটকিয়ে পড়া অন্য নেতা-কর্মীরা এক অসনীয় অবস্থায় আছেন।
নয়া পল্টনের কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় দফতরের একটি ছোট কক্ষে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব বিছানায় শুয়ে আছেন। তার ডান হাত দিয়ে স্যালাইন লাগানো হয়েছে। অবরুদ্ধ অবস্থায় মোবাইলে টেলিফোনে রিজভী বলেন, আমার কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছে। আমি অসুস্থ। মুখে খেতে পারছি না। বমি হচ্ছে। এখন স্যালাইনে সবকিছু হচ্ছে। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা আমাকে দেখতে আসতে পারছেন না। আমি খুব কষ্টে আছি। কারণ আমার ছোট ভাইদের কারণে অফিসে তারা (ডাক্তররা) ঢুকতে পারছেন না। এখানে থেকে টেলিফোনে ডাক্তারের সাথে কথা বলে সবকিছু করা হচ্ছে। চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম রাতে থাকার পর ভোরে বাসায় চলে যান। একজন স্বাস্থ্যকর্মী এখন কার্যালয়ে আছেন।
গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকে দ্বিতীয় দফায় রুহুল কবির রিজভী দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। এখানে তিনি দুই বেলা খাবার রান্না করে খান। রাতে ঘুমও সেই একেবারে ছোট একটি কক্ষে। ঈদও করেছেন রিজভী এই অফিসেই। তার স্ত্রী আনজুমান আরা লাইলি ঈদের দিন খাবার রান্না করে স্বামীর জন্য নিয়ে আসেন।
কেনো দলীয় কার্যালয়ে তাকে থাকতে হয়-  এ রকম প্রশ্নের খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশেই রিজভীকে দলীয় কার্যালয়ে থাকতে হচ্ছে। এক বছর আগে ব্যাপকহারে নেতাদের গ্রেপ্তারের পরিপ্রেক্ষিতে রিজভীকে দলীয় কার্যালয়ে থাকার জন্য বলা হয়। প্রতি সাপ্তাহে এক-দুই দিন স্ত্রী শিক্ষিকা আনজুমান আরা লাইলি খাবার রান্না করে নিয়ে আসেন অথবা বাসার কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দেন। এই এক বছরের মধ্যে অনেক সময় প্রয়োজনে দলের বক্তব্য দিতে রিজভীকেই সাংবাদিক সম্মেলনে দেখা গেছে। সেটা সকালেই হোক অথবা রাতে হোক। দলের অনেক প্রেস রিলিজটি রিজভীর স্বাক্ষরে যায়।
রিজভী আক্ষেপের সুরে বলেন, আমি খুব অসুস্থ। কথা বলতে পারি না। উঠেও দাঁড়াতে পারছি না। আমি যা কিছুই এখানে থেকে করতে হচ্ছে তা দলের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশে হচ্ছে। আমার ব্যক্তিগত কোনো কিছু এখানে নেই। সিনিয়র নেতারা যেসব সিদ্ধান্ত নেন সেটা যদি সিদ্ধান্ত হয় তা নির্দেশ পেলেই আমি আপনাদের বলি। এখন আপনার অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বুঝতেই পারছেন আমি কথা বলার মতো শক্তি পাচ্ছি না। গতকাল থেকে খাবার পেটে থাকে না। স্যালাইনে এই তরল খাবারে তো শক্তি আসে না, প্রাণের স্পন্দনটা শুধু সচল থাকে মাত্র।
স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলিতে রিজভী পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। সেই আহতের ক্ষত এখনো বহন করে চলেছেন তিনি। তার পায়ে হাড়ভাঙা থাকার কারণে তিনি লাঠি ছাড়াও হাঁটতে পারেন না।
গত ৩ জুন মেয়াদোত্তীর্ণ ছাত্রদলের কমিটি ভেঙে দিয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। এতে ছাত্র দলের বিক্ষুব্ধ একটি অংশ গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। তারা অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধরা ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার এবং বিজ্ঞপ্তির স্বাক্ষরকারী রিজভীর বিরুদ্ধে নানারকম বিদ্রুপাত্মক শ্লোগান দেয়।
এ বিষয়ে রিজভীর কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দলের নেতার নির্দেশে কাজ করি। এখানে আমার কি করার আছে? দলের সর্বোচ্চ লেভেলে যেসব সিদ্ধান্ত হয় যা জানাতে বলা হয়, আমি আদেশ মান্য করি। এখানে আমার আর কিছু বলার নেই। ১/১১ সময়ে দলের মহাসচিব আবদুল মান্নান ভুঁইয়ার নেতৃত্বে যখন সংস্কারপন্থিরা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তখন রুহুল কবির রিজভী মূল দলের পক্ষে কাজ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ