মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মানি লন্ডারিং মামলায় দৈনিক খুলনাঞ্চল সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন গ্রেফতার

মিজানুর রহমান মিল্টন

খুলনা অফিস : মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার সদস্য, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি দৈনিক খুলনাঞ্চল সম্পাদক ও প্রকাশক মিজানুর রহমান মিলটনকে মানিলন্ডারিং মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার বেলা দু’টার দিকে নগরীর অভিজাত সিটি ইন হোটেল থেকে তাকে সিআইডি পুলিশের একটি দল জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে নড়াইল জেলার কালিয়া থানায় সোপর্দ করা হয় এবং সিআইডির পরিদর্শক অনুপ বাদি হয়ে মানি লন্ডারিং ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে। মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিএফইউজে, এমইউজে, খুলনা প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দসহ কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, চলন্তিকা যুব সোসাইটি নামক একটি বেসরকারি সংস্থার অর্থ আত্মসাতকে কেন্দ্র করে একটিমহল খুলনাঞ্চল সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটনকে দীর্ঘদিন ধরে একের এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খুলনাঞ্চল সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন দুপুরে একটি ব্যাংকে ব্যক্তিগত কাজে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় তাকে সিআইডির এক কর্মকর্তা ফোন করে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। মিলটন দুপুর ২টার দিকে হোটেল সিটি ইনে গেলে সাদা পোশাকের সিআইডি পুলিশ তাকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে যায়। ওদিকে বিকেল পর্যন্ত মিলটনের মোবাইল সংযোগ বন্ধ থাকায় তাঁর স্বজন ও সহকর্মীদের উদ্বীগ্ন হয়ে পড়েন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না মেলায় আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে সহকর্মীরা বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে তারা জানতে পারেন হোটেল সিটি ইন থেকে তাকে তুলে নেয়া হয়েছে। সন্ধ্যার দিকে নড়াইল কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান মিলটনসহ তিনজনকে সিআইডি পুলিশ তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে নিশ্চিত করেন।
কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিআইডি মিজানুর রহমান মিলটন নামের একজনকে থানায় নিয়ে আসেন। তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা হয়েছে। মামলা নং-০২। সিআইডির পরিদর্শক অনুপ বাদি হয়ে ১৬ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। এরমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে রিমান্ডের আবেদন করে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটি করছে সিআইডির অলোক।
২০১৮ সালে ১৫ এপ্রিল নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় ‘চলন্তিকা যুব সোসাইটি’ নামক একটি বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় আট হাজার গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনায় ১৫এপ্রিল সংস্থার চেয়ারম্যান খবিরুজ্জামানসহ আটজনের বিরুদ্ধে কালিয়া থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় খুলনাঞ্চল সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিলটনকে জড়ানো হয়। কিন্তু ঘটনার সাথে জড়িত না থাকায় পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে মিলটনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
এদিকে খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি ও দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিলটনকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সোমবার বিকেলে ফোনে ডেকে এনে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলের সামনে থেকে তুলে নেয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে’র সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, এমইউজে খুলনার সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান, সহ-সভাপতি এহতেশামুল হক শাওন, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান হিমালয় ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক রানা, বিএফইউজে’র সাবেক সহ-সভাপতি ড. মো. জাকির হোসেন, সাবেক নির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম ও এহতেশামুল হক শাওন, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাহেব আলী। অপরদিকে বিএনপি নেতৃবৃন্দ এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে মিলটনের মুক্তি দাবি করেন। বিবৃতিদাতারা হলেন, বিএনপির চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, ফখরুল আলম, এডভোকেট ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এস এম আরিফুর রহমান মিঠু, ইকবাল হোসেন খোকন প্রমুখ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিক মিলটনকে নগরী থেকে যে পন্থায় আটক করা হয়েছে তা সাংবাদিকদের জন্য আতংকের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফোন করে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে ডেকে নেয়ার পর একজন বহুল প্রচলিত পত্রিকার সম্পাদককে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া, দীর্ঘ সময় অজ্ঞাত অবস্থায় রাখা, পরিবার-স্বজন-সহকর্মীদের উদ্বেগ-উৎকন্ঠা-হতাশা-আতংক এবং এক পর্যায়ে নড়াইলের প্রত্যন্ত উপজেলা কালিয়া থানায় সোপর্দ করে মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেফতার দেখানোর সমস্ত প্রক্রিয়াটিই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বাড়াবাড়ি কিংবা আইনের অপপ্রয়োগ হিসেবে মনে করছেন সচেতন মহল। বিবৃতিতে বিএনপি নেতৃবৃন্দ এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে মিলটনের মুক্তি দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ