মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনা-যশোর অঞ্চলের পাটকলের অবসরী শ্রমিকদের চোখের পানিতে ঈদ পালন

খুলনা অফিস : চোখের জলেই ঈদ পালন করতে হলো খুলনা-যশোর অঞ্চলের নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের অবসরপ্রাপ্ত প্রায় আট হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বরাবর দেয়া স্মারকলিপিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রদত্ত স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০১৩ সালের জুলাই মাসের গচ্ছিত পিএফ, গ্রাচ্যুইটি এবং ২০০৭ সালের পাওনা মৃত ব্যক্তিদের বীমার টাকা এখনও পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে অবসরি শ্রমিকরা পাওনা না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। এ অবস্থায় সরকার প্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রধামন্ত্রীর মুখ্য সচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিগত ঈদ-উল-ফিতরের সময় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা ঈদ বোনাস ও বকেয়া পাওনা পেলেও অবসরী শ্রমিকদের কথা কেউ মনে রাখেনি।
স্মারকলিপিতে স্মাক্ষর করেন বিজেএমসি খুলনা জোনের আওতাধীন নয়টি পাট কলের অবসরপ্রাপ্তদের লিয়াজোঁ কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আরব আলী, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক মুক্তিযোদ্ধা মুন্সী আব্দুল ওয়াদুদ, মুক্তিযোদ্ধা গাজী আজগর আলী, মো. মোজাম্মেল হক, সৈয়দ আবু জাফর, আব্দুল আজিজ, মো. আছাদা আলী, আব্দুস সালাম সরকার, মো. নজরুল ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম, ফরিদা বেগম, মো. আ. মান্নান, মো. ইব্রাহীম, মো. শহীদ উদ্দিন প্রমুখ।
তাকিয়েও দেখলো না কেউ
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ফুলের বাগানের পাশে রোববার দুপুরে হঠাৎ এক বৃদ্ধ এসে পড়ল। আস্তে আস্তে সামনে ঘাসের উপর শুয়ে কাতরাতে থাকলো সে। পাশ দিয়ে হাজারও রোগী ও তাদের স্বজনেরা নিজের ও পরিবারের রোগের জন্য ডাক্তারের কাছে গেলেও যেতে পারেনি এই বৃদ্ধ। রোববার বিকেল রাত পেরিয়ে সোমবার সকাল গড়িয়ে দুপুর গেলেও হাসপাতালের কর্মচারীরাও দেখে না দেখার ভান করে নিজের কাজেই ছিলেন ব্যস্ত। ঘাসের উপর শুয়ে কাতরাতে থাকা বৃদ্ধের চোখের পানি আর আহজারিতে বাতাস ভারী হয়ে যাচ্ছিল। স্বার্থের দুনিয়ায় যখন হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স মেহেদী হাসান ও ওয়ার্ড বয় রিপন গোলদার একটি ট্রলিতে মাঠ থেকে বৃদ্ধ লোকটিকে নিয়ে এসে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলো কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওমর ফারুক বৃদ্ধকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য এগিয়ে আসলে দুই পাশে নড়তে নড়তে সবার সামনেই বিদায় নিলেন তিনি। নাম পরিচয়হীন এই বৃদ্ধের লাশ খুমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। কেউ তার পরিচয় জানলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ