মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

অধিকার আদায়ের আন্দোলন প্রকৃতি ও প্রস্তুতি

ড. মো. নূরুল আমিন : পেশাগত অবস্থানের কারণে বিভিন্ন ধরনের মানুষ আমাদের বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন করেন। কেউ কেউ মনে করেন যারা সাংবাদিক তারা সবকিছু জানেন। আসলে আমরা তা নই। চাঁদের যেমন নিজের আলো নেই অন্যের আলো ধার করে দুনিয়াকে আলোকিত করে আমাদের অবস্থাও অনেকটা তাই।
ঈদের পরে আন্দোলন নিয়ে কথা উঠেছে। সরকারের দুঃশাসন অবসানের আন্দোলন। দেশে বিদেশে অনেকেই প্রশ্ন করেন আসলে কি আন্দোলন হবে? হলে কোন দিন থেকে? কি ধরনের আন্দোলন? আবার অনেকে বিএনপির নেতৃত্বের আন্দোলনের সামর্থ্য আছে কি না, তাও জানতে চান। কেউ কেউ জোট শরিক জামায়াতকে নিয়েও প্রশ্ন করেন। আবার যারা সরকারি দলের সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা তাদের অনুকম্পাপ্রাপ্ত থিংকট্যাংক, তারা আন্দোলনের ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন  তোলেন। তারা প্রকাশ্যে বলে বেড়ান যে, বাংলাদেশে এখন আন্দোলনের কোনো ইস্যুই নেই, দেশটি উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে, বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। নদীর উপর পুল তৈরি করতে পারি না পারি অন্তত ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় বড় শহরে ডাঙ্গায় রাস্তার ওপর হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে তো অসংখ্য এক্সপ্রেসওয়ে, ওভারব্রিজ আমরা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। এসব প্রশ্নের উত্তর সহজে দিতে পারি না। যেমন পারি না যদি কেউ জিজ্ঞাসা করেন বিগত ২০১৪ সালের জানুয়ারি ও ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে আমি কোথায় ভোট দিয়েছি। আমি কেন, আপনি আমাদের মাননীয় প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’ শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, স্পীকার শিরীন শারমিন, সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ অথবা প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে প্রশ্ন করুন আপনারা কোথায় ভোট দিয়েছেন? আমার বিশ্বাস তারা কেউ বলতে পারবেন না যে, তারা আদৌ ভোট দিয়েছেন। কেন না আমার মতো তাদের নির্বাচনী এলাকাতেও ভোট হয়নি। বাংলাদেশের দশম জাতীয় সংসদে সদস্য নির্বাচনের জন্য ২০১৪ সালে এমন এক অদ্ভুত ব্যবস্থা করা হয়েছিল যাতে ১৫৪ জন সদস্য বিনা ভোটেই নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ১৪৬টি এলাকায় একটি প্রহসনমূলক নির্বাচন হয়েছে যাতে ৪০টি নির্বাচন কেন্দ্রে সারা দিনে একজন ভোটারও ভোট দিতে আসেন নি। অন্যান্য কেন্দ্রে ভোটার টার্ন আউট ছিল প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন দেখা যাচ্ছে, জনগণ তো বটেই তিনি নিজের, স্বয়ং প্রেসিডেন্ট এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরও ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। ১৪৬টি আসনে নির্বাচনের আসলে দরকার ছিল না। এতে আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়েছে মাত্র। ৩০০ আসনের ১৫১টি আসন পেলেই সরকার গঠন করা যায়। তিনি বিনা ভোটে তার থেকে বেশি আসন পেয়েছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদের নির্বাচনের বেলায় মানুষকে ভোট দিতেই দেয়া হয়নি। আর ভাতের কথা। আমি মাঝারি মানের যে চালের ভাত খেতাম তার দাম ছিল ১৫ টাকা কেজি। তা এখন ৬০/৬৫ টাকায় খেতে হচ্ছে। মাছ, গোশত, তরিতরকারি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, তেল, নুন ও অন্যান্য মসলা প্রভৃতির দাম তার ক্ষমতায় আসার আগের তুলনায় গড়ে হাজার গুণ বেড়েছে। আমি তো আল্লাহর রহমতে খাচ্ছি, কিন্তু অনেক পরিবার আছে যারা দু’বেলা খেতেও পাচ্ছেন না। ভোট এবং ভাতের অধিকার আমরা এভাবে পেয়েছি। কিছু পত্র-পত্রিকায় কিছু রিপোর্ট ছাপা হচ্ছে যাতে বলা হচ্ছে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের মাত্রা ৫০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। বাস্তব পরিসংখ্যান তা বলে না। ব্যাংক-বীমা, নৌ-পরিবহন, বিমান, রেলসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লুটপাট ও দুর্নীতি কত হাজার গুণ বেড়েছে বিরোধী দলের কোনো গবেষণা সেল থাকলে সহজে তার তথ্য পাওয়া যেত। তথাপিও যা পত্রিকায় আসছে তাতে সরকারে ডাকাত ছাড়া আর কেউ আছে বলে মনে হয় না। এটা মানুষ বলে থাকে আমার কথা নয়। যে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের নামে এত রক্ত দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে আওয়ামী লীগ পদদলিত করেছে। পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান, যাকে আমরা খুনি বলি, তিনিও কিন্তু সত্তর সালের নির্বাচনে কাউকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেন নি। সম্পূর্ণ হস্তক্ষেপমুক্ত ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন করেছিলেন। আজকে পত্রিকার পাতা উল্টালে দেখা যায় এমন দিন নেই যেদিন খুন, গুম, গুপ্তহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটছে না। জনগণের রাজস্বের টাকায় যে র‌্যাব-পুলিশের বেতন হয়, সংসার চলে সেই জনগণই তাদের নির্বিচার গুলির শিকার হন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সরকারি দলের যোগসাজশে এবং কন্ট্রাক্ট নিয়ে বহু টাকার বিনিময়ে সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের হত্যা করে। মানবাধিকার পুলিশের বুটের তলায় পিষ্ট হচ্ছে। শাসক দল ও তার অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ প্রভৃতি লীগ নামধারীদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, উন্নয়ন প্রকল্পের হরিলুট, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস নৈরাজ্য, ভর্তি বাণিজ্য ও সর্বত্র নিয়োগ বাণিজ্য, দলীয়করণ প্রভৃতি জাতীয় জীবনের প্রতিটি খাতকে শুধু বিপন্নই নয়, ধ্বংস করে দিচ্ছে। অবশিষ্ট ছিল ভোটাধিকার, একাদশ সংসদের নির্বাচনের প্রাক্কালে মানুষের এই ভোটাধিকারও হরণ করে নেয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশন, দলীয় ক্যাডার বাহিনী ও সরকারের যোগসাজশে ভোটের আগের দিন রাতে ও ভোটের দিন ভয়, ভীতি, প্রলোভন ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করে এবং দুর্নীতির মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীদের অনুকূলে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সভর্তি করে তাদের নির্বাচিত করা হয়েছে। জনগণকে ভোট দিতে দেয়া হয় নি। আমাদের নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ বংশধরদের মৌলিক অধিকার আর এখন নেই। স্বাধীন সম্মানজনক অস্তিত্ব এখন বিপন্ন। লীগ নামধারীদের সন্ত্রাস, অস্ত্রবাজি, টেন্ডারবাজিসহ অনৈতিক কর্মকা- নিয়ে স্বয়ং আওয়ামী লীগ ঘেঁষা পত্রিকাগুলো গত দশ বছর ধরে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে আসছে। বিশেষ রিপোর্ট, সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয় এমনকি বিশেষ সংখ্যা পর্যন্ত তারা প্রকাশ করেছে। কিন্তু এই সংগঠনটি ও তার নেতৃবৃন্দ শাস্তি পায় নি। এর প্রধান উপদেষ্টাসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির কারণে হুকুমের আসামী হয় নি। যেমনটি করা হচ্ছে বিএনপি, জামায়াতের ক্ষুদ্রতম বিচ্যুতির বেলায়।
আমি এতক্ষণ পর্যন্ত যে বিষয়গুলো উল্লেখ করলাম তার কোনটি অসত্য? এগুলো কি আন্দোলনের ইস্যু নয়? একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তার সাথে আমার কথা হচ্ছিল। অনেক কথার মধ্যে তার একটি কথা আমার মনে দাগ কেটেছিল। তিনি বলেছিলেন, মহাজোট সরকার বিরোধী দলের হাতে যতগুলো ইস্যু তুলে দিয়েছে তার অর্ধেকও যদি আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকতে পেতো তাহলে তারা বাংলাদেশের মাটি উল্টে দিতো। কথাটা অক্ষরে অক্ষরে সত্য। গত দু’মাসে দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের অনেকগুলো জেলা সফর করেছি। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকের সাথে আলোচনা করে মাঠের উত্তপ্ততা আমি অনুভব করেছি। মাঠ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত। দেশের মানুষ দুঃশাসন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস থেকে মুক্তি চায়। প্রশ্ন হচ্ছে বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতৃত্ব আন্দোলনের ব্যাপারে সুসংগঠিত কিনা অনেকে প্রশ্ন করেন। তবে তাদের কর্মী ও সাপোর্টার বেজ যে সংগঠিত এবং নিবেদিত প্রাণ তাতে সন্দেহ নেই। জামায়াত তার অবস্থানে দৃঢ়। তবে নানা গুজব ছড়িয়ে সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থা তাদের ব্যাপারে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একটি ব্যাপারে সাফল্যের দাবিদার। তাদের দাবি অনুযায়ী তারা তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-জামায়াতকে এমন ভাবে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন যে মাথা তুলে দাঁড়ানোর ক্ষমতা তারা হারিয়ে ফেলেছে। যুদ্ধাপরাধের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে বিচারের নামে প্রহসনের মাধ্যমে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দলটির নেতৃত্বের ওপর মারাত্মক আঘাত করা হয়েছে। পর পর সাতটি জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলটির নিবন্ধন বাতিল করে তাকে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় অফিস থেকে শুরু করে সরকারি নির্দেশে মহানগর, বিভাগ, জেলা, উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যন্ত বিদ্যমান অফিসগুলোকেও পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে। তারা কোনো সভা, সমিতি করতে পারেন না। এমনকি ঘরোয়া কোনো বৈঠকে বসলেও বানোয়াট অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। দলের মুখপাত্র একটি দৈনিকের ত্রিশ কোটি টাকা মূল্যের তিনটি বহুতল ভবন ও সম্পত্তি সরকারি দলের লোকেরা অস্ত্রের জোরে জবর-দখল করে ভোগ করছে। এর বিরুদ্ধে থানা মামলা নেয়নি। মেট্রোপটিলন পুলিশ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ আমলে নেয়নি। সিটি করর্পোরেশনের সাহায্য চেয়েও কোনো সাহায্য পাওয়া যায় নি। জেলা-উপজেলাসমূহে এই ধরনের জবরদখল প্রচুর। দলটির নেতা-কর্মীরা হামলা-মামলার নির্মম শিকার। সরকার তাদের জীবন-জীবিকা উভয়কেই দুর্বিষহ করে তুলেছে। দলের মহিলা কর্মীরাও সরকারের নির্বিচার অত্যাচার থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে তিন লক্ষেরও বেশি মামলা ঝুলছে।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকেও পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। তার চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বিনা চিকিৎসায় নির্জন কারাগারে তিনি যখন ধুঁকে ধুঁকে মরছিলেন তখন তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করে কারাসেলে রাখা হয়েছে। তার সেলের সন্নিকটেই পেট্রোল বোমা পাওয়ার খবর পত্র-পত্রিকায় বেরিয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বে দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি তারেক রহমানকে জেল জরিমানা করে এমনভাবে পঙ্গু করা হয়েছে যে তিনি দেশে এসে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে পারছেন না। তার নির্দেশনা গ্রহণ করার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ দলটির সাতাশ লক্ষ নেতাকর্মী বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামী। এ অবস্থায় তারা কোনো সভা, সমাবেশ এমনকি হোমিওপ্যাথি টাইপের মানববন্ধনও করতে পারেন না। তাদের এই অক্ষমতাকে সরকারি দল নানাভাবে ব্যঙ্গ বিদ্রƒপ করছে।
সারা দেশ প্রকৃত পক্ষে এখন একটি কারাগার। অনেকে, বিশেষ করে আওয়ামী লবির সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীরা আন্দোলন হলে তা সহিংস হবার জিগির তুলে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির কসরৎ করে যাচ্ছেন। সহিংস আন্দোলন কারোই কাম্য নয়। আবার যদি সরকারের তা কাম্য হয় তাহলে আন্দোলন অহিংস থাকতে পারে না। এটা অতীতের অভিজ্ঞতা। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে যখন সরকার বাধা দিয়েছে, পুলিশ বাহিনী ও দলীয় ক্যাডার দিয়ে দমানোর চেষ্টা করেছে তখন আন্দোলনকারীরা আত্মরক্ষার জন্য উগ্রতা প্রদর্শন করেছে। হরতাল অবরোধ গণবিরোধী। প্রশ্ন হচ্ছে, গণবান্ধব কর্মসূচি কোনটি? সভা সমাবেশ, মিটিং মিছিল গণতান্ত্রিক অধিকার। তা করতে দিবেন না। গণসংযোগ, পথসভা মানববন্ধন করতে গেলে র‌্যাব, পুলিশ ও দলীয় গুন্ডাদের দিয়ে মানুষের ঠ্যাং ভেঙে দেবেন। অবস্থান ধর্মঘট, অনশন প্রভৃতিও সহ্য করতে পারবেন না। মহাসমাবেশ করতে গেলে সরকার ও তার দল অনানুষ্ঠানিকভাবে রাজপথ, নৌপথ বন্ধ করে দেবেন। তাহলে বিক্ষুব্ধ মানুষ কি করবে? পথ বাতলে দিন।
সরকারি নির্দেশনা ও চাহিদা অনুযায়ী দুনিয়ার কোথাও অধিকার আদায়ের আন্দোলন হয়েছে বলে আমার জানা নেই, আমাদের দেশ থেকে গণতন্ত্রকে আওয়ামী লীগ যেমন উচ্ছেদ করেছে তেমনি চিরায়ত কিছু প্রথাও ধ্বংস করে দিয়েছে। পাবলিক মিটিং এর নির্দিষ্ট কোনো ভেন্যু এখন নেই। মাইকিং পাবলিসিটি নেই, গণতন্ত্র পুলিশ কমিশনারের হাতের মুঠোয় বন্দী। এই গণতন্ত্র রক্ষা, মানবাধিকারের পুনরুদ্ধার, সংবিধানের মূলনীতিতে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের পুনঃসংযোজন, গুম, গুপ্তহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধকরণ, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দলীয়করণের অবসান ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর জুলুম নির্যাতন বন্ধ, মানবতা বিরোধী অপরাধের মিথ্যা অভিযোগে বরেণ্য রাজনীতিক ও আলেমদের বিচার ও বিচারের রায় বাতিল করণ, সাগর-রুনিসহ সাংবাদিক হত্যার বিচার, সরকারের দুর্নীতিবাজদের বিচার সর্বোপরি নির্ভয়ে ভোটদানের অধিকার প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি ইস্যুগুলো বিরোধী দলের সামনে মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এগুলোকে সংহত করে দাবির আকারে সরকারের কাছে আগে থেকে পেশ করা আছে। প্রয়োজনবোধে পুনরায় তা পেশ করে সময় বেঁধে দিয়ে আন্দোলন শুরু করার এখনই উপযুক্ত সময়। আন্দোলনকে অহিংস রাখার দায়িত্ব সরকারেরও। সরকারি দল আন্দোলনের আগেই তা দমনের হুমকি দেয়া শুরু করেছে। এটা অস্বাভাবিক নয়। আওয়ামী লীগ গত ১০ বছরে অত্যাচার-নিপীড়ন, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানুষকে যে হারে বাড়ি ছাড়া করেছে তাতে ক্ষমতায় না থাকলে তাদের অবস্থা কি হতো তা নিয়ে তারা শঙ্কিত। যারা আন্দোলন করবেন তাদেরকে এ কথাগুলো অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদের পর সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। একইভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনও আন্দোলনের কথা বলেছেন। বেগম জিয়া কারাগারে। বিদ্যমান অবস্থায় আন্দোলনের যত ইস্যুই থাকুক তাকে জেলে রেখে আন্দোলন এগুবে বলে মনে হয় না। তথাপিও বলি এই বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি। অতীতে কোনও দুর্বৃত্ত এখানে টিকেনি, ভবিষ্যতেও টিকবে না। আন্দোলন হবেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ