শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পাকিস্তানের দুর্দান্ত জয়

পাকিস্তান: ৩৪৮/৮ (৫০ওভার)

ইংল্যান্ড : ৩৩৪/৯ (৫০ ওভার)

ফল      : ১৪ রানে জয়ী পাকিস্তান। 

কামরুজ্জামান হিরু: সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান শুরুটা ভাল করতে না পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের হারিয়ে জয়ের দেখা পেয়েছে। শুধু বিশ্বকাপ নয় টানা ১১ ম্যাচে পরাজেয়র পর সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন দলটি জয়ের দেখা পেল।এই ম্যাচেও নাটকীয়তা কম ছিলনা। নিশ্চিত পরাজয়ের ম্যাচে শেষ দিকে অসাধারণ বোলিং করে  দলের জয়ে ভ’মিকা রাখেন ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ আমির। ইনিংসের শেষ দিকে তাদের বোলিং নৈপূণ্যেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ১৪ রানে জয় পায় পাকিস্তান।গত ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর পাকিস্তানের এই দলটিকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল। ১০৫ রানে অলআউট হওয়াতেই তাদের সইতে হয়েছে এত সমালোচনা। কিন্তু সমালোচনায় একটি দল কতটুকুই বা বদলাতে পারে? পাকিস্তানকে না দেখলে কারও বিশ্বাস হওয়ার কথা নয়। প্রথম ম্যাচে ১০৫ এবং ঠিক দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সামনে ৩৪৯ রানের বিশাল এক লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোর গড়লো পাকিস্তান। গতকাল সোমবার ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন হাফসেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে পাকিস্তান ৮ উইকেটে করেছে ৩৪৮ রান।রোববার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোর গড়েছিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টাইগারদের করা ৩৩০ রান টপকে গেছে পাকিস্তান। মোহাম্মদ হাফিজের ৮৪, বাবর আজমের ৬৩ ও অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের ৫৫ রানে ভর দিয়ে রানের পাহাড় গড়েছে ১৯৯২ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু পায় পাকিস্তান। উদ্বোধনী জুটিতে ইমাম-উল-হক ও ফখর জামান যোগ করেন ৮২ রান। ফখরের আউটে পাকিস্তান হারায় প্রথম উইকেট। এই ওপেনার ৪০ বলে করে যান ৩৬, আর ইমামের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান।তাদের গড়ে দেওয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে বড় জুটি গড়েন বাবর ও হাফিজ। তৃতীয় উইকেটে ৮৮ রানের জুটি গড়ার পথে দুজনই পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। ফর্মের তুঙ্গে থাকা বাবর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে খেলেন ৬৩ রানের ইনিংস। মঈন আলীর বলে ক্রিস ওকসের হাতে ধরা পড়ে শেষ হওয়া ৬৬ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৪ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়।হাফিজ ছাড়িয়ে যান তাকেও। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান খেলেছেন দলীয় সর্বোচ্চ ইনিংস। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৮তম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে সেঞ্চুরির পথেও হাঁটছিলেন তিনি। যদিও পারেননি, ৮৪ রানে থামতে হয় তাকে মার্ক উডের বলে। ৬২ বলের ঝড়ো ইনিংসে হাফিজ ৮ বাউন্ডারির সঙ্গে মেরেছেন ২ ছক্কা।হাফিজের দেখানো পথে হেঁটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন সরফরাজও। পাকিস্তানি অধিনায়ক ১১তম ফিফটি পূরণ করে ৪৪ বলে ৫ বাউন্ডারি হাঁকিয়ে খেলেন ৫৫ রানের ইনিংস। আসিফ আলীর ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ১৪। তবে সুবিধা করতে পারেনি এবারের আসরে প্রথমবার মাঠে নামা শোয়েব মালিক (৮)।যদিও শেষ দিকে হাসান আলী (৫ বলে ১০*) ও শাদাব খান (৪ বলে ১০*) ঝড়ো ব্যাট করলে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে স্কোরে ৩৪৮ রান জমা করে পাকিস্তান।পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের দাপটের দিনে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সফল বোলার মঈন। এই স্পিনার ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। ক্রিস ওকসের শিকারও ৩ উইকেট, তবে ৮ ওভারে খরচ করেছেন তিনি ৭১ রান। ২ উইকেট পেয়েছেন মার্ক উড।

জয়ের জন্য ৩৪৯ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ইংলিশ ওপেনার জ্যাসন রয় ব্যক্তিগত ৮ রানে বিদায় নেন। আরেক ওপেনার জনি বেয়ারস্টো ৩১ বলে করেন ৩২ রান। তিন নম্বরে নেমে জো রুট এই বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকান। ১০৪ বলে ১০টি চার আর একটি ছক্কায় করেন ১০৭ রান। দলপতি ইয়ন মরগানের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৯ রান। মিডলঅর্ডারে নেমে বেন স্টোকস (১৩) বেশিদূর যেতে পারেননি।জো রুটের সঙ্গে জুটি বেধে ১৩০ রান তোলেন জস বাটলার। চলমান বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেন বাটলার। মাত্র ৭৬ বলে ৯টি চার আর দুটি ছক্কায় করেন ১০৩ রান। ৪৮তম ওভারে ওয়াহাব রিয়াজের পর পর দুই বলে বিদায় নেন ২০ বলে ১৯ রান করা মঈন আলি এবং ১৪ বলে ২১ রান করা ক্রিস ওকস। জোফরা আর্চার ১ রানে বিদায় নেন। আদিল রশিদ ৩, মার্ক উড ১০ রানে অপরাজিত থাকেন।অপরদিকে বোলিংয়ে ওয়াহাব রিয়াজ তিনটি, মোহাম্মদ আমির দুটি, শাদাব খান দুটি, মোহাম্মদ হাফিজ একটি আর শোয়েব মালিক একটি করে উইকেট তুলে নেন। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিন হন মোহাম্মদ হাফিজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ