মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

খুলনার শিল্পাঞ্চলে উৎসবের আমেজ 

খুলনা অফিস : মঙ্গলবার সকাল থেকেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল। এক সপ্তাহ পর আগামী ১১ জুন মঙ্গলবার থেকে চালু হবে মিলগুলো। খুলনা-যশোর অঞ্চলের নয়টি পাটকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা ১০ সপ্তাহের মজুরি ও ঈদ বোনাস বাবদ পাচ্ছেন ৪৪ কোটি টাকা। গত বৃহস্পতিবার কয়েক সপ্তাহের মজুরী দেয়া হলেও বাকীগুলো আজ সোমবার দেয়া হচ্ছে। ব্যাংকের বুথে জটের কারণে মজুরীর টাকা তুলতে কিছুটা সমস্যা হলেও খুলনার শিল্পাঞ্চলে চলছে উৎসবের আমেজ। মোটামুটি আনন্দেই দিন কাটছে তাদের। তাছাড়া শ্রমিক-কর্মচারীদের সরকারের পক্ষ থেকে বকেয়া দেয়া হলেও কর্মকর্তাদের স্থানীয়ভাবে দু’মাসের বেতন দেয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। যা আজ দেয়া হতে পারে। কর্মকর্তাদের বকেয়া রয়েছে চার মাসের বেতন। বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন বা বিজেএমসির সূত্রটি বলছে, ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে পাটকলের শ্রমিকদের জন্য বকেয়া মজুরী ও ঈদ বোনাসের জন্য দেশের ২৬ টি পাটকলে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা প্রদান করেছে সরকার। এর মধ্যে খুলনা-যশোর অঞ্চলের নয়টি পাটকলের জন্য দেয়া হয় ৪৪ কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। গত বৃহস্পতিবার থেকে মজুরী দেয়া শুরু হয় যা আজ শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অবশ্য, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরী, উৎসব বোনাস প্রদান করা হলেও মিলের কর্মকর্তাদের ৫ মাসের বেতন ও উৎসব বোনাসের বিষয়ে বিজেএমসির কোন দপ্তারাদেশ না থাকার প্রতিবাদে বুধবার থেকেই কর্মকর্তারা ছিলেন নাখোশ। ওইদিন থেকে কর্মকর্তারা মিলের প্রকল্প প্রধানদের অবরুদ্ধ করে রাখাসহ বিজেএমসির আঞ্চলিক কার্যালয়েও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সর্বশেষ বিজেএমসি থেকে বলা হয়, কর্মকর্তাদের স্থানীয়ভাবে বেতন পরিশোধের জন্য। যে কারণে সোমবার কর্মকর্তাদের চার মাসের বেতনের স্থলে দু’মাসের বেতন দেয়া হয়। এ ব্যাপারে বিজেএমসির আঞ্চলিক সমন্বয় কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শ্রমিকদের সমস্যার সমস্যার আপাতত: সমাধান হলেও কর্মকর্তারা এখনও হতাশায় রয়েছেন। তবে আজ তাদেরকে মিল থেকেই ২/১ মাসের বেতনের ব্যবস্থা করা হতে পারে। যেটি বিজেএমসির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকেও বলা হয়েছে। বিজেএমসির নির্দেশ অনুযায়ী মিলগুলো আজ কর্মকর্তাদের বেতন দেয়ার চেষ্টা করছে বলেও তিনি জানান। খুলনা বিভাগীয় শ্রম পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, সরকার তার কথা রেখেছে, শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা করেছে। এখন শ্রমিকদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। বিশেষ করে শ্রমিক নেতাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সেই সাথে মিলগুলোর প্রকল্প প্রধানদের উৎপাদনের দিকে যেমন নজর দিতে হবে তেমনি পাট ক্রয়ে দুর্নীতি কমিয়ে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি বিজেএসসিকে কেন্দ্রীয়ভাবে পাটপণ্য বিক্রির জন্যও মার্কেটিং আরও জোরদার করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কেননা এভাবে বার বার সরকারের কাছ থেকে টাকা না নিয়ে নিজেদেরকেও উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

দীর্ঘদিন ধরে মজুরী কমিশন বাস্তবায়ন ও বকেয়া মজুরির দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করে আসা শ্রমিকদের সংগঠন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের নেতা ও দেশের বর্তমানের সবচেয়ে বড় পাটকল ক্রিসেন্ট জুট মিল সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বকেয়া মজুরী ও ঈদ বোনাস দেয়া হলেও তাদের মূল দাবি মজুরি কমিশন এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। এজন্য ঈদের পর পাটকল শ্রমিক লীগ ও ঐক্য পরিষদ বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। পাট শিল্প রক্ষা যুব কমিটি খুলনা-যশোর আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক মো. নুর ইসলাম বলেন, ঈদের আগে মজুরি প্রদান করায় সরকারতে তিনি ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। তবে শ্রমিকদের মূল দাবি মজুরি কমিশন এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। এটিকেও গুরুত্বের সাথে সরকার প্রধান তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখবেন বলে তার বিশ্বাস। কেননা অতীতের সব সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকারকে তিনি শ্রমিক বান্ধব এবং শেখ হাসিনাকে শ্রমিক দরদী উল্লেখ করে বলেন, যে কোন সংকটেই দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে এসেছেন এবং সর্বশেষ তারই নির্দেশে ১৬৯ কোটি টাকা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ