সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

বাগমারায় কৃষক পরিবারে হাহাকার

গতকাল সোমবার পরিবহনে শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি শ্রমিক নেতা এইচএম আতিকুর রহমান, এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা মো: মনিরুজ্জামান, বশির আহমেদ, জিয়াউল হক, মো: মামুন প্রমুখ                   -সংগ্রাম

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা: “১মন ধান বেইচ্যা ১ কেজি গোস্ত হবে নারে বা, ঈদের দিনে কি খামু!” কথা এভাবে আক্ষেপ করে বলছিলেন উপজেলার বালানগর গ্রামের কৃষক এরশাদ আলী। গৃহস্থ পরিবার কৃষি হলো তার আদি পেশা। একই ভাবে এলাকার লোক কৃষির উপর নির্ভরশীল। প্রতি বছরের ন্যায় কৃষকরা এবারেও বুক ভর আশা নিয়ে কৃষি কাজে নামে।  ক্ষেতে ধান, আলু, পেঁয়াজ পাটসহ সবজি ফসলের উৎপাদন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ জুটছে না। এলাকায় সরেজমিনে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার উৎপাদিত প্রধান ফসল ধান। এবারে বোরো ধানচাষে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে কৃষককের উৎপান খরচ জুটছে না। ফলে কৃষকরা উৎপাদনে মুলধন হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। মহাজন ও ব্যাংক ঋণের টাকায় ফসল করে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ভিটে মাটি বিক্রি করে অনেকে নিঃশ্ব হয়ে পড়েছে। আর ইতি মধ্যে রমজান শেষে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব ঈদ-উল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে অধিকাংশ কৃষক পরিবারের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। মাঠে মাঠে সোনালী ফসল। নেই তার ন্যায্য মূল্য। ফলে ঈদে পরিবার পরিজনদের ঈদে পোশাক-পরিচ্ছদ কিনতে গিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে। কৃষককের দাবি কৃষি উৎপাদনের প্রধান উপকরণ সার, ডিজেল ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে প্রতি নিয়তই কিন্তু কৃষকদের কৃষি পণ্যের দাম বাড়ছে না। এতে প্রতি বছরের চেয়ে এবারে কৃষি ফসল উৎপাদন করে বেশী লোকশান গুণছেন। গ্রামের কৃষকদের একমাত্র অবলম্বন কৃষি। অন্য কোন উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে কৃষি কাজ ও উৎপাদন করে থাকে। এলাকার প্রধান ফসল ধান। ধান বিক্রি করে কৃষকরা প্রতি ঈদে পরিবার পরিজনদের ভরণ-পোষণ ও ঈদ আনন্দ করেন। কিন্তু এবারে তা হচ্ছে না। বর্তমানে বাজারে ৪৫০/৫০০ টাকা দামে ধান বিক্রি চলছে। শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধিতে ধান চাষে বিঘা প্রতি ২ হাজর থেকে ৩ হাজার টাকা লোকশান গুণতে হচ্ছে। উপজেলার বালানগর গ্রামের কৃষক এরশাদ আলী জানান, চার যুগ ধরে তিনি কৃষি কাজ করে আসছেন। কিন্তু এ বছরের ন্যায় এত লোকশানের মুখ কখনও তিনি দেখেননি। ঈদে পরিবার পরিজনদের পোশাক দিতে পারবেন না। এমন কি ঈদের দিনে ১ কেজি গরুর কিংবা খাশির মাংস ক্রয় করবে কি করে এমনটা নিয়ে বিব্রততে তিনি দৈনিক সংগ্রামকে তিনি জানান, “১মন ধান বেইচ্যা ১ কেজি গোস্ত হবে নারে বা, ঈদের দিনে কি খামু।” 

একই ভাবে গ্রামের কৃষক আক্কাছ আলী জানান, ১ মন ধান বিক্রি করে কিছুই কিনা সম্ভব হচ্ছে না। ৩ মন ধান বিক্রি করলে ১টি শাড়ি কিনা যাবে। বাঁকি বাজারে গিয়ে খালি হাতে ঘুরতে হচ্ছে। ধান নিয়ে ভবানীগঞ্জ হাটে আসা মোহম্মাাদপুর গ্রামের জালাল উদ্দিন জানান, তার পুরো পরিবারের পোশাক কিনার জন্য বাজারে ২ মন ধান নিয়ে আসে। এতে ন্যায্য দাম না পেয়ে পরিবার তো দুরের কথা মাত্র তার দুই ছেলের পোশাক ক্রয় করে বাড়ী ফিরেছেন খালি হাতে তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ