সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

কেশবপুরে ধানের মণ ১৫‘শ টাকা নির্ধারণের দাবিতে স্মারকলিপি

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা: প্রতিমণ ধানের মূল্য ১৫‘শ টাকা নির্ধারণ করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র ধান ক্রয়সহ ৯ দফা দাবিতে যশোরের কেশবপুরে জাতীয় কৃষক সমিতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছেন। সোমবার যশোর জাতীয় কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুবকর সিদ্দিকীর নেতৃত্বে কৃষক নেতৃবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
কৃষক নেতৃবৃন্দ জানায়, দেশের অর্থনীতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ভিত্তি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। জাতীয় আয়ের শতকরা ১৯ ভাগ আসে কৃষি থেকে। চলতি বছর ধানের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ধান কিনতে আগ্রহী নয় ব্যবসায়ীরা। অভিমান করে কৃষকরা ধানের ক্ষেত আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। এ বছর সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ১৪৯৬ মেট্রিক টন চাল ও ৪৯৯ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ ধান কিভাবে সরাসরি কৃষক ক্রয় কেন্দ্রে বিক্রি করবে তার কোন নির্দেশনা আসেনি ক্রয় কেন্দ্রে। সার, বীজ, সেচ নিড়ানি, কাটা-ঝাড়া বাবদ প্রতি মণ ধানে কৃষকের উৎপাদন খরচ হয়েছে ৯‘শ থেকে ১ হাজার টাকা। এখনই প্রতিমণ ধান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫‘শ টাকায়। সে কারণে অসহায় কৃষকদের সুরক্ষায় দাবিগুলো পেশ করা হয়।  দাবিগুলো হলো, মূল্য নির্ধারণ নীতি মেনে সরকারকে ধানের নির্ধারিত মূল্য ১৫‘শ টাকায় ক্রয় করতে হবে। চালের বদলে সরকারকে পুরোটাই ধান ক্রয় করতে হবে। ইউনিয়নে ক্রয় কেন্দ্র খুলতে হবে। মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের স্বার্থে নয় সরকারি উদ্যোগেই কৃষকদের স্বার্থে বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কৃষি পণ্যের লাভজনক মূল্য কৃষি বিভাগ থেকে নির্ধারণ করতে হবে। এরজন্য সরকারিভাবে স্থায়ী মূল্য কমিশন গঠন করতে হবে। ক্রয় কেন্দ্রগুলিতে সিন্ডিকেট ও দলীয় ক্যাডারদের অবৈধ নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে। ক্রয় কেন্দ্রে ধান বিক্রির সময় কৃষকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। প্রতিটি ফসল চাষে সার, বীজ, সেচ ও যন্ত্রপাতি বাবদ কৃষককে ভর্তুকি প্রদান করতে হবে। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে গরীব কৃষকের হ্রাস মূল্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সুযোগ দিতে হবে। ক্ষেতমজুর, দিনমজুর গরীব কৃষকদের রেসনিং এর মাধ্যমে খাদ্য দ্রব্য প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষকের জন্যে শস্য বীমা চালু  করতে হবে ও ব্যাংকের ঋণ খেলাপী কালো টাকার মালিকদের ভর্তুকি প্রত্যাহার করে কৃষকদের ধান ক্রয় করতে হবে। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মো. নিজামউদ্দীন, শওকত হোসেন, মশিয়ার রহমান, বজলুর রহমান, তাপস দাস প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ