শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

দিরাইয়ে নিখোঁজের ৯ দিন পর যুবকের লাশ উদ্ধার

দিরাই (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে নিখোঁজের ৯ দিন পর নদীতে ভাসমান অবস্থায় যুবকের লাশ পাওয়া গেছে।   সে উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের জয়কৃষ্ণ দাসের ছেলে জীবন দাস (২৮)। ২৪ মে সন্ধ্যায় বন্ধু রাজন মিয়ার সাথে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয় জীবন দাস। এ ব্যাপারে জীবন দাসের ভাই লিটন দাস গত ২৭ মে দিরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। রোববার বিকেলে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার আমরাখাইর গ্রামের পাশে বিবিয়ানা নদী থেকে জীবন দাসের লাশ উদ্ধার করে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ। জীবন দাসের পরিবার দাবী করছে কুলঞ্জ গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে রাজন মিয়া ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। রাজন  ২০১৩ সাল থেকে দিরাই থানার একটি নারী নির্যাতন মামলার পলাতক আসামী।
দিরাই থানার সাধারণ ডায়রি সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে সন্ধ্যায় কুলঞ্জ গ্রামের নুর ইসলামের পুত্র  বন্ধু রাজনের সাথে ঘুরতে যায় জীবন দাস। রাত ৮টার দিকে রাজন জীবন দাসের ছোট ভাইয়ের মোবাইলে কল দিয়ে জীবন দাস বাসায় ফিরেছে কি না জানতে চায়। তার ভাই জানায় জীবন দাস বাসায় ফিরেনি। পরদিন রাতে রাজন মিয়া তাদের বাড়ীতে এসে জীবনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মানি ব্যাগ ফেরত দিয়ে যায় । তখন রাজন জানায় জীবন তার কাছে মোবাইল ফোন ও মানি ব্যাগ রেখে পার্শ্ববর্তী আমরাখাইর গ্রামে গেছে।রোববার সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ উপজেলাধীন আমরাখাইর গ্রামের পাশে বিবিয়ানা নদীতে নিখোঁজ জীবন দাসের লাশ ভাসমান দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী থানা পুলিশকে খবর দেয়। নবীগঞ্জ ও দিরাই থানার পুলিশ  ঘটনাস্থলে পৌছে। মৃতদেহটি নবীগঞ্জ থানার সীমানায় হওয়ায় নবীগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার ও সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।। এদিকে জীবন দাসের খালু সুরিয়ারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকেতু রঞ্জস দাস জানান, জীবন দাস নিখোঁজের পরদিন আমরা বোয়ালিয়া বাজার কমিটির লোকজন রাজন মিয়াকে নিয়ে বসেছিলাম। তখন  সে জীবন দাসকে নিয়ে একসাথে বেড়াতে যাওয়া ও মোবাইল  মানিব্যাগ ফেরত দেয়ার বিষয়টি  স্বীকার করেছে । কিন্তু  থানায় সাধারন ডায়রি করার পর থেকে রাজনকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে জিডি’র তদন্তকারী কর্মকর্তা দিরাই থানার এস আই ইসমাইল আলী জানান, সাধারণ ডায়রির সূত্র ধরে খোঁজাখুঁজির পর তার লাশ পাওয়া গেছে। বিষয়টি পরিকল্পিত হত্যা হতে পারে। জীবন দাসের বন্ধু রাজন গাঁঢাকা দিয়েছে। রাজনের খালু সুরিয়ারপাড় গ্রামের ওয়াহিদ মিয়া ও আমরাখাইর গ্রামের তোফায়েল নামের দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ