শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

রাজনীতিবিদরা কে কোথায় ঈদ করবেন

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : কাল চাঁদ দেখা গেলে বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর। অন্যথায় আগামী বৃহস্পতিবারই অনুষ্ঠিত হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম বিশ্ব এই ঈদ পালন করে থাকে। অন্যদেশের ন্যায় বাংলাদেশের মুসলামনরাও পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করতে ছুটছেন আপনজনদের কাছে। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, ট্রেনসহ যানবাহনে সিড়িউল বিপর্যয়, সড়কে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা, চারদিকে চরম অস্থিরতা-আতংক সত্ত্বেও মা-বাবা, ভাই-বোন, ছেলে-মেয়েসহ আপনজনদের সাথে ঈদ করতে মানুষ ফিরছেন নিজ নিজ এলাকায়। সাধারণ মানুষের ন্যায় দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও ছুটছেন আপনজনের সাথে ঈদ করতে। জানা গেছে, দেশের প্রধান ৪টি বড় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের অধিকাংশই এবার ঢাকার বাইরে ঈদ উদযাপন করবেন। এর বড় কারণ হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বাইরে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবারো ঈদ করছেন বন্দী অবস্থায়। দুই নেত্রীর অনুপস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতারা এবার নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, মাঠের বিরোধী দল বিএনপিসহ সাবেক এমপি-মন্ত্রীরা ছুটছেন নিজ নিজ এলাকায়। অনেকে ইতিমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন। তাদের পদচারণায় বেশ জমে উঠছে ঈদ রাজনীতি। চলবে ঈদের পর আরও দু-তিন দিন। এবারও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ছবি সংবলিত বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। এমনকি মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন কেউকেউ।
বিএনপি : দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির জন্য এবারের ঈদটাও হবে অনেকটা বিষাদের। এবারের ঈদুল ফিতর যখন উদযাপিত হচ্ছে তখন দলটির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারের আবদ্ধ। কথিত দুর্নীতির মামলায় তাকে দীর্ঘ দেড় বছরেরও অধিক সময় ধরে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে একাকী জীবন কাটাতে হচ্ছে। উচ্চ আদালত খালেদা জিয়াকে জামিন দিলেও সরকারের আপিলের কারণে তার মুক্তি পেতে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের করা অন্যান্য মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সর্বশেষ ৩৪টি মামলার মধ্যে ৩০টিতে জামিন পেলেও তার মুক্তি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় তাকে পিজি পাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের ছোট্ট কক্ষেই একাকী ঈদুল ফিতর পালন করবেন খালেদা জিয়া। প্রতিবছর দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান থাকলেও গত দুইবারের ন্যায় এবারও সেটি থাকছেনা। ঈদের দিন শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার ও বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করবেন নেতাকর্মীরা। এরপর বিএনপির সিনিয়র নেতারা হাসপাতালে তাদের প্রিয় নেত্রীর সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে যাবেন।
বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ইংল্যান্ডে ঈদ উদযাপন করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। সেখানে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশে অবস্থিত নেতাকর্মীদের সাথে ঈদেও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় ঈদ করবেন। ঈদের দিন দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতে নেতৃত্ব দিবেন। এছাড়া বন্দি থাকা দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে যাবেন। ঈদের পরের দিন তিনি ঠাকুরগাঁও নিজ জেলায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে যাবেন।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মাহবুবুর রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকায় ঈদ করবেন। স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যই বেগম জিয়ার সাথে কারাগারে দেখা করতে যাবেন। পরে তাদের অনেকেই ঈদের দিন নিজনিজ নির্বাচনী এলাকায় যাবেন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে ঈদ করবেন। কেন্দ্রীয় নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আবদুস সালাম আজাদ, হাসান মামুন ঢাকায় ঈদ করবেন। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ঢাকায় ঈদ করবেন।
চট্টগ্রামে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন- ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আকবর খন্দকার, এসএম ফজলুল হক, মাহবুবুর রহমান শামীম, কাদের গনি চৌধুরী। নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীতে ঈদ করবেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন। লক্ষ্মীপুরে ঈদ করবেন প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু।
এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতা শওকত মাহমুদ কুমিল্লায়, মজিবুর রহমান সরোয়ার বরিশাল, হারুনুর রশিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ময়মনসিংহ, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন সিলেটে, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোর, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নেত্রকোনা, তাইফুল ইসলাম টিপু নাটোর, আমিরুল ইসলাম খান আলীম সিরাজগঞ্জ, মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকু ফরিদপুর, অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহার পটুয়াখালীতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ করবেন। এছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, আবদুল মতিন, জয়ন্ত কুমার কুন্ড-, এম আমিনুল ইসলাম, আবদুল আউয়াল খান, মোস্তফা খান সফরী, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রেহেনা আক্তার রানু, শহীদুল্লাহ ইমরান, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, বিল্লাল হোসেন তারেক নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। তাদের অনেকেই ইতিমধ্যে ঢাকা ছেড়েছেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুসহ অনেক নেতাই এবারও কারাবন্দীদের সঙ্গে ঈদ করছেন। বিএনপির সিনিয়র, মাঝারি ও অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতাই এবার নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন বলে জানা গেছে। যারা যেতে পারবেন না, তারা ইতিমধ্যে এলাকায় গিয়ে ঘুরে এসেছেন।
আওয়ামী লীগ : আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে অবস্থান করলে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে তিনি দলীয় নেতাকর্মীসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে এবারে একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে গত ২৮ মে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। জাপানের টোকিওতে ‘দ্য ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগ দিয়ে সফর শুরু করেন তিনি। জাপান থেকে তিনি এখন ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সম্মেলনে যোগ দিতে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি পবিত্র উমরাহ-ও পালন করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে ফিনল্যান্ড যাবেন শেখ হাসিনা। দেশটির রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে তার। সবশেষে ভারত হয়ে ১২ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরবেন তিনি। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ঈদে দেশে থাকতে পারবেন না বলে এরই মধ্যে গণভবনে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঈদে দেশে থাকতে না পারায় আগাম ঈদ শুভেচ্ছাও তিনি জানিয়েছেন সবাইকে।
প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বিদেশে সফররত থাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হবে তার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে। ঈদের দিন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হবে। আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বিদেশ সফরে আছেন। সে কারণে দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে তার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। সূত্র জানায়, ঈদের দিন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শুরুর একঘণ্টা পর ধানমন্ডিতে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শুরু হবে। এই আয়োজনে ঈদের দিন ঢাকায় অবস্থানরত দলের সিনিয়র নেতা ও দলীয় নেতাকর্মীসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হবে।
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সকালে ঢাকায় ঈদ শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার পর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে যাবেন বলে জানা গেছে। যদিও সেটি তার শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করবে বলে জানা গেছে।। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেট, আমির হোসেন আমু ঢাকায়, তোফায়েল আহমেদ ভোলায় ঈদ করবেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজেদা চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, কাজী জাফরউল্লাহ, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. আবদুর রাজ্জাক ঢাকায় ঈদ করবেন। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়ায় ঈদ উদযাপন করবেন। জানা গেছে, মোহাম্মদ নাসিম নির্বাচনী এলাকা সিরাজগঞ্জ যাবেন। নুরুল ইসলাম বিএসসি চট্টগ্রামে, আসাদুজ্জামান নূর নীলফামারীতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঢাকায়, নুরুল ইসলাম নাহিদ সিলেট, আ ক ম মোজাম্মেল হক গাজীপুর, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া চাঁদপুর, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ঢাকা, আ হ ম মুস্তফা কামাল কুমিল্লা, মির্জা আজম জামালপুর, প্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল জাব্ব¦ার ঢাকায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু কেরানীগঞ্জে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। নজরুল ইসলাম হিরু নরসিংদী, জুনায়েদ আহমেদ পলক নাটোরে ঈদ করবেন।
দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে আহমদ হোসেন নেত্রকোনা, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সিলেট, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম মাদারীপুর, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জয়পুরহাট, বিএম মোজাম্মেল ঢাকায়, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী দিনাজপুরে ঈদ করবেন। এছাড়া তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চট্টগ্রাম, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ মাদারীপুর, শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ এবং বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন নিজ জেলা মাদারীপুরে, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী নোয়াখালীতে ঈদ করবেন।
জাতীয় পার্টি : ঈদ সামনে রেখে দলের শীর্ষ নেতাদের নিজনিজ এলাকায় ঈদ করার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ঢাকায় বসে না থেকে যার যার নির্বাচনী এলাকায় ছুটে যেতে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কন্নোয়নে মনোযোগী হতে বলেছেন তিনি।  পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ খুবই অসুস্থ। বেশীর ভাগ সময় তিনি হাসপাতালেই থাকছেন। তিনি ঢাকায় ঈদ করবেন। ঈদের দিন বনানীর চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তিনি বিশিষ্টজনসহ দলের নেতাকর্মীদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের চেয়ারম্যানের সাথে ঢাকায় ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।  সিনিয়র নেতা রওশন এরশাদ ময়মনসিংহে, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু চট্টগ্রামে ঈদ করবেন। এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ঈদ করবেন নির্বাচনী এলাকায়।  অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম নিজ নির্বাচনী এলাকা নবাবগঞ্জ ও দোহারে ঈদ করবেন। এছাড়া কাজী ফিরোজ রশিদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এবং মীর আবদুস সবুর আসুদ, সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন ঢাকায় ঈদ করবেন। নিজ নিজ এলাকার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, নুরুল ইসলাম উমর, ইয়াহিয়া চৌধুরী, এমএ নোমান, পীর ফজলুর রহমান, শওকত চৌধুরী, মশিউর রহমান রাঙ্গা, একেএম মাইদুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, নূর ই হাসনা চৌধুরী লিলি, নাসরিন জাহান রতœা, মাহজাবিন মোর্শেদ, মুজিবুল হক চুন্নু, সেলিম ওসমান, সেলিম উদ্দিন, আমির হোসেন, নুরুল ইসলাম মিলন, মোহাম্মদ ইলিয়াস প্রমুখ।
অন্যান্য দল : খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা ইসহাক পাবনায় তার নিজ গ্রাম মধুপুর মহিলা মাদরাসা ঈদগাহে, মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের হবিগঞ্জে ঈদ করবেন। এছাড়া সিনিয়র নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাসউদ খান সিলেট শাহী ঈদগাহে, নায়েবে আমীর মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী মৌলভীবাজারে, মাওলানা মুহাম্মদ ইউছুফ যশোরের মনিরামপুরে ঈদের নামায আদায় করবেন। ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যন মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী ঢাকায় ঈদ করবেন। বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও মহাসচিব মেজর অব. আবদুল মাম্নান ঢাকায় ঈদ করবেন। ঈদের পরের দিন মান্নান নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীতে যাবেন। এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ চট্টগ্রামের তার নির্বাচনী এলাকা চন্দনাইশে যাবেন। জাসদ সভাপতি আ স ম আবদুর রব লক্ষীপুরে, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকায় ঈদ করবেন। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, মহাসচিব রেজা কিবরিয়া ঢাকায় ঈদ করবেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই, মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম নিজ গ্রাম বরিশালের ঐতিহাসিক চরমোনাই মাদরাসা ময়দানে ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন এবং জামাতের পর এলাকার গণ্যমান্য, দলীয় নেতা-কর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ঢাকা মুগদা পাড়ায় নামায আদায় করবেন। মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ খুলনার রূপসা কেপিএম কেন্দ্রীয় ইদগাহে জামাতে ইমামতি করবেন এবং বিকেলে কেন্দ্রীয় অফিসে সকলের সাথে মতবিনিময় করবেন। ঢাকা মহানগর সভাপতি অধ্যাপক হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজার জামে মসজিমে ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ঢাকায় ঈদ শেষে তার নির্বাচনী এলাকা পিরোজপুরের যাবেন। কল্যাণ পার্টির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ ইবরাহীম, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জমান ফরহাদ, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজা, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার ছাইদুল হাসান ইকবাল, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, বিজেপি‘র সালাহউদ্দিন মতিন প্রকাশ, ডিএল‘র সাইফুদ্দিন মনি ও সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ ঢাকায় ঈদ করবেন। খেলাফত আন্দোলন প্রধান ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা শাহ্ আহমাদুল্লাহ আশরাফ ঈদুল ফিতর নামায আদায় করবেন রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীর চরে জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়ায়। খেলাফত আন্দোলন মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ খান রাজধানী পুরান ঢাকার আমলীগোলা ঈদগাহ্ মাঠে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতের ইমামতি করবেন। প্রচার সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীর চরে রহমতিয়া জামে মসজিদে প্রধান জামাতের ইমামতি করবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ