শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

এবার সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঈদ হবে -রিজভী

গতকাল সোমবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : এবারের ঈদ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাদায়ক হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। গতকাল সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এবার ইতিহাসের ‘সবচাইতে স্বস্তিদায়ক’ ঈদযাত্রা হবে বলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যকে ‘ইতিহাসের সেরা তামাশা’ আখ্যায়িত করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে স্বস্তিদায়ক নয়, সবচাইতে বেদনাদায়ক এবারের ঈদ। কারণ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবৈধ ক্ষমতার জোরে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দ নেই, ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কোটি কোটি কৃষকের ঘরে ঈদের আনন্দ নেই, এমপিওভুক্ত স্কুল-মাদরাসার অনেক শিক্ষকরা এখনো বেতন-বোনাস পাননি, তাদের মনেও ঈদ আনন্দ নেই। মানুষের পকেটে টাকা না থাকায় মার্কেটগুলো প্রায় ফাঁকা, বেচাকেনা নেই। তাদের মনেও ঈদ আনন্দ নেই। দেশে কোটি কোটি যুবক বেকার। বিরোধীদলের ৫০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, অনেক কারাগারে, অনেক ঘরছাড়া। তাদের ঘরেও ঈদ আনন্দ নেই।
গত শুক্রবার গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পরিদর্শনের পর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিক বলেন, ‘এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক হবে। আশা করি রাস্তায় তেমন কোনো অসুবিধা হবে না, সড়কে কোথাও যানজট নেই, যানজটের আশঙ্কাও নেই। এবারের ঈদ আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হবে।
কাদেরের ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, স্বস্তির ঈদ নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য চরম মিথ্যাচার, নির্যাতিত মানুষের প্রতি ইতিহাসের সেরা তামাশা।
বিভিন্ন মামলায় গত তিন বছরে গ্রেফতার জঙ্গিদের অর্ধেকের বেশি জামিন নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে যে তথ্য র‌্যাব মহাপরিচালক দিয়েছেন, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির রিজভী। তিনি বলেন, র‌্যাব মহাপরিচালকের বক্তব্য শুনে সারা জাতি বিস্মিত ও স্তম্ভিত। জঙ্গিরা জামিন পাচ্ছে কিভাবে? গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, বরেণ্য আইনজীবী কেউ নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান না। তাহলে ভয়ঙ্কর জঙ্গিরা জামিন পাচ্ছে কীভাবে?
জঙ্গি দমনের নামে সরকার যা করছে তা ‘নাটক’ কিনা- সে বিষয়ে জনমনে ‘সংশয়’ রয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, র‌্যাব মহাপরিচালকের বক্তব্যে সেই সংশয় গভীর থেকে গভীরতর হল। আসলে জঙ্গি দমনের নামে কোনো খেলাধুলা চলছে কিনা সেই প্রশ্নও মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। কোনো সহানুভূতি লাভের আশায় জঙ্গি দমনের নামে রূপকথার সিন্দাবাদের দৈত্যের কাহিনী রচনা করা হচ্ছে কিনা সেই প্রশ্নটিও আরও দীর্ঘতর হলো র‌্যাব মহাপরিচালকের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে।
সত্য প্রকাশের' কারণেই লেখক একে খন্দকারকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সত্য ও ইতিহাস এখন বাকশালী হুকুমের কাছে বন্দি। আওয়ামী ম্যানুফ্যাকচার্ড ইতিহাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে সেই লেখক কিংবা ইতিহাসবিদকে ক্ষমা চাইতে হবে। বই প্রকাশের ৫ বছর পর মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার এবং বর্ষিয়ান সাবেক মন্ত্রীকে যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে সেটি জনগণের কাছে খুবই পরিস্কার।
সাড়ে চার বছরের নীরবতা ভেঙে শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসে নিজের লেখা বইয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেছেন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু ‘জয় পাকিস্তান’ বলেননি। আমি তাই আমার বইয়ের ৩২ নম্বর পৃষ্ঠার উল্লিখিত বিশেষ অংশ সম্বলিত পুরো অনুচ্ছেদটুকু প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং একই সাথে আমি জাতির কাছে ও বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার কাছে ক্ষমা চাইছি। এরপর তার লেখা ‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বইটি রোববার বাজার থেকে তুলে নেয়ার কথা জানায় প্রথমা প্রকাশন।
রিজভী বলেন, কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ আপনারা নাম শুনেছেন, একজন বিখ্যাত কবি। তিনি বলেছিলেন, ইতিহাসের আনন্দিত উচ্চারণ কবিতা। জবরদস্তিমূলকভাবে ইতিহাস রচনা করলে তা আস্তাকুঁড়েই নিক্ষিপ্ত হয়। সত্য উচ্চারণের ইতিহাস জানতে জনগণকে সম্পৃক্ত করা অসম্ভব। দুর্নীতি, গুম, গুপ্তহত্যা, চাপ ও হুমকির বাতাবরণের মধ্যেও ইতিহাসে সত্য প্রকাশ অবধারিত।
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজমুল হক নান্নু, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ দপ্তর সম্পাদক তাই্ফুল ইসলাম টিপু, ছাত্রদলের আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ