শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

জীবনবাজি রেখে আপন ঠিকানায় ছুটছে মানুষ

বাড়ি যেতেই হবে উপায় নেই তাই ট্রেনের ছাদে চড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঈদ যাত্রা। গতকাল সোমবার বিমানবন্দর স্টেশন হতে তোলা ছবি -সংগ্রাম

এইচ এম আকতার : জীবনবাজি রেখে আপন ঠিকানায় ছুটছে মানুষ। ট্রেনের বাস কিংবা লঞ্চের ছাদে উঠে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটে চলছে ঘরমোখী মানুষ। কোন বাঁধাই ঈদ যাত্রাকে দমিয়ে রাখতে পারছে না। বৃষ্টির বাগড়াতেও থেমে নেই রাজধানীবাসীর ঈদযাত্রা। তবে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় আজ আব্যাহত রয়েছে। অনেকে টিকেট কেটে নির্দিষ্ট ট্রেন না পেয়ে ছাদে উঠেছে বাড়ি ফিরছেন। তবে সড়ক পথে যানজট না থাকলেও চাপ বাড়ছে।
সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। পরিবার পরিজন নিয়ে বৃষ্টি উপেক্ষা কওে আপন ঠিকানায় চলছে মানুষ। যে যেভাবে পারছে সেভাবেই গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করছে। কোন বাধাই যেনো ধমাতে পারছে না। ঈদ বলে কথা। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসে ট্রেনে অথবা লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে রওয়ানা হচ্ছে গন্তব্যে।
মুষলধারে বৃষ্টিতে মহাসড়কে অনেক স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ওই সকল স্থানে যানবাহন ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। বৃহস্পতিবার থেকে পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নাড়ীর টানে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। তবে তা মহাসড়কের কোথাও যানজটের সৃষ্টি করেনি। এ ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করায় স্বস্তিতেই ঘরে ফিরছেন যাত্রীরা।
ঈদযাত্রার অন্যান্য দিনের মতো আজও সকাল থেকেই রেল, সড়ক ও নৌপথে বাড়ি যেতে রওনা হয়েছেন ঘরমুখো মানুষ। তবে সকালে বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। কিন্তু ঘরে ফেরার আনন্দে এ বৃষ্টি যেন কিছুই নয়।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সূত্র জানিয়েছে, নৌরুটগুলোতে ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন আজ। তবে সকালে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে খুব একটা মানুষের চাপ দেখা যায়নি।
এদিকে বৃষ্টি থাকার কারণে অনেক লঞ্চ টার্মিনাল ত্যাগ করতে পারেনি। সকালে চাঁদপুরগামী লঞ্চ ছাড়া কোনো লঞ্চ সদরঘাট টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যেতে পারেনি। যাত্রী না পেয়ে অনেক লঞ্চ ছেড়ে যায়নি।
লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছে, সকালে বৃষ্টি হওয়ার কারণে অনেকেই ঘাটে পৌঁছাতে পারেননি। ওই যাত্রীদের জন্যও তারা অপেক্ষা করছেন। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত যাত্রী থাকার পরও অতিরিক্ত যাত্রীর আশায় লঞ্চগুলো ছেড়ে যাচ্ছে না।
কমলাপুর রেলস্টেশনেও সেহরির পর থেকেই নির্ধারিত ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে যাত্রীদের। অন্যান্য দিনের মতো গতকাল সকালে স্টেশনে তিনটি ট্রেন বিলম্বে ছেড়েছে। ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় পর ছেড়ে গেছে।
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ৬টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও দেড় ঘণ্টা পর সেটি ছেড়ে গেছে। নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ১২টায় ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাব্য সময় জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী, সায়দাবাদসহ বিভিন্ন টার্মিনালে সকাল থেকেই উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই তারা নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন।
বিভিন্ন পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল যাত্রীদের চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে ৪ জুন থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার কারণে গতকাল সোমবার থেকে ভিড় আরও বাড়বে।
শিডিউল বিপর্যয়ের ধারাবাহিকতায় গতকাল পাঁচঘণ্টা বিলম্বে যাত্রা শুরু করেছে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস। ঈদের আগে এই অবস্থার আর উন্নতি হচ্ছে না। অর্থ্যাৎ ট্রেনটিকে আর নির্ধারিত শিডিউলে ফেরানো যাবে না। এমনটাই জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে প্লাটফর্মে নীল সাগরের যাত্রীদের দীর্ঘ সারি এবং ভোগান্তির চিত্র চোখে পড়ে। ঈদযাত্রার সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে কমলাপুর বাসটার্মিনাল ও সদরঘাট নৌ ঘাটে। এ অবস্থায় চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের অপেক্ষায় প্লাটফর্মে বসে রয়েছেন শত শত যাত্রী।
এছাড়া ঈদযাত্রার বিভিন্ন গন্তব্যের অন্যান্য ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ের সামান্য কিছু বিলম্বে ছেড়ে যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছেন, যাত্রী সংখ্যা বেশি এবং বিভিন্ন স্টেশনে বিরতি দেয়ায় বেশি সময় লাগছে।
যে কারণে ট্রেন ঢাকা ফিরতে এবং ঢাকা ছেড়ে যেতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে ঈদ যাত্রায় ১১৫ মিনিট থেকে আধঘণ্টা দেরিকে বিলম্ব হিসেবে ধরে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, রাজশাহীগামী ধূমকেতু ট্রেনটি ৩৩ মিনিট দেরিতে কমলাপুর থেকে রাজশাহীর দিকে যাত্রা করে। এছাড়া নীলসাগর এখনো ঢাকা আসেনি। ট্রেনটি দুপুর একটার দিকে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাব্য সময় বলা হচ্ছে। প্রায় চার ঘণ্টা দেরিতে যাত্রা শুরু করেছে দ্রুতযান। আর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ২ ঘণ্টা দেরিতে।
ঢাকা থেকে লালমনিরহাটগামী লালমনি এক্সপ্রেসটি ৩ ঘণ্টা দেরিতে যাত্রা শুরু করে। রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেসটি এক ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়বে।
এদিকে ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ ঠেকাতে গতকালের মতো আজও তৎপর রয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তারপরও দেখা গেছে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে বহু যাত্রী ছাদে চেপেছেন।
এদিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে ঈদের ঘরমুখো যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার সকাল থেকে অনেক গাড়ি পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছে।
ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার ঘরমুখো মানুষ। তবে ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, পর্যাপ্ত ফেরি থাকায় যানবাহন পারাপারে কোন সমস্যা হচ্ছে না, রানিং অবস্থায় পারাপার হচ্ছে।
আর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ঘাটে যাত্রীদের যাতে কোন ধরনের নিরাপত্তার বিঘ্নিত না হয় সেজন্য বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘাটে অপেক্ষামান যাত্রীরা বলছে, ঘাটে এসে তারা ঘন্টা কয়েক অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এতে সময় মত গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার আশঙ্ক। বিআইডব্লিউটিসি, আরিচা সেক্টরের এজিএম জিল্লুর রহমান জানান, ঈদে ঘর মুখো যাত্রীদের নির্বিঘ্নে পারাপারের জন্য ২০টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোন সমস্যা হবে।
মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীন বলছেন, ঘাটে এসে যাত্রীরা যাতে কোন ধরনের হয়রানীর শিকার না হন, সেজন্য গাড়িগুলোর সিরিয়াল মেনটেন করা হচ্ছে। এছাড়া মলম পাটি, চাঁদাবাজসহ অপরাদীরা যাতে কোন অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারী আছে।
ঈদযাত্রায় সড়ক পথে যানজট না থাকায় রাজধানী থেকে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। সোমবার সকালে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চলসহ চট্টগ্রাম মহাসড়কে একই অবস্থা দেখা গেছে। এবার ঈদের ছুটিতে সড়কপথে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্নে করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সড়কপথে অন্যান্য বছরের মতো যানজট নেই।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক যানজটমুক্ত থাকায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ। রাজধানী ঢাকার সাথে সড়ক পথে উত্তরবঙ্গের ২৩ জেলার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এই মহাসড়কটি। মির্জাপুর বাইপাস আন্ডার পাস ব্রিজ, ধেরুয়ায় রেলওয়ে ওভার ব্রিজ, কালিয়াকৈরের লতিফপুরে রেলওয়ের রেলওয়ের ওভার ব্রিজ, দেওহাটা আন্ডার পাস ব্রিজ, টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা আন্ডার পাস ব্রিজ, চন্দ্রায় ওভার ব্রিজ ও কোনাবাড়ি ওভার ব্রিজ খুলে দেওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতু একসেস জাতীয় মহাসড়কে নেই যানজট। এবারের ঈদে যানজট মুক্ত, নিরাপদে এবং কম সময়ে বাড়ি ফিরতে পারায় তাদের স্বস্তির কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা।
যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর রোজা ও কোরবানীর ঈদ এলেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয। ঈদের আগে ও পরে ৫-৬ দিন এই যানজট স্থায়ী থাকে। কিন্ত এ বছর হয়েছে পুরোটাই উল্টো। চন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পুর্বপ্রান্ত পর্যন্ত চার লেনের কাজ মোটামুটি সমাপ্তির পথে। যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং চারলেন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী সংস্থা ওভার ব্রিজ ও ছোট বড় মিলে ৩৬ ব্রিজের দুপাশ খুলে দেওয়ায় দ্রুত গতিতে চলছে দুদিক থেকে যানবাহন। এছাড়া চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত বসানো হয়েছে মোবাইল কোর্ট ও স্টাইকিং ফোর্স। বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছেন, জেলা ও থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, এপিবিএন সদস্য, ট্রাফিক পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। টাঙ্গাইল জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সদস্যবৃন্দ এবং পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও পুলিশের সঙ্গে কাজ করছেন যানমুক্ত রাখার জন্য বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
রোববার রাতে বৃষ্টি ও সোমবার সকালে চান্দনা চৌরাস্তার কাছে ময়মনসিংহগামী সড়কে একটি ট্রাক বিকল কয়ে যাওয়ায় ঢাকা -ময়মনসিংহ সড়কে কিছু সময়ের জন্য যানজট সৃষ্টি হয়। তবে বিকেলে ট্রাকটি সরানো হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এবার কাঁচপুর, মেঘনা, গোমতী এবং কোনাবাড়ী উড়াল সড়ক খুলে দেওয়ায় পাল্টে গেছে পরিস্থিতি। এখন অনেকটাই নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছে মানুষ। মহাসড়কে আগের মতো আর যানজট নেই। সম্প্রতি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতুর উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে কোনাবাড়ী উড়াল সড়কটিও উদ্বোধন করেন। এরপর এগুলো যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। গত মার্চে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড, সোনারগাঁর কাঁচপুর এবং মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকা ছিল যানজটপ্রবণ। প্রতি বছর ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের জন্য এই তিনটি স্থান ছিল আতঙ্কের নাম। শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও গোমতীতে তিনটি নতুন সেতু নির্মাণের পর দুই ঘণ্টায় নেমেছে ঢাকা-কুমিল্লার দূরত্ব। চট্টগ্রাম যেতে লাগছে ৫ ঘণ্টা।
ঈদের ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেন ঘরে ফেরা মানুষ। তবে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ এবার নির্বিঘ্নে পারাপার হচ্ছে শিমুলিয়া ঘাট দিয়ে। নেই কোনো যানজট, নেই ফেরি সংকট। বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাট ম্যানেজার (বাণিজ্য) আব্দুল আলীম জানান, অন্যান্য বারের চাইতে এবার অনেকটাই ফাঁকা শিমুলিয়া প্রান্তর। আমাদের মোট ১৮টা ফেরি যানবাহন ও যাত্রী পারাপারের জন্য চলমান রয়েছে।
ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ রয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে বড় ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই ফেরি ও লঞ্চে পার হতে পারছেন যাত্রীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ