মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নিন্দাবাদের মধ্যে থেমে থাকলে চলবে না

অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর ও এই নগরীকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে। সম্মেলনের শুরুতে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ মুসলিম দেশগুলোকে সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে একত্রে যুদ্ধ করার আহ্বান জানান। সম্মেলনে আরব আমিরাতের পানিসীমায় সৌদি আরবের চারটি জাহাজে নাশকতার ঘটনা এবং সৌদির তেলস্টেশনে ড্রোন হামলার কথা তুলে ধরা হয়। এছাড়া সংখ্যালঘু মুসলমান জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা চালানোর ঘটনায় মিয়ানমার সরকারের নিন্দা জানিয়েছে ওআইসি।
রয়টার্স ও এএফপি পরিবেশিত খবরে বলা হয়, ১ জুন মক্কায় ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট ওআইসির ১৪তম ইসলামিক সম্মেলনের আয়োজন করে সৌদি আরব। সম্মেলন উদ্বোধন করেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। সংখ্যালঘু মুসলমান জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা চালানোর ঘটনায় মিয়ানমার সরকারের প্রতি নিন্দা জানিয়ে ওআইসি দেশটিতে দ্রুত রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়েছে। সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মিয়ানমারের উচিত তার অধিবাসীদের সুরক্ষা দেয়া। কিন্তু  দেশটি করছে উল্টো কাজ। রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর হত্যা ও নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বেঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এ সহায়তা চান।
অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা জানিয়েছে ওআইসি। উল্লেখ্য যে, গত ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতিতে গোলান মালভূমি ইসরাইলের ভূখণ্ড এমন ঘোষণাপত্রে সই করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় ইসরাইল ওই জায়গাটি সিরিয়ার কাছ থেকে দখল কনে নিয়েছিল। জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী এই জমি সিরিয়ার। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এবার ওআইসি সম্মেলনে যেসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো হয়েছে, তা ছিল মুসলিম বিশ্বের প্রাণের দাবি। এটুকু না করলে তো ওআইসির কোনো গুরুত্বই থাকে না। এখন দেখার বিষয় হলো, নিন্দার ওই পথ ধরে ওআইসি কতদূর যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ