সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সমাধান কোন পথে?

ধান নিয়ে কৃষকেরা সমস্যায় আছে। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য এবং ধানের মূল্য বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সরকার ১০ থেকে ১৫ লাখ টন চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রপ্তানিতে উৎসাহ দিতে ব্যবসায়ীদের দেয়া ২০ শতাংশ প্রণোদনাও বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। কিন্তু সরকারের এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খাদ্য নীতি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (ইফপ্রি) বলছে, বাংলাদেশ এখনো চাল রপ্তানির অবস্থায় পৌঁছায়নি। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের দিকেই এগোতে হবে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসরকার যে পদ্ধতিতে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে, তা অনুসরণ করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য যে, গত ২০ মে ইফপ্রির পক্ষ থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে দেশের ধান-চালের দাম, কৃষি ব্যবস্থাপনা ও চালের আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, ধানের দামের ওঠানামায় গরিব ক্রেতা ও কৃষক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ ওই দুই শ্রেণীর মানুষকে সুরক্ষা দেয়া। আমন ধান ওঠার পর গত ডিসেম্বরে প্রতিমণ ধানের দাম কমে ৫৮০ টাকায় পৌঁছায়। চলতি মে মাসে তা ৪৯৯ টাকা হয়। সংস্থাটির আশংকা, বোরো ধান পুরোপুরি কাটা হয়ে গেলে ধানের দাম আরও কমতে পারে। প্রসঙ্গত ইফপ্রি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. আখতার আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে ধান-চালের উৎপাদন এখনো স্থিতিশীল জায়গায় পৌঁছায়নি। কোনো বছর উৎপাদন বেশি হয়, আবার কোনো বছর কমে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রেতারা এ ধরনের অস্থিতিশীল উৎপাদনের দেশ থেকে চাল কিনেত চাইবে না। এছাড়া দেশে রপ্তানিযোগ্য কী পরিমাণ চাল আছে, তার কোনো বস্তুনিষ্ঠ তথ্যপ্রমাণ নেই। উৎপাদিত চালের বাজারও খুব সীমিত। আর চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে ভারত। ফলে বাংলাদেশ চাইলেও চাল রপ্তানি করা কঠিন হবে।
চাল রপ্তানির বিষয়টি সহজ মনে হচ্ছে না। এর আগে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত চাল আমদানি করা হয়েছে। ফলে দেশে ধান-চালের দাম কমে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক। এখন কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের করণীয় কী? কৃষকের কাছ থেকে সরকারের সরাসরি ধান সংগ্রহ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প আছে কী?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ