শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিভিন্ন পরিবহনে চাঁদাবাজি

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিভিন্ন পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগে চাঁদাবাজ চক্রের ১৩ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। শুক্রবার সকাল দশটা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার শিমরাইল ও সাইনবোর্ড এলাকায় মহাসড়কে চাঁদাবাজির সময় তাদের আটক করা হয়। র‌্যাব এসময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা জব্দ করে। বিকেলে সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানায়।
আটককৃতরা হলেন- রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকার শরীফ, আহসান উদ্দিন জুয়েল, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার রিপন সিকদার, জলিল মিয়া, সাকিল ইসলাম ভূঁইয়া, ছিদ্দিক, মাহমুদুন নবী অপু, সিদ্ধিরগঞ্জের মাসুদ, ফারুক হোসেন, সোহেল, রূপগঞ্জের তারাবো এলাকার শরিফুল ইসলাম, রাজধানীর ডেমরা শনির আখড়া এলাকার মাসুদ ওরফে হাবিব এবং মিরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার সোহরাব হোসেন সরদার।
প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো আলেপ উদ্দিন জানান, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ সব ধরণের অপরাধ দমনে রমজান মাসের শুরু থেকেই র‌্যাব তৎপর রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাবের গোয়েন্দা দল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস, ট্রাক, ট্যাংক লরি ও কাভার্ড ভ্যান সহ বিভিন্ন পরিবহনে চাঁদাবাজ চক্রের তথ্য সংগ্রহ করে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব শুক্রবার অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজ চক্রের এই ১৩ জনকে চাঁদা অদায়ের সময় হাতেনাতে আটক করে।
র‌্যাব আরো জানায়, আটকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পরিবহন চাঁদাবাজ চক্রের নেপথ্যে যারা নিয়ন্ত্রন করছে তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছে। এই চক্রের নেপথ্যের গডফাদাররা যতোই প্রভাবশালী হোক তাদের কাউকেই র‌্যাব ছাড় দেবে না।
ঈদ সামগ্রী বিতরণ
নারায়নগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেছেন ঈদ আমাদের সার্বজনীন উৎসব। ধনী গরীবের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আমরা যাতে সবাই একসাথে ঈদ উদযাপন করতে পারি সেজন্য সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি শুক্রবার দুপুরে নগরীর চাষঅঢ়ায় নারায়নগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের আয়োজনে ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সালাম, প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ। পরে ৩ শ’ ছিন্নমুল মানুষের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ফুটপাতে ঈদের আমেজ
হাতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। পরিবার-পরিজনদের জন্য নতুন পোশাক কিনতে বিপণী-বিতানগুলোতে ভীড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। শেষ মুহূর্তের কেনাবেচায় ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা।
এদিকে শুধু বিপনী বিতান গুলোতে নয় ঈদের ছোঁয়া লেগেছে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। ক্রেতা-বিক্রেতাদের দরদামে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্তও চলছে জমজমাট বেচাকেনা। বড় বড় অভিজাত বিপণী বিতানের সঙ্গে পাল¬া দিয়ে জমে উঠেছে ফুটপাতে ভাসমান ঈদ-বাজার। এই বাজারের বেশিরভাগ বিক্রেতাই ভাসমান, ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছেন মওসুমি আয়ের উদ্দেশ্যে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু সড়ক, নবাব সলিমুল্লাহ্ রোড, কালির বাজার শায়েস্তাখান রোড, ২নং রেলগেট,ডিআইটিসহ হরের অলিতে গলিতে ভাসমান ঈদের বাজার গড়ে তোলা হয়েছে।
এই ঈদ বাজারগুলোর বেশিরভাগই ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে। ফুটপাতে অস্থায়ীভাবে টেবিল বসিয়ে পণ্যের পসার নিয়ে বসা এই শহরের পুরোনো চিত্র। তার সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে তিন চাকার ভ্যানগাড়ি। ফুটপাতের পাশে ভ্যান গাড়িতেও ঈদের বাজারের কেনাকাটা চলছে পুরোদমে।
কি নেই এখানে। পোশাক, জুতা থেকে শুরু করে প্রসাধনী সামগ্রী, দৈনন্দিন গৃহস্থালী প্রয়োজনীয় তৈজসপত্রসহ আরো কত কি! চাষাঢ়া বঙ্গবন্ধু সড়কে ভ্যান গাড়িতে প্যান্টের দোকান সাজিয়ে বেচাকেনা করছে আব্দুল্লাহ ও তার ভাই মামুন। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ আগে শহরে কুমিল্লা থেকে এসেছেন দুই ভাই। পরীক্ষা শেষ হাতে তেমন কাজ না থাকায় উপবৃত্তির টাকা নিয়ে দুই ভাই চলে আসেন নারায়ণগঞ্জে। পরে রোজায় এক পরিচিতের বাড়িতে থেকে ফুটপাতে ব্যবসায় শুরু করে ।
মামুন জানায়, সবাইকে নিয়ে যাতে ঈদটা ভালোভাবে কাটানো যায় এটাই প্রত্যাশা। তারা জানায়, সবকিছু দিয়ে প্রতিদিন ৫‘শ টাকার মত আয় হয়। ফুটপাতের দোকানগুলোতে লাগাম ছাড়া ভীড়। ছোট থেকে বড় সকলেই এখন কেনাকাটায় ব্যস্ত। এদিকে সাধারণ মানুষের ভীড় আর ফুটপাত দোকানীদের কবলে ফুটপাতের রাস্তা প্রায় নিশ্চিহ্ন। তাই বাধ্য হয়ে অনেকে রাস্তা দিয়েই নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন পুলিশ কর্মকর্তা এহসানুল্লাহ্। এহসানুল্লাহ্ জানান, শুধু ঈদেই না, সব সময়েই ফুটপাত থেকে কেনাকাটা করেন তিনি। কেননা বড় বড় বিপণী বিতানে যা পাওয়া যায়, ফুটপাতের দোকানেও তা সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়। তাছাড়া ঈদে জুতা পোশাক ছাড়াও অনেক কিছু থাকে যা ফুটপাত থেকেই কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যে বোধ করি।
কেনাকাটা করতে আসা এক গৃহিনী জানান, ঈদের কেনাকাটাটা অবশ্যই মার্কেট থেকে করি। তবে এমন অনেক কেনাকাটা থাকে যা ফুটপাত থেকে কেনাটাই শ্রেয় মনে করি। তাছাড়া আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য ফুটপাতই একমাত্র ভরসা।
ফুটপাতের বিক্রেতারা জানান, এলাকাভেদে ফুটপাতের একটি দোকানের ভাড়া প্রতিদিন ৩‘শ টাকা থেকে ৮‘শ টাকা দিতে হয়। তবে কে বা কারা এ টাকা নেয় সে বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ