শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

বিএনপির ৫ সংসদ সদস্যের লোভ ছিল বেশি -গয়েশ্বর

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল আয়োজিত শহীদ জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, তাঁর দলের ৫ সাংসদের শপথ নেয়ার পেছনে সরকারের যতটা না চাপ ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল তাঁদের (পাঁচজনের) লোভ। দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল সংসদে যাব না। কিন্তু সংসদে গেলাম। এখানেই তো বুঝতে হবে, আমাদের প্রতিশ্রুতির অভাব আছে। আমরা অবাধ্যকে বাধ্য করতে পারি না। কারণ, ওই পাঁচজনের দলের প্রতি, রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকার নেই। এই পাঁচজন অবাধ্যকে যদি আমরা বাধ্য করতে পারতাম, তাহলে আজকে আমাদের দুঃখ থাকত না।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন-খাইরুল কবির খোকন ও প্রধান বক্তা হিসেবে বিএনপির তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন ইসলাম খান, তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন রহমান, কাজী মনির ও সাইফুল ইসলাম মনি প্রমুখ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, এই বিষয়গুলো আপনাদের বুঝতে হবে। এখন এই পাঁচজন যদি দল ছেড়ে চলে যেতেন! তাঁরা যেতেনই। সেই কারণে আপনাকে প্রেক্ষাপটটা বুঝতে হবে। এঁদের লোভ আছে, এঁদের ওপর চাপ আছে। তবে চাপের চেয়ে লোভ বেশি। এঁরা একটা দিনের জন্য বলেছেন যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্ত না হলে সংসদে যাব না? এই পাঁচজনের কেউ বলেছেন? এক দিন? কেউ বলছেন? বলেন নাই। তাহলে তাঁদের সংসদে যাওয়াটা জরুরি। বেগম জিয়ার মুক্তিটা কিন্তু জরুরি না।
বিএনপিতে উপদেষ্টার সংখ্যা বেশি, তবে কর্মী সংখ্যা অনেক কম বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, বর্তমান দুরাবস্থা শুধু বিএনপিরই দুরাবস্থা নয়, দেশ ও জনগণেরও দুরাবস্থা। এই দুরাবস্থার বিরুদ্ধে জনগণ জেগে উঠবে। জনগণের সেই জেগে ওঠায় বিএনপি থাকতে পারবে কিনা সেটা ভিন্ন বিষয়। জনগণ যদি বুঝতে পারে বিএনপি তাদের সঙ্গে আছে, তাহলে জনগণও বিএনপির সঙ্গে থাকবে। তা নাহলে থাকবে না। তাই আমাদের মানসিক ও আদর্শিক প্রস্তুতি নিতে হবে। তাছাড়া শুধু বক্তৃতায় রক্ত দিয়ে লাভ হবে না। আগে রেড ক্রিসেন্টে গিয়ে রক্ত দেওয়ার চর্চা করেন। তারপর রাজপথে রক্ত দিয়েন।
খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতারা আন্দোলন-সংগ্রাম ঘোষণা করছেন না-এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আজকে এখানে অনেকের উপদেশমূলক বক্তব্য শুনলাম, ভালো লাগলো। কিন্তু যারা উপদেশ দেন, তারা নিজের বেলায় তা কতটুকু বাস্তবায়ন করেন সেটাও ভেবে দেখা উচিৎ। ইসলামে একটা কথা আছে, যিনি নিজে আমল করেন না, তার অন্যকে হেদায়াতের কথা বলা উচিৎ নয়।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আপনারা একটি রুমের মধ্যে আজকের আলোচনা সভা আয়োজন করলেন। এই আলোচনা সভা বদ্ধ কক্ষের মধ্যে না করে রাস্তায় করতেন, আমাকেও ডাকতেন, খুশি হতাম। কক্ষের ভেতরে স্ববিরোধী কথা বলে হাততালি পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবতা অনেক ভিন্ন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সমন্ধে আমাদের কিছু বলার অধিকার নেই। জিয়াউর রহমানকে ভালোমতো চিনলে আমাদের অপরিচিত মনে হবে। ভোগবাদীতা যখন বেশি হয়, তখন ভোগান্তিও বেশি হয়। আর এই ভোগবাদীতা যখন রাজনীতিবিদদের মধ্যে দেখা যায়, তখন এর মূল্য জনগণকে দিতে হয়। বিএনপিতে যে খারাপ লোক নেই তা নয়। কিন্তু খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িতদের আমরা কেনো দূর করতে পারিনা।
কথায় কথায় মামলা দেয়া সরকারের রোগ বা বাতিক- এমন মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, সরকারের মামলার কারণে আমাদের দলে ফাঁকিবাজ নেতা তৈরি হয়েছে। বিএনপির এই নেতা বলেন, আইন আছে আইনের প্রয়োগ নাই। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন হতো বিবেকতাড়িত হতো খালেদা জিয়াকে ১৪ মাস না ১৪ দিনেও জেলে রাখতে পারতো না। আমি ধরে নিলাম উনার সাজা হয়েছে। এরকম সাজাপ্রাপ্ত লোকের সংখ্যা বাংলাদেশে শত শত হাজার হাজার। তারা জামিনে মুক্ত, কিন্তু খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না কেনো?
গয়েশ্বর আরো বলেন, ভোগবাদিতা চরম হওয়ায় দুর্ভোগও চরম। ভোগবিলাসিতার জন্য জাতি দুর্ভোগ করছে। ফুলবাগানে যদি ঘাস ও ফুল সমান থাকে। তাহলে ফুলের সুবাস পাওয়া যায় না। এখন যে সংকট তো গোটা জাতির সংকট। জনগণ তাদের সংকট নিরসনে মাঠে নামবে। জনগণের পাশে থাকার চিন্তাটা দলের থাকা উচিৎ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ