মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গা হত্যাকারী সেনাদের সাজা মওকুফের ব্যাখ্যা দিলো মিয়ানমার

৩১ মে, রয়টার্স : মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, শীর্ষ জেনারেলের কাছে পরিবারের সদস্য ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের করা আবেদনের ভিত্তিতে রোহিঙ্গা হত্যায় জড়িত ৭ সেনার সাজার মেয়াদ কমিয়ে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মিয়ানমারে দশ রোহিঙ্গা পুরুষসহ এক বালককে হত্যার অভিযোগে যে সাত সেনা সদস্যকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল দণ্ডভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই জেল থেকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তীব্র সমালোচনার মুখে সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় গ্রাম ইন দিনে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীরা ১০ রোহিঙ্গাকে গুলি করে হত্যা করে। তাদের রাখা হয় গণকবরে। সংবাদমাধ্যমে এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে জানায়, ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে সেনাবাহিনী। সেই তদন্তের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত ৭ সেনাকে একই বছর এপ্রিলে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক খবর থেকে জানা গেছে, মাত্র ৮ মাস সাজা ভোগের পর সাজাপ্রাপ্ত সাত সেনা সদস্যকে গত বছরের নভেম্বরেই জেল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা হত্যাকারী সেনাদের সাজা মওকুফের খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সমালোচনার মুখে বলেছেন, সাজাপ্রাপ্তদের পরিবার আর বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পক্ষ থেকে তাদের সাজার মেয়াদ কমিয়ে আনার ব্যাপারে শীর্ষ জেনারেল মিন আং হ্ল্যাং-এর কাছে আবেদন করেছিলেন। সেইসব আবেদনের ভিত্তিতেই তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

রেডিও ফ্রি এশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে  ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুন বলেছেন, শীর্ষ জেনারেলের অফিসে কিছু মানুষ বহু চিঠি লিখেছেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পক্ষ থেকে লেখা বেশকিছু চিঠিতে বলা হয়েছিল, বন্দি থাকার কারণে সৈনিকদের পরিবার দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রায় বছরখানেক কারাভোগের পর সামরিক চাকরি বিধির আওতায় শীর্ষ জেনারেল তাদের মুক্তি দেন’। ওই সেনা মুখপাত্র জানান, মুক্তি পেলেও সাজাপ্রাপ্তরা আর কখনও সেনাবাহিনীতে কাজ করার সুযোগ পাবে না।

গত সোমবার মিয়ানমারের কারা দফতরের একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, ইন দিন গ্রামের হত্যাকাণ্ডের জন্য সাজাপ্রাপ্তদের কেউ আর তাদের কারাগারে নেই। দন্ডপ্রাপ্ত সৈনিকদের একজন রয়টার্সের কাছে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও এ নিয়ে বাড়তি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানায়। তার ভাষ্য,  "আমাদের চুপ থাকতে বলা হয়েছে।" যে দুই সাংবাদিক এই হত্যাকা-ের ঘটনা ফাঁস করেছিলেন তাদের সাজা হয়েছিল সাত বছরের। ১৬ মাস কারাভোগের পর আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ওয়া লোন এবং কিয়া সো ও নামের ওই দুই সাংবাদিককে সম্প্রতি প্রেসিডেন্টের সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ