শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সিএনজি’র জুলুম ও বাড়াবাড়ি

প্রচন্ড গরম, অসহনীয় প্রাত্যহিক যানজট এবং নিত্যপণ্যের অত্যধিক মূল্যের চাপে অনেক কষ্টে পবিত্র রমযানের ২৩/২৪ দিন পর্যন্ত পাড়ি দেয়ার পর মানুষ যখন ঈদুল ফিতরের ছুটি কাটাতে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন এবং অনেকে যখন ঢাকা ছেড়ে যাওয়া শুরুও করেছেন ঠিক তখনই যন্ত্রণার নতুন কারণ সৃষ্টি করেছে সিএনজি চালিত অটো রিকশার চালক ও মালিকেরা।

সিএনজি নামে বেশি পরিচিত এসব অটো রিকশায় ভাড়ার বিষয়টি অতীতের কোনো পর্যায়েই সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। সময়ে সময়ে মিটার, এমনকি ‘ডিজিটাল’ মিটার লাগানোর পরও চালকরা কখনো মিটারে নির্ধারিত ভাড়ায় যেতে চায়নি। আসলে যায়ওনি। সব সময় গেছে তাদের দাবি ও ইচ্ছানুযায়ী ভাড়ায়। ফলে প্রায় ক্ষেত্রেই যাত্রীদের মিটারের চাইতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে। জুলুম হলেও সেটাই মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন যাত্রীরা। কারণ, প্রতিবাদ জানিয়ে কেউ কোনো প্রতিকার পেয়েছেন এমন খবর জানা যায়নি। এ ব্যাপারে সরকার অর্থাৎ ট্রাফিক ও পুলিশের ভূমিকা সব সময় থেকেছে ঘুষমুখী। যাত্রী তথা সাধারণ মানুষের কোনো উপকারেই আসেনি ট্রাফিক ও পুলিশ সদস্যরা। 

এবারের রমযান মাসেও একই অবস্থার অসহায় শিকার হয়েছেন যাত্রীরা। ঈদের প্রাক্কালে এসে সিএনজি চালকদের জুলুম ও বাড়াবাড়ি সহ্যের সকল সীমা পার হয়ে গেছে। গতকাল দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, একাধিক পন্থায় জুলুম চালাচ্ছে সিএনজি চালকরা। প্রথমত, সরকারের পক্ষ থেকে তিন উইন্ডো বিশিষ্ট মিটার লাগানোর নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ সিএনজি এখনো দুই উইন্ডো বিশিষ্ট পুরনো মিটার দিয়েই চলাচল করছে। একই কারণে ভাড়ার ব্যাপারেও চালকদের ইচ্ছাই পূরণ করতে হচ্ছে। দ্বিগুণ-তিনগুণ তো বটেই, প্রায় সব ক্ষেত্রে এমনকি তার চাইতেও অনেক বেশি টাকা আদায় করছে চালকরা। ঈদের ছুটিতে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবার সদস্যদের নিয়ে বাড়ি যেহেতু যেতেই হবে সেহেতু কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে হলেও সিএনজিতে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। পরিস্থিতির তথা সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ও বিপদের সুযোগ নিয়ে চালকরা শুধু বেশি ভাড়াই আদায় করছে না, মিটার টেম্পারিং করেও ভাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে নিচ্ছে। 

অন্যদিকে পুলিশ ও ট্রাফিককে যথারীতি কোনো উপকারে আসতে দেখা যাচ্ছে না। সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়িত্ব যে সংস্থাটির সেই বিআরটিএ’র কর্তাব্যক্তিরাও সুকৌশলে এত বড় একটি বিষয়কে দিব্যি পাশ কাটিয়ে চলেছেন। বিআরটিএ’র সদর দফতর থেকে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে অবশ্য তিন উইন্ডো বিশিষ্ট মিটার লাগানোর আদেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আদেশ অনুযায়ী মিটার লাগানো হচ্ছে কি না এবং সিএনজির চালক ও মালিকরা ওই মিটারের হিসাবে ভাড়া নিচ্ছে কি নাÑ এসব বিষয়ে কোনো খোঁজ-খবরই করা হচ্ছে না। বিআরটিএ’র এই উদাসিনতারও পরিপূর্ণ সুযোগ নিচ্ছে চালকরা। জিজ্ঞাসার জবাবে যাত্রীদের সঙ্গে তারা বচসায় লিপ্ত হচ্ছে। ওদিকে পুলিশ ও ট্রাফিক সদস্যরা এক কথায় জানিয়ে দিচ্ছে, তাদের কাছে মিটারের জালিয়াতি ধরার মতো আধুনিক প্রযুক্তির কোনো যন্ত্র বা মেশিন নেই। বলা বাহুল্য, এমন অবস্থারও সুযোগকে চালকরাই নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাচ্ছে।

এভাবে সবদিক থেকেই সিএনজি চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এখনই ব্যবস্থা না নেয়া হলে ঈদপূর্ব বাকি ক’দিনে একদিকে যাত্রী তথা ঘরমুখো মানুষের ওপর জুলুম অনেক বেড়ে যাবে, অন্যদিকে মানুষের পকেট থেকে লাখ লাখ বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেবে চালকরা। বলা হচ্ছে, এই টাকার ভাগ শুধু মালিকদের পকেটে যাবে না, যাবে পুলিশ ও ট্রাফিক সদস্যদের পকেটেও। 

আমরা সিএনজি চালকদের এই নৈরাজ্য বন্ধ করার দাবি জানাই এবং মনে করি, বিআরটিএ’র মাধ্যমে সরকারের উচিত সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য অনতিবিলম্বে তৎপর হয়ে ওঠা। এমন আয়োজন অবশ্যই নিশ্চিত করা দরকার, চালকরা যাতে মিটার অনুযায়ী ভাড়া নিতে এবং যাত্রীদের কথামতো যে কোনো গন্তব্যে যেতে বাধ্য হয়। চালক ও মালিকরা কেন সরকারের আদেশ অমান্য করে এখনো তিন উইন্ডো বিশিষ্ট মিটার লাগায়নি সে বিষয়েও বিআরটিএকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই, ঈদের ছুটি উপলক্ষে মানুষের ভ্রমণ স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠুক এবং মানুষকে যেন আর কোনো জুলুমের শিকার না হতে হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ