বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

জামালপুরে কুড়িয়ে পাওয়া রাজকুমারির মূল্য ২০ লাখ টাকা

জামালপুর সংবাদদাতাঃ দীর্ঘ ৫০ দিন আইনি লড়াই করার পর কুড়িয়ে পাওয়া রাজকুমারির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। জামালপুরের পারিবারিক সহকারী  জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ফারহানা আক্তার রাজকুমারির নামে ২০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে ব্যাংক রশিদ জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। এই শর্তে মেনে নেওয়ায় বকশীগঞ্জের সুমন দম্পতিকে ৪৫ দিনের জন্য অস্থায়ী অভিভাবক মনোনীত করেছে আদালত। জানা যায়, চলতি বছরের ২৯ মার্চ বকশীগঞ্জ পৌর শহরের শ্মশান ঘাটে কে বা কারা ২দিন বয়সী নবজাতক এ কন্যা শিশুকে রেখে পালিয়ে যায়। কান্নাকাটির শব্দ শুনে প্রতিবেশী আছর আলীর স্ত্রী সন্ধি বেগম শিশুটিকে নিজ বাড়িতে নিয়ে প্রাথমিক পরিচর্চা করেন। খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে কুড়িয়ে পাওয়া ফুটফুটে নবজাতক শিশুটির নাম রাখা হয় রাজকুমারি। সর্বশেষ রাজকুমারীরকে পেতে জামালপুরের পারিবারিক আদালতে পৃথক ২টি মামলা দায়ের হয়। একটি মামলা দায়ের করেন বকশীগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা ব্যাংকার সামিউল হকের স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন রিপা। অপর মামলা দায়ের করেন বকশীগঞ্জ পৌর শহরের কামারপট্রি মোড়ের ভ্যান চালক সুন মিয়া। উভয় বাদী রাজকুমারির অভিভাবকত্ব নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করেন। মামলায় ব্যাংকার সামিউল হকের স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমমিন রিপার পক্ষে সাক্ষ্য দেন বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়। সুমন মিয়ার পক্ষে স্বাক্ষ দেন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জুমান, পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর ও মহিলা কাউন্সিলর রহিমা। দীর্ঘ ৫০ দিন আইন লড়ায়ের পর ২০ মে জামালপুরের পারিবারিক আদালতের বিজ্ঞ সহকারী জজ ফারহানা আক্তার রাকুমারির মামলার রায় দেন। রায়ে সিটি ব্যাংকে রাজকুমারির নামে ২০ লাখ টাকা জমা ফিক্সড ডিপোজিসহ ৩টি বিশেষ শর্তে সুমন দম্পতিকে অভিভাবক মনোনীত করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ