শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিগত ১০ বছর সংস্কার না হওয়ায় বেহাল খুলনার শেখ আবু নাসের হাসপাতাল-বাইপাস লিংক রোড

খুলনা অফিস : দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে খুলনা মহানগরীর শেখ আবু নাসের হাসপাতাল বাইপাস লিংক রোডটি বেহাল অবস্থা ধারণ করেছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে দুই পাড় ভেঙে পড়েছে, ভাঙন কবলিত ওই স্থানের ঠিক মাঝখানে পিঠ দেবে খালে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির সময় ওই খাল দিয়ে অবাধ স্রোত প্রবাহিত হয়। তিন সংস্থার রশি টানাটানির কারণে গত ১০ বছর ধরে সড়কটির কোন সংস্কার হয়নি। এ অবস্থায় সড়কটি দিয়ে জনসাধারণের চলাচলে দারুণ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জানা গেছে, নগরীর গোয়ালখালীর বাস্তুহারা থেকে সিটি পাইপাস পর্যন্ত ২ কিলোমিটার ৩৭ মিটার সড়কের আশপাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বিশেষায়িত শেখ আবু নাসের হাসপাতাল, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর সেক্টর সদর দপ্তর, নৌ-বাহিনী ঘাঁটি (বানৌজা তিতুমীর), বিএনএন স্কুল এন্ড কলেজ, এ্যাংকরেজ স্কুল, নৌ-বাহিনী ভর্তি কেন্দ্র, নাবিক কলোনী, পুলিশ লাইন, মুজগুন্নী শিশু পার্ক, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রায়েলমহল (অনার্স) কলেজ, নগরস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নগরীর বাইরে সহজ যাতায়াতের জন্য একমাত্র মাধ্যম শেখ আবু নাসের হাসপাতাল বাইপাস লিংক রোড। এছাড়া খালিশপুর, দৌলতপুরসহ নগরীর পশ্চিম পাশের সকল মানুষ নগরীতে প্রবেশ না করেই ওই সড়ক ব্যবহার করে শহরের বাইরে যেতে পারে। কিন্তু সড়কটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি দীর্ঘদিন। বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন উঠে গিয়ে ছিটকে পড়ছে অন্যত্র। আবার কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি স্থানে সড়কের পিঠ দেবে গিয়ে খালের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় ওই খালে গাড়ি গিয়ে আটকা পড়ে। প্রায় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। কেডিএ সূত্র জানায়, ২০০৩-২০০৪ অর্থ বছরে ওই সড়কটি নির্মাণের কাজ শুরু করে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এরপর কেডিএ’র ৪৯২তম সভায় বোর্ড মেম্বরদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০১০ সালের ২৮ মার্চ সড়কটি খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরকে বুঝে নেয়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু তাতে কোন সাড়া দেয়নি ওই দুই প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ওই সংস্থাকে ফের চিঠি দেয় কেডিএ। তাতেও কোন সুরাহা মেলেনি। এ অবস্থায় গত ১০ বছর ধরে সড়কটির কোন সংস্কার হয়নি। এ ব্যাপারে তিনটি সংস্থাই রয়েছে উদাসীন।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মওসুমে সড়ক দিয়ে যেতে গেলে খালে গিয়ে আটকা পড়ে গাড়ি। অনেক সময় ক্রেন দিয়ে ওইসব দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি তোলা লাগে। কোনো ভাবেই যানবাহন বা পথচারী নিরাপদ চলাচল করতে পরে না। ছোট-বড় দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ফলে জনসাধারণের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহাবুদ্দিন জানান, গত দুই বছর আগে বৃষ্টি মওসুমে একদম গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কয়েকটি স্থানে সড়কের মাঝখানে দেবে যাওয়ায় সড়কে আসা গাড়ি দুর্ঘটনায় কবলে পড়তে হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দুই দফায় অন্তত ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে চলাচলের উপযোগী করে। কিন্তু কেডিএ, কেসিসি ও এলজিইডি কোন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসেনি। কেডিএ’র কর্মকর্তারা বলেন, কাজ শেষ হওয়ার পর খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তররের কাছে সড়ক দু’টি বুঝে দেয়া হয়েছে। এখন তারা ওই সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ করবে। কেডিএ’র রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার আর নেই। কিন্তু কোন তারা সড়ক দু’টির নিজেদের অংশ সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বৈষয়িক কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, কেডিএ সড়ক বুঝে নেয়ার জন্য চিঠি দেয়। কিন্তু ওই চিঠিতে সড়কের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ উল্লেখ নেই। আর অবৈধ স্থাপনা সম্পর্কেও কিছু বলা হয়নি। ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। তাই এভাবে সড়কটি বুঝে নেয়া হয়নি। এলজিইডি অধিদপ্তরও এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ