শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চৌগাছায় তিনশ’ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ লাভবান হওয়ায় বাড়ছে চাষীর সংখ্যা

চৌগাছায় একটি পেয়ারা বাগান

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছা উপজেলায় প্রায় তিন'শ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ করেছে কৃষকরা। চাষে সফলতা পেয়ে অনেকে স্বাবলম্বীও হয়েছে।  প্রতিনিয়ত বাড়ছে পেয়ারা চাষের জমির পরিমান। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায় আজ থেকে প্রায় দশ বছর পূর্বে চৌগাছা উপজেলায় পেয়ারা চাষ শুরু হয়। তবে গত ৩/৪ বছর থেকে শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক ভাবে পেয়ারা চাষ। উপজেলার জগদীশপুর, পাতিবিলা, হাকিমপুর, স্বরুপদাহ, সুকপুকুরিয়া ও নারায়ণপুর ইউনিয়নের মাঠ জুড়ে রেয়েছে কয়েকশ’ পেয়ারা বাগান। চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিস ও তথ্য সংরক্ষণকারী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান বাজারে পেয়ারার দাম ভাল পাওয়ার কারণে এই  অঞ্চলের  কৃষকেরা পেয়ারা চাষে ঝুঁকে  পড়েছে। তাছাড়া পেয়ারায় আপেলের থেকে পুষ্টিমান বেশি থাকার কারণে ক্রেতারা আপেল না খেয়ে পেয়ারা খেতে অভ্যস্ত হচ্ছে। যার ফলে প্রায় সারা বছরই বাজারে পেয়ারার চাহিদা ভাল থাকে। কথা হয় স্বরুপদাহ গ্রামের পেয়ারা চাষী প্রভাষক শেখ সাদীর সাথে তিনি বলেন, প্রথমে শখ করেই  পেয়ারা চাষ শুররু করি কিন্তু  এখন বাণিজ্যিক ভাবেই  চাষ করছি। বর্তমানে আমার এক একর জমিতে পেয়ারা চাষ রয়েছে। তিনি আরো জানান এ সময় বাজারে অন্যান্য ফল থাকার কারনে পেয়ারার দাম কম থাকে তারপরও আজ আমি ৪৬ টাকা কেজি দরে পেয়ারা বিক্রয় করলাম। উপজেলার বাদেখানপুর গ্রামের মাহমুদুল হাসান বলেন এখন পর্যন্ত পেয়ারা চাষ লাভজনক অবস্থায় আছে। স্বরুপদাহ গ্রামের পেয়ারা চাষী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন বলেন পেয়ারা চাষ লাভজনক হলেও বর্তমানে ভাইরাস জনিত কারণে গাছ মরে যাওয়ার ফলে অনেক কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই গ্রামের পেয়ারাচাষী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন ভাইরাসজনিত কারণে গাছ মরে যাওয়া পেয়ারা চাষের সবচেয়ে খারাপ দিক। মাঠ চাকলা গ্রামের পেয়ারা চাষী ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান, শিক্ষক আব্দুল হান্নান তার ভাই আব্দুল মান্নান জানান তাদের চার ভাইয়ের ১৮ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ রয়েছে। তারা বলেন পেয়ারা চাষ এখন পর্যন্ত লাভজনক। বাদেখানপুর গ্রামের পেয়ারা চাষী আফসার উদ্দিন, হাবিবুর রহমান,জরিপ উদ্দিন, শরিফ উদ্দিন ও আলমগীর হোসেন জানান তাদের সবারই ৩/৪ বিঘা করে পেয়ারা বাগান রয়েছে। মাঝে মাঝে গাছ মরে যাওয়া ছাড়া কোন সমস্যা নেই। তারা বলেন এক বিঘা (৩৩ শতক ) জমিতে পেয়ারা ভাল হলে  বছরে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা লাভ হয়।  তবে উপজেলার সকল পেয়ারা চাষীদের আশংকা যেভাবে পেয়ারা চাষ বাড়ছে তাতে অদূরভবিষ্যতে সরকার যদী বিদেশে পেয়ারা রপ্তানীর ব্যবস্থা করতে না পারে তাহলে পেয়ারা চাষীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চাষীরা অতি দ্রুত বিভিন্ন দেশে পেয়ারার বাজার খুঁজে বের করার দাবী জানান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দীন বলেন, চৌগাছা অঞ্চলের মাটি পেয়ারা চাষের উপযোগী। এছাড়া পেয়ারা চাষে তেমন কোন বিষ প্রয়োগ করতে হয়না। যে কারনে বিদেশী ফল পরিহার করে দেশি ফল বেশি বেশি ক্রয় করার পরামর্শ দেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ