শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনায় গরম পানিতে শিশু হত্যার একমাস পর আদালতে মামলা

খুলনা অফিস : খুলনার রূপসা বাগমারা এলাকার বাসিন্দা খালেকের শিশু কন্যাকে গরম পানিতে ঝলসে হত্যা ঘটনায় একমাস পর আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের পিতা আব্দুল খালেক বাদী হয়ে ৫ মে বিজ্ঞ মহানগর হাকিমের আমলী আদালত (দৌলতপুর) খুলনায় ১৩ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং সিআর ২৫২/১৯, তারিখ ০৫/০৫/১৯। ধারা ৩০২/৩৪ দ. বি.। মামলার আসামিরা হচ্ছেন-আব্দুল গনি গাজী, ছগির গাজী, সোহেল গাজী, ছবুর গাজী, তানিয়া খাতুন, রাজু, নাঈম, সহিদ ওরফে রাকিব, রিপা ওরফে রূম্পা, নজরুল তালুকদার, জোবেয়ারা বেগম, মো. বাবুল হাওলাদার ও মাহবুব হাওলাদার। সংশ্লিষ্ট বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বিষয়টি খুলনা পিবিআইকে তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন, রূপসার বাগমারা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক রুটি-রুজির প্রয়োজনে স্ত্রী সন্তান নিয়ে চট্টগ্রামে বসবাস করতে থাকেন। এ অবস্থায় ২০১৮ সালের ২০ নবেম্বর তার শিশু কন্যা লিমা খাতুন ওরফে ইত্তিফাকে নিজেদের কাছে রাখার কথা বলে খালেকের স্ত্রীর প্রথম পক্ষের কন্যা রিপা ওরফে রূম্পা ও তার স্বামী সহিদ খুলনার দৌলতপুরে নিয়ে আসেন। সেখানে আনার পর তাকে তাদের খালু আব্দুল গণির বাড়িতে রেখে দেন। খালেকের স্ত্রীকে তার কাছ থেকে আলাদা করে পিতার কাছে ফিরিয়ে নেয়ার উদ্দেশে রিপা পরিকল্পিতভাবে গত ২৮ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় লিমার শরীরে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দেয়। এতে সমস্ত শরীর ঝলসে লিমা যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক দিয়ে তার চিকিৎসা করানো হয়। ক্রমেই লিমার অবস্থার অবনতি হতে থাকলে ভিকটিমের নাম ঠিকানা বদল করে ৩০ মার্চ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ৫ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
এদিকে শিশু লিমার মৃত্যুর পর ৬ এপ্রিল মামলা ও ঝামেলা এড়াতে আব্দুল গণি ও সহিদসহ তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ৬ জন খালেককে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে দৌলতপুর থানায় নিয়ে সাদা কাগজে সাক্ষর করায়। এর আগে তাদের কথামত কাজ না করলে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়াসহ জীবননাশের হুমকি দেয় বলে বাদী মামলায় উল্লেখ করেছেন।
মামলার বাদী মো. খালেক হাওলাদার বলেন, ঘটনার দিন আমাকে কয়েকজন মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যায়। তারা বলেন, ‘তুই যদি থানায় উল্টোপাল্টা বলিস, তাহলে তোকে ইয়াবা দিয়ে চালান দিয়ে দিবো। এই কারণে ভয়ে ওই দিন থানায় মামলা করতে পারেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন, বিচারক শাহিদুল ইসলাম মামলাটি গ্রহণ করে খুলনার পিবিআইকে তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ