শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

হাজার বছরের সুন্দর সুস্থ ধারার সাহিত্য সংস্কৃতিকে আরো বেগবান করতে হবে -ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান

ঢাকা ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান বলেছেন, মুসলিম সাহিত্য-সংস্কৃতি ঐতিহ্যের ধারা হাজার হাজার বছর ধরে বহমান রয়েছে। অপ সংস্কৃতির ছোবলে বর্তমান সমাজ হাবুডুবু খাচ্ছে। এই সময়ে আমরা যদি আমাদের সুন্দর সুস্থ ধারার সাহিত্য-সংস্কৃতি কে বেগবান করতে পারি এবং গোটা দেশে যদি ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে অপ সংস্কৃতির বিপরীতে আমরা এই জাতিকে আলোর পথ দেখাতে পারব ইনশাআল্লাহ সুতরাং আমাদের আরো সচেতন ভাবে এবং সঠিকভাবে সাহিত্য-সংস্কৃতি ময়দানে কাজ করে যেতে হবে নিবেদিতভাবে।
গত শনিবার সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্র উদ্যোগে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, অভিনেতা, সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি মোশাররফ হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মুফতি মুহাম্মদ ইউসুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, নিরাপদ সড়ক চাই এর সভাপতি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।
ড. মুফতি মুহাম্মদ ইউসুফ তার বক্তব্যে বলেন, কোরআন নাজিলের এ মাসে কোরান চর্চা বৃদ্ধি করা দরকার। কোরানের শিক্ষা সমাজে বেশি বেশি প্রচার প্রসার করে ইসলামি তাহজিব তমুদ্দুন ও সংস্কৃতির বিকাশ সাধন এর পাশাপাশি গরিবদের আর্থিক ও সামাজিক সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন বর্তমানে এক ক্রান্তিকাল সময় অতিক্রান্ত করছে, আমাদের সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, অভিনেতা, সাংবাদিকদের সচেতন হয়ে সমাজ পরিবর্তনে অগ্রনি ভ’মিকা পালন করতে হবে।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ভালোসেন বলে খেলাফতের দায়িত্ব দিয়ে মানবসেবা করার জন্য মানুষকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাই আমাদের কে সঠিক ভাবে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিজেদের ইফতারের পাশাপাশি পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, নিকটজন, গরিব মিসকিন, দরিদ্র অসহায়দের ইফতারের বিষয়ে যতœবান ও সচেতন হওয়া বাঞ্ছনীয়।
সভাপতির বক্তব্যে কবি মোশাররফ হোসেন খান বলেন, আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির একটি উজ্জ্বল ধারা হাজার বছর ধরে প্রবাহমান আছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে অপসংস্কৃতির ছোবলে গোটা দেশ ও জাতি এক গাঢ় অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে । এই অপসংস্কৃতি থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্য আমাদের সুন্দর ও সুস্থ ধারার সাহিত্য-সংস্কৃতিকেই লালন করতে হবে । আমাদের বর্তমান ও আগামীর প্রজন্মকে অপসংস্কৃতির নাগপাশ থেকে রক্ষা করতে হবে । সেই দায়িত্বে এদেশের সকল কবি ,সাহিত্যিক, কলম সৈনিক, শিল্পী, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের। আসুন আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে সমবেতভাবে   সুন্দর ও সুস্থ ধারার সাহিত্য ,সংস্কৃতি , শিল্পের মাধ্যমে গোটা জাতিকে আলোকিত করার চেষ্টা করি ।
কেন্দ্রের সহকারি সেক্রেটারি শাহাদাত টুটুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, কবি আল মুজাহিদী, নাট্যকার এস এম মহসীন, কবি সোলায়মান আহসান, সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি কবি আসাদ বিন হাফিজ ও বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমীর চেয়ারম্যান শরীফ বায়জীদ মাহমুদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের সেক্রেটারি বিশিষ্ট শিল্পী কবি যাকিউল হক জাকী।
আরো  উপস্থিত  ছিলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক  শেখ নজরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, কাজী মাওলানা আব্দুর রহিম, বিসিএ সেক্রেটারি আবিদুর রহমান, নাট্যকার শাহ আলম নুর, কেন্দ্রের সহকারি সেক্রেটারি নাট্যকার মাহবুব মুকুল, সাংবাদিক হারুন ইবনে শাহাদত, কবি রফিক মুহাম্মদ, শিল্পী গোলাম মাওলা, শিল্পী হাসনাত আব্দুল কাদের, লিটন হাফিজ চৌধুরী, আবুল খায়ের, এমএ তাওহিদ লেখক এমদাদুল হক চৌধুরী, নাট্যকার মোস্তাগিছুর রহমানসহ লেখক, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কাজী কাজী নজরুল ইসলাম সংসদ কতৃক কবি জাহিন তাজ প্রকাশিত ও কবি ফারুক মুহাম্মদ ওমর সম্পাদিত ত্রিমাসিক পত্রিকা ”রাঙাপ্রভাত” এর মোড়ক উম্মোচন করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ