শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

জমে উঠেছে রাজধানীর ফুটপাতের ঈদবাজার

ইবরাহীম খলিল : জমে উঠেছে রাজধানীর ফুটপাতের কেনাবেচা। এই কেনাবেচা চলছে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। গতকাল রোববার সকাল থেকেই ভিড় দেখা যায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা ফুটপাতের দোকানগুলোতে। মায়ের কোলে এক বছরের শিশু থেকে ষাটোর্দ্ধ বৃদ্ধও ঘোরাফেরা করছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। পুরুষদের পাশাপাশি ঈদের কেনাকাটা করতে মহিলাদেরও স্বতঃস্ফূর্ত বাজার করতে দেখা যায়। রাস্তার পাশে সংকীর্ণ উঁচু জায়গায় কোনমতে দোকান সাজিয়ে তাতে বেচাকেনা করছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এদের অনেকে মওসুমী ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে। যাদের দোকান চলে বছরের ঈদ কিংবা পূজাকে কেন্দ্র করে। পুঁজি কম থাকায় কোথাও স্থায়ী দোকান করেন না তারা।
রাজধানীর অধ্যশতাধিক স্পটে চলছে এবার ফুটপাতে ঈদের কেনাবেচা। এসবের মধ্যে জমে উঠেছে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ হকার্স সমিতি মার্কেট, গুলিস্তান মোড়ের চারপাশের ফুটপাতে, গোলাপশাহ মাজার ফুটপাত, বঙ্গবাজার, নগর ভবনের সামনের রাস্তার ফুটপাত, নিমতলীর বাজারের সামনের ফুটপাত, শাহবাগ মোড় হয়ে নীলক্ষেত পর্যন্ত রাস্তা। ফুটপাতে ঈদ কেনাকাটা জমে উঠেছে সবচেয়ে বেশি ফার্মগেট এলাকা, মালিবাগ, মৌচাক, শান্তিনগর, মগবাজার, চার রাস্তার মোড়। রামপুরা থেকে বাড্ডা-গুলশান লিংক রোড পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের ফুটপাতেও ক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া বাসাবো, খীলক্ষেত, মুগদা, কমলাপুর রেল স্টেশনের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতে ঈদের অস্থায়ী দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা বেশ লক্ষ্য করা গেছে। ফুটপাত ছাড়াও ওভার ব্রিজের উপরেও চলছে ঈদের কেনাকাটা। অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়া যায় বলে এসব দোকানে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা ভিড় জমাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বেশিরভাগ দোকানে দেখা গেছে কাপড় আর জুতা-সেন্ডেল আইটেম।
গুলিস্তান ফুটপাতে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা রফিকুলের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, ছোট দুই মেয়ের জন্য জামা কিনতে এসেছি। দাম কেমন? উত্তরে জানান, পছন্দ হলেই দাম বেশি চায়। প্রথমে কম দাম বলে হাক ডাকে কাছে টানছে। একটা ফ্রক পছন্দ হওয়ায় তার দাম চাইলো সাড়ে তিনশ টাকা। পল্টন মোড়ে রাস্তার দুই পাশে বসা সারি সারি দোকানে ভিড় একটু বেশিই। সেখানে কাপড় আর জুতার দোকানের চেয়ে বেশি দেখা যায় আতর-টুপি, জায়নামাজ ও ধর্মীয় বই পুস্তকের দোকান। জামাকাপড় কেনার পাশাপাশি ঈদের নামাযে যাবার প্রস্তুতি সামগ্রী কিনতে এখানে মানুষের আনাগোনা বেশি দেখা যায়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ গেটে রাস্তার ধারে পাঞ্জাবির দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায় জুমার নামাযের পরপর। এখানে একশ' থেকে তিনশ' টাকা দিয়ে ভাল পাঞ্জাবী পাওয়া যাচ্ছে। এক দোকানে ৪/৫ জন বিক্রেতা গলা ফাটিয়ে পাঞ্জাবীর দাম হাঁকছে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য। বেচাবিক্রি কেমন? জিজ্ঞেস করলে দোকানের মালিক সোহরাব জানান, গত দু'দিনের চেয়ে আজ একটু ভাল। লাভ কেমন হচ্ছে প্রশ্নের উত্তরে হাসি দিয়ে জানান, একটু বসেন এখনই টের পাবেন। বলেই সে হাক ধরে ‘লইয়া যান দেড়শ' টাকা'।
কমলাপুর এলাকা ফুটপাতের দোকানে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা সিটি কর্পোরেশনের ৩য় শ্রেণীর চাকরিজীবী আলম খান জানান, শপিংমলে যাবার ক্ষমতা নাই ভাই। বেতন-বোনাসের টাকা দিয়ে পরিবারের সবার একটা করেই জামা কাপড় কেনা যাবে না। তাই ফুটপাতের দোকানে এসেছি। এখানে মাঝে মধ্যে ভাল জিনিস পাওয়া যায়। এদিকে ফুটপাতে ক্রেতাদের আনাগোনা বেশি হওয়ায় হকার্স সমবায় মার্কেটের স্থায়ী দোকানগুলোতে ক্রেতা সমাগম কম দেখা গেছে। নীলক্ষেতের আলম ক্লথ স্টোরের স্বত্বাধিকারী জানে আলম জানান, এই ঈদে আমাগো কেনাবেচা নেই বললেই চলে। তিনি কারণের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্তরাও এখন ফুটপাতের দোকানে কেনাকাটা করতে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ