শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শাহজাদপুরে যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন ॥ তীব্র হচ্ছে ভাঙ্গন

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : যমুনা নদীর ভেড়াকোলা থেকে ড্রেজার দিয়ে চলছে বালু উত্তোলন

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে চলছে অবাধে বালু উত্তোলন। বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়ায় দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে ভাঙ্গন। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে সদ্য কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত বাঁধসহ এসব এলাকার জীববৈচিত্র। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের এই মহাযজ্ঞ অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে আসছে বর্ষা মৌসুমে গ্রামের পর গ্রাম ভাঙনের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। এদিকে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্রমেই ফুঁসে উঠছে তীরবর্তী গ্রামগুলির হাজার হাজার মানুষ।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের যমুনা ও করতোয়া নদীর ১৪ টি স্থান থেকে বালু উত্তোলনের অনুমোদন রয়েছে। এসব স্থান থেকে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারাও নিয়েছেন ইজারাদাররা। কিন্তু নির্দিষ্ট স্থানের পাশাপাশি ইজারাদাররা শত শত পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করছে নিজেদের সুবিধামত জায়গা থেকে। আর এ কাজে যুক্ত বালু দস্যুরা অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা।
বর্তমানে স্থানীয় বাজারে এ বালুর বেশ চাহিদা রয়েছে। বাড়ী ভরাট, খাল ভড়াট, হাটবাজার, মসজিদ ,মাদ্রাসা, কবরস্থানের ভড়াটের নামে যমুনা নদীগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে কেউ বাঁধা দিলে নানা রকম ভয়ভীতি এমনকি পুলিশ দিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হচ্ছে। তাই খরচ বাঁচাতে ইজারাদাররা বালু তুলছে নদী তীরবর্তী বালুচর থেকে। অতি লাভের আশায় বাংলা ড্রেজার ব্যবহার করে কেটে নিচ্ছে আবাদি জমিও। এতে হুমকির মুখে পড়ছে নদী তীরবর্তী বাঁধ ও নানা স্থাপনা। সওে জমিনে ঘুরে কৈজুরী ইউনিয়নের হাট পাঁচিল, কৈজুরী, ভাটপাড়া, জগতলা, জাফরগঞ্জ, গালা ইউনিয়নের ভেড়াকোলা, বেনুটিয়া, চিথুলিয়া এলাকায় চলছে রমরমা বালুর ব্যবসা।
সাম্প্রতিক সময়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদী ভাঙ্গন ব্রাপক আকার ধারন করছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি গ্রামের অর্ধশত পরিবার নদীগর্ভে বসতভিটা হালিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে স্রোতের তোপে এ ভাঙ্গন আর ও তীব্রতর হবে।
তাই দ্রুত এই নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য বালু উত্তোলন বন্ধের দাবী করছে যমুনা তীরের অধিবাসীরা। এ ব্যাপারে গালা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন বলেন, তার ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গন খুবই তীব্রতর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখ নপর্যন্ত কোন উদ্দ্যোগ লক্ষা যাচ্ছেনা। যেন নদী ভাঙ্গন দেখার মত  কেউ নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ