মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

কুষ্টিয়ায় মায়ের কবরের পাশে চিরশায়িত শিল্পী খালিদ হোসেন

 

স্টাফ রিপোর্টার : তৃতীয় দফা জানাযা শেষে একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুলসঙ্গীত শিল্পী, গবেষক ও স্বরলিপিকার খালিদ হোসেনকে তার কুষ্টিয়ার সদর উপজেলায় মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তার দাফন কাফন সম্পন্ন হয়। বুধবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালিদ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। 

শিল্পী খালিদ হোসেনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বাংলাদেশ কারচারেল একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন।

খালিদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে হার্ট, কিডনি ও ফুসফুসের সমস্যার পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। গত ৪ মে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। খালিদ হোসেন সঙ্গীত প্রশিক্ষক ও নিরীক্ষক হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ টেক্সট বুক বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি নজরুল ইনস্টিটিউটে নজরুল সংগীতের আদি সুরভিত্তিক নজরুল স্বরলিপি প্রমাণীকরণ পরিষদের সদস্য ছিলেন। দাফনের আগে ঢাকায় তার দুটি জানাযা সম্পন্ন হয়। 

খালিদ হোসেনের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বাদ ফজর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বায়তুল আমান মিনার মসজিদে শিল্পীর প্রথম নামাযে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে খালিদ হোসেনের লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নজরুল ইন্সটিটিউটে। সেখানে তার দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। নজরুল ইন্সটিটিউটে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শিল্পীর লাশ কিছুক্ষণ রাখা হয়। তারপর বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে কুষ্টিয়ার পথে রওয়ানা দেয় শিল্পী খালিদ হোসেনের লাশবাহী গাড়ি।

খালিদ হোসেনের ছোট ভাই মাহমুদ হোসেন জানান, খালিদ হোসেনের বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি হৃদরোগে ভুগছিলেন। কিছু দিন আগে তার কিডনির জটিলতা বেড়ে যায়। ফুসফুসেও সমস্যা হচ্ছিল। পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যা ছিল।

তিনি বলেন, চিকিৎসা দেয়ার জন্য প্রতি মাসেই হাসপাতালে নেয়া হতো খালিদ হোসেনকে। তখন দুই-তিন দিন তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি থাকতেন। এবারও ৪ মে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা আর ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত এখানে তিনি মারা যান।

খালিদ হোসেনের জন্ম ১৯৩৫ সালের ৪ ডিসেম্বর। তখন তারা ছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরে। দেশ বিভাগের পর মা-বাবার সাথে তিনি চলে আসেন কুষ্টিয়ার কোর্টপাড়ায়। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি স্থায়ীভাবে ঢাকায় ছিলেন।

নজরুলসঙ্গীতের শিক্ষকতার সাথে জড়িত ছিলেন দীর্ঘ দিন। দেশে ও বিদেশে রয়েছে তার অসংখ্য ছাত্রছাত্রী। তিনি একুশে পদক পেয়েছেন ২০০০ সালে। এ ছাড়া পেয়েছেন নজরুল একাডেমি পদক, শিল্পকলা একাডেমি পদক, কলকাতা থেকে চুরুলিয়া পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা। 

খালিদ হোসেনের গাওয়া নজরুলসঙ্গীতের ছয়টি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। আরো আছে একটি আধুনিক গানের অ্যালবাম ও ইসলামী গানের ১২টি অ্যালবাম। খালিদ হোসেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ টেক্সট বুক বোর্ডে সঙ্গীত নিয়ে প্রশিক্ষক ও নিরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ