মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

৯ শতাংশ সুদে ঋণ না দিলে কোনো ব্যাংক সরকারি আমানত পাবে না 

 

স্টাফ রিপোর্টার: যেসব ব্যাংক ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে না, সেসব ব্যাংক আমানত হিসেবে সরকারি তহবিলের অর্থ পাবে না। এমনকি যারা ইতোমধ্যে ৯ শতাংশে ঋণের সুদহার নামিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে, সেসব ব্যাংকও এই সুবিধা পাবে না। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা পাঠিয়েছে। এর আগে গত ২০ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।  অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব জেহাদ উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় সরকার থেকে প্রাপ্ত তহবিল, সরকারি, আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মোট নিজস্ব তহবিলের অর্থ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ হারে আমানত রাখা যাবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, যেসব ব্যাংক ২০১৮ সালের ২ আগস্ট প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা এ সুবিধা প্রাপ্য হবে না।

জানা গেছে, সুদের হার কমিয়ে আনতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নানা সুবিধা নিয়েও ব্যাংকগুলো এতদিন তা কার্যকর করেনি। কোনো কোনো ব্যাংক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে কম সুদহারের ঘোষণা দিলেও বাস্তব চিত্র ঠিক উল্টো। অথচ সুদহার কমানোর ঘোষণা ব্যাংক মালিকরাই ঘটা করে দিয়েছিলেন। সে জন্য তারা বেশ কয়েকটি সুবিধাও সরকারের কাছ থেকে আদায় করে নেন। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা, সিআরআর এক শতাংশ কমানো, ঋণ আমানতের হার (এডিআর) সমন্বয়সীমার সময় বাড়ানো এবং রেপো রেট ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ করা।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে ব্যাংক খাত ভয়াবহ তারল্যের সংকটে ভুগছে। অথচ চাহিদা অনুযায়ী আমানত পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো। এমন পরিস্থিতিতে ঋণে সুদের হার কমানোর চাপ রয়েছে ব্যাংকগুলোর ওপর। এই চাপমুক্ত হওয়ার জন্য ব্যাংকগুলো তাকিয়ে আছে সরকারি আমানতের দিকে।

ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা বলছেন, ৬ শতাংশ সুদে আমানত পেলে এক অঙ্কে তথা ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবেন তারা।

এর আগে ২০১৮ সালের ১ আগস্ট জারি করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানও (এনবিএফআই) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) তহবিলের অর্থ নিতে পারবে। ব্যাংকবহির্ভূত এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান তাদের তহবিলের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ আমানত হিসেবে জমা রাখতে পারবে। তবে সব এনবিএফআই সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাবে না। মাত্র ১৪টি প্রতিষ্ঠানে এসব আমানত রাখা যাবে। বর্তমানে দেশে ৩৪টি এনবিএফআই রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকে রাখা মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে ৬ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ