মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বর্ষায় নাজিরপুরে জমে উঠেছে চাঁইয়ের বেচাকেনা

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠি বন্দরে জমে উঠেছে মাছ ধরার যন্ত্রের হাট

আল-আমিন হোসাইন; নাজিরপুর (পিরোজপুর) সংবাদদাতা: বর্ষায় নতুন পানি আসার সাথে সাথে খাল-বিল, নদ-নদীতে দেখা মেলে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীও প্রজাতি মাছের আনাগোনা। আর এসব মাছ ধরতে ব্যবহার হয় চাই বা দুয়ারীর অথবা খাদোইন। পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী বন্দরে জমে উঠেছে এসব মাছ ধরার যন্ত্রের হাট।
সপ্তাহে দুদিন এ বন্দরে হাজার হাজার মাছ ধরার চাই খুচড়া ও পাইকারী দরে বিক্রী হচ্ছে। জানা গেছে নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বহু পরিবার চাই ও দুয়ারি তৈরীর সংঙ্গে জড়িত। বছরের বর্ষা মৌসুমের ৬মাস তারা এ মাছ ধরার যন্ত্র তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন। তল্লা ও কালিজিরা বাঁশ দিয়ে এ যন্ত্র তৈরি করা হয়। একটি বাঁশ দিয়ে ১০ থেকে ১২টি চাই তৈরি করা হয়। তবে একজন কারিগর একদিনে ৫ থেকে ৬ টির বেশি চাই তৈরি করতে পারে না। প্রতি রবি ও বুধবার হাটে এ মাছ ধরার যন্ত্র বিক্রি হয়। বাজারে ১০০ শত চাই ৪০০০/=  টাকা থেকে ৫৫০০/= শত টাকা পর্যন্ত বিক্রী হয়ে থাকে। এ ছাড়া এক পিস চাই ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এসব যন্ত্র তৈরির জন্য একটি বাঁশ কেনেন ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। এ যন্ত্রে ছোট মাছসহ বেশির ভাগে চিংড়িমাছ আটকা পাড়ে।
চাই তৈরির কারিগর আনন্দ মিস্ত্রী জানান, তার পরিবারের সবাই মিলে বর্ষা মৌসুমের ৬ মাস চাই তৈরির কাজ করেন। বাঁশ কেনা থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ চাঁই তৈরি করতে যে কষ্ট আর খরচ হয় সে তুলনায় লাভ বেশি হয়না। তবে এ শিল্প এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। দিন দিন খাল-বিল নদীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় মাছ শিকারীর সংখ্যাও কমে গেছে। যার কারণে চাইয়ের চাহিদাও কমে গেছে। বর্তমান সব জিনিসের দাম বেশি সে তুলনায় চাইয়ের দাম ভাল পাচ্ছেন না। সরকার এ শিল্প বাঁচাতে স্বল্প সুদে ঋণ দিলে তাদের কর্যক্রম আরো গতিশীল করতে পারতেন। এ দিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তপন কুমার ব্যাপারী জানান, মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত প্রতিটি মাছের পেটেই ডিম থাকে। এই মা মাছ না ধরার জন্য জেলেদের বিভিন্ন প্রকার সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। মাছ শিকারে জেলেরা বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র বা জাল ব্যবহার করেন। এগুলো দমনে উপজেলা প্রশাসনের সহোযোগীতায় মাঝে মধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করাও হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ