রবিবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

গোবিন্দগঞ্জে লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র বিহীনভাবে চলছে অর্ধশত ইটভাটা

গাইবান্ধা: লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র বিহীন চলছে এসব ইটভাটা।

গাইবান্ধা সংবাদদাতাঃ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় প্রায় অর্ধশত ইটভাটা থাকলেও লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রবিহীন চলছে বছরের পর বছর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মোটা অংকের টাকা নিয়ে নীরব। ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করে ঘনবসতি এলাকায় ও ফসলি জমিতে স্থাপন করা হলেও রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না প্রশাসন ফলে দিন দিন এ সব ইটভাটার সংখ্যা বেড়েই চলছে। অল্প উচ্চতার ড্রামসিটের চিমনির কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই কৃষি জমিতে ইট প্রস্তুতকরণের (ইটভাটা) স্থাপন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়,সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিভিন্ন ভাটায় কয়লার পরির্বতে জ্বালানী হিসেবে কাঠের গুড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কেউ তা দেখছে না। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলায় প্রায় শতাধিক ইটভাটা রয়েছে, এর মধ্যে মাত্র ৩৩টি ভাটার লাইসেন্স রয়েছে। লাইসেন্স পাওয়া ইটভাটাগুলো বেশির ভাগই স্থাপন করা হয়েছে কৃষি জমিতে ও ঘনবসতি এলাকায়। লাইসেন্স প্রাপ্তির তিন বছর পর নবায়নের নিয়ম থাকলেও নবায়ন করেনি ৮টি ভাটার মালিক। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে যোগসাজসে নবায়ন না করে চলছে বছরের পর বছর। আর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের লাইসেন্সবিহীন চলছে ৬২টি ইটভাটা।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় প্রায় অর্ধশত ইটভাটার মধ্যে ৪/৫টি ইটভাটার লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র থাকলেও বাকীগুলি চলছে টু-পাইজে। এ দিকে কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দুষিত হয় বলে বেশি উচ্চতায় ইটের চিমনি বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৪৫ ফুট থেকে সর্বোচ্চ ১২০ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন ঝিকঝাক চিমনি স্থাপন করতে খরচ হয় ২০/২৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু ফিক্স্ড চিমনিতে খরচ হয় ৪/৫ লক্ষ টাকা। খরচ বাঁচাতেই ভাটা মালিকরা আইনের তোয়াক্কা না করে ফিক্সড চিমনিতে ইট পুড়ছে। এ দিকে ভাটা তৈরী ক্ষেত্রে আইন রয়েছে, পরিত্যক্ত অনাবাদি জমি, নিচু জলাশয়ের ধারে, নদীর পাশে এবং কমপক্ষে চার দিকে ১ কি. মিটার জন শূন্য এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের অনুমোদন দেয়ার কথা। কিন্তু গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় যে সব ইটভাটার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে তার বেশির ভাগই ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে ঘনবসতি এলাকায় ও কৃষি জমিতে শুধু তাই না এসব ভাটায় ইট তৈরীর জন্য কৃষি জমির উর্বর মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ