মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

জীবন এক সময় কবর খোঁজে

মানুষের আয়ু এক সময় শেষ হয়ে যায়। ধনী-গরিব, জালেম-মজলুম, শাসক-প্রজা সবাইকেই এক সময় দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হয়। মৃত্যু মানবজীবনে এক চরম সত্য। বিষয়টি এখন বেশ ভলভাবেই উপলব্ধি করছেন এক সময়ের প্রতাপশালী সেনাশাসক নব্বই বছর বয়সী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তাইতো পত্রিকার শিরোনাম ‘কবরের জায়গা খুঁজছেন এরশাদ’। এখন তো আমলনামা নিয়ে ভাববার সময়। এ ব্যাপারে ১৮ মে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত হয়েছে একটি প্রতিবেদন। পরিবারের পক্ষ থেকে রংপুরে চিরনিদ্রায় শায়িত করার প্রস্তাব করলে তাতে সায় দেননি সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। রাজধানীতে শায়িত হওয়ার বাসনা জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় এই নেতার। এ জন্য রাজধানীতে এক বিঘা জায়গা কেনার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেখানে থাকবে মসজিদ, মাদরাসাসহ স্থায়ী কমপ্লেক্স। ছোট ভাই জিএম কাদেরসহ এরশাদ অতিসম্প্রতি রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে দুটি জায়গা দেখেছেন কিন্তু এমন একটি কবরস্থান ভবিষ্যতে মেনটেইন করা কঠিন হবে জানালে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়নি। বনানী কবরস্থানে জায়গা কিনে সমাহিত করার একটি পরিকল্পনাও আছে। এছাড়া সাবেক সেনাপ্রধান হিসেবে চাইলেই সামরিক কবরস্থানে সমাহিত হতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে বিভিন্ন দিবসে এরশাদের কবরে ভিড় জমানো যাবে না এমন আশংকায় সামরিক করবস্থানে যাওয়া হচ্ছে না। অনুমতি পেলে সংসদ ভবন এলাকাতেও কবর হতে পারে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের। এ সবই অপশন। তবে এরশাদের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, এরশাদের দীর্ঘদিনের বাসনা রাজধানীতে একটু নিরিবিলি জায়গায় শায়িত হবেন। যেখানে কবরের পাশেই থাকবে মসজিদ। আর মাদরাসায় নিয়মিত উচ্চারিত হবে আল-কুরআনের বাণী। থাকবে প্রচুর গাছপালা। তবে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের শেষ ঠিকানা কোথায় হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
জায়গা চূড়ান্ত না হলেও সব মানুষের মতো এরশাদেরও শেষ ঠিকানা নির্দিষ্ট হয়ে আছে, আর তা হলো কবর। এরশাদের বাসনা তার কবরের পাশে থাকবে মসজিদ-মাদরাসা। প্রাকৃতিক পরিবেশে সেখানে নিয়মিত উচ্চারিত হবে আল-কুরআনের বাণী। আল-কুরআনের বাণীতো প্রশান্তির বাণী, মুক্তির বাণী। কিন্তু প্রতিদিনের জীবনযাপনে এই বাণী আমরা কতটা পড়ি, শুনি এবং মানি?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ