রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

নুসরাতের মায়ের আকুতি

‘আমার মেয়েকে নিয়ে সিনেমা বানাবেন না’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন মুদ্রিত হয়েছে পত্রিকান্তরে। ১৯ মে তারিখে মুদ্রিত প্রতিবেদনটিতে ফেনীর সোনাগাজীতে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিন আক্তার বলেছেন, আমার মেয়ে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছে। নুসরাত শহীদ হয়ে গোটা বিশ্বের মানুষের মনে দাগ কেটেছে। সে কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত আছে। সিনেমা-নাটক বানিয়ে তাকে দোযখে নিবেন না দয়া করে। শুনেছি, কে নাকি আমার মেয়েকে নিয়ে সিনেমা ও নাটক বানানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। দয়া করে আমার মেয়েকে নিয়ে কেউ সিনেমা বা নাটক বানাবেন না। আমার মেয়ে একটি নিষ্পাপ ফুল। এই ফুলকে কষ্ট দিবেন না। আমরা অর্থের দিক দিয়ে গরিব হতে পারি, কিন্তু ধর্মের দিক দিয়ে আমরা গরিব নই। আমার মেয়েকে প্রথমে নূরানি মাদরাসায়, পরে মহিলা মাদরাসায় এবং সেখান থেকে দাখিল পাস করার পর সোনাগাজী মাদরাসায় ভর্তি করাই। নুসরাতের বাপ, দাদা, চাচা ও ভাই সবাই আলেম। দুনিয়ায় কিছু না পেলেও আখেরাতে আমার মেয়ে শহিদী মর্যাদা পাবে।
নুসরাতের মা মেয়ের ব্যাপারে তার অনুভূতি সরলভাবে ব্যক্ত করেছেন। তার সরল বক্তব্যে সিনেমা-নাটক, মেয়ের সংগ্রাম ও ধর্মের মর্যাদা সম্পর্কে সঙ্গত অভিব্যক্তি ফুটে উঠেছে। তিনি তার মেয়েকে নিষ্পাপ ফুলের সাথে তুলনা করে বলেছেন, এই ফুলকে যেন কেউ কষ্ট না দেয়। যৌন নিপীড়নের ব্যাপারে মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন নুসরাত। তার মা ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করেন। এরপর ওদের ওপর নেমে আসে হুমকি-ধমকি ও নিপীড়ন। এমন চ্যালেঞ্জে নুসরাত ভড়কে যাননি। তিনি এবং তার পরিবার বিচারের দাবিতে ছিলেন সোচ্চার। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। যার ফলে নিহত হন নুসরাত।
দুঃখের বিষয় হলো, নুসরাতের এমন পরিণতির জন্য একক কোন ব্যক্তি দায়ী নন। অধপতিত ছাত্র-শিক্ষক, পুলিশ ও সরকারি দলের স্থানীয় নেতারা অন্যায়ের পক্ষ অবলম্বন করায় নুসরাত হত্যার মতো নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটতে পেরেছে। এমন চিত্র আমাদের সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত। সমাজের ও মানুষের নৈতিক মান কোন পর্যায়ে অবনমিত হলে এমন ঘটনা ঘটতে পাওে ? উপলব্ধি করা যায়, আদম শুমারির খাতায় আমরা সবাই মুসলিম নামে পরিচিত হলেও প্রকৃত অর্থে আমরা মুসলিম হতে পারিনি। নয়তো সমাজের ক্ষমতাবান ও প্রাগ্রসর এতগুলো মানুষ কী করে সম্মিলিতভাবে নুসরাত হত্যার আয়োজন করতে পারলো? এই রমযানে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়, আমরা অনেকেই হয়তো সকাল-সন্ধ্যা উপবাস করছি, কিন্তু তাকওয়ার চেতনায় সমৃদ্ধ হতে পারছি না। তাকওয়া তথা খোদাভীতির চেতনায় সমৃদ্ধ হলে সমাজে নুসরাত হত্যার মতো ঘটনা ঘটতে পারে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ