শনিবার ১০ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

বাগমারায় পুকুর খনন সিন্ডিকেটের বেড়াজালে এসিল্যান্ড !

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা: বাগমারায় অবৈধভাবে পুকুর খনন সিন্ডিকেটের রোষানলে পড়েছেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) আবু হায়াত। পুকুর খনন সিন্ডিকেটে চক্রের সদস্যরা এসিল্যান্ড আবু হায়াতকে বদলীর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা এসিল্যান্ডকে বদলীর জন্য মোটা অংকের টাকা ফান্ড গঠন করে বিভিন্ন দপ্তরে তদবীর শুরু করেছেন। তারা এই বদলী প্রক্রিয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে লবিং শুরু করেছেন। জেলার একটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। অবৈধভাবে ফসলী জমিতে পুকুর খনন বন্ধের কার্যক্রম পরিচালনা করায় এর আগেও এক এসিল্যান্ডকে বদলীর জন্য ওই সিন্ডিকেট অপতৎপরতায় লিপ্ত ছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা ও উপাজেলা ভুমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন এই উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি)’র পদটি শূন্য থাকায় ভূমি সংক্রান্ত কাজে জনসাধারণের ভোগান্তির কারণে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক থেকে গত এপ্রিল মাসের ২১ তারিখে আবু হায়াত বাগমারায় এসিল্যান্ড হিসাবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি এই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে ফসলী জমিতে পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযানে নেমে পড়েন। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা এসব অভিযান পরিচালনা করেন। এসিল্যান্ড আবু হায়াত এই উপজেলার যোগদানের পর থেকে মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে ৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এসব মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তিনি প্রায় ২০ টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও পুকুর কাজে ব্যবহৃহ ভেকু মেশিনের ব্যাটারি জব্দ করেন। একই সময়ে এসিল্যান্ড উপজেলার বেশ কিছু অবৈধ ইটভাটা ও ভোক্তা অধিকার আইনে নি¤œমানের খাবার বিক্রির জন্য বেশ কিছু হোটেল রে¯েঁÍারার  বিরদ্ধেও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করেন।  এভাবে অবৈধ পুকুর খনন, ইটভাট ও হোটেল রে¯েঁÍারার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করায় এসিল্যান্ড আবু হায়াত উপজেলার বিভিন্ন মহলের প্রশংসা অর্জন করলেও তিনি পুকুর খনন সিন্ডিকেট চক্রের বিরাগভাজন হয়ে পড়েন। পুকুর খনন সিন্ডিকেট  চক্রের সদস্যরা এসিল্যান্ডকে বদলীর জন্য নানান তৎপরতা শুরু করে। তারা এক শ্রেণির মিডিয়াকে ভাড়া করে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওঠে পড়ে লাগেন। সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা নানান কৌশলে এসিল্যান্ডকে ঘুষখোর বানানোর অপপ্রচার শুরু করেন। তবে ষড়যন্ত্রকারীদের এসব অপপ্রচার শুরুতেই হোঁচট খায়। গত বৃহস্পতিবার উপজলার মাসিক সমন্বয় সভায় পুকুর খননের বিষয়টি ওঠে আসলে উপস্থিত পরিষদ সদস্যগণ অবৈধ পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করায় এসিল্যান্ডকে ধন্যবাদ জানানো হয়। এই মাসিক সভায় দায়িত্বভার গ্রহণ করেন নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু শ্রী অনীল কুমার সরকার। তিনিও পুকুর খননসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করায় এসিল্যান্ডের প্রশংসা ও তাকে ধন্যবাদ জানান। একইভাবে উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারসহ সাধারণ জনগণও এসিল্যান্ডের বিভিন্ন অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কারায় তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। হামিরকুৎসার ইউপি সদস্য মঞ্জুর রহমান জানান, এমন এসিল্যান্ড বাগমারায় থাকলে অবৈধ পুকুর খননকারীরা সতর্ক থাকবে। এক সময় বাগমারায় তিন ফসলী জমিতে আর কেউ অবৈধভাবে পুকুর খনন করতে সাহস পাবে না। এদিকে বাগমারায় নবাগত এসিল্যান্ড অবৈধ পুকুন খননকারীদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান পরিচালনা করায় বাগমারা থানা পুলিশের একটি চক্র এসিল্যান্ডকে ব্যবহার করে পুকুর খননকারীদের কাছ থেকে অবৈধ ফায়দা হাসিল শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা এসিল্যান্ড ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে ওই সব পুকুর খননকারীদের কাছে থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাবদ হাতিয়ে নিচ্ছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে এসব অসাধু পুলিশের জন্য গোটা পুলিশ বাহিনী ও এসিল্যান্ডের মত একজন সৎ ও যোগ্য লোকের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণœ হচ্ছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা উপজেলার নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম বলেন, এসিল্যান্ড আমার দিক নির্দেশনা মত কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারি বিধিবিধান ও নীতিমালা অনুসরণ করেই তাকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। অবৈধ পুকুর খননে ফসলি জমির ক্ষতি ও এলাকায় জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন এলাকার কৃষকরা। এসব বিসয়ে হাইকোর্টে রিট রয়েছে। এছাড়া তার কোন কাজে কারো কোন আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা  সরাসরি আমার আমার দপ্তরে এসে জানালে সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ