শনিবার ১০ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

চট্টগ্রামের দুঃখ জলাবদ্ধতা এবার আশার আলো

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং তা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন গত ৯ মে বৃহস্পতিবার সকাল ১১.৩০ টায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ এর সাথে চউক সভা কক্ষে মতবিনিময় করেন। সুজন বলেন, চট্টগ্রামের দুঃখ জলাবদ্ধতা নিরসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৫৬১৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প একনেক এ পাস হয়েছে। যা এ যাবতকালের মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের জনগনের প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু চট্টগ্রামের জনগণ চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন আগামী বর্ষায় জোয়ারে ডুববে না ভাসবে? আমরা আশ্বাস নয় কাজের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন চাই। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম হচ্ছে বানিজ্যিক রাজধানী কিন্তু এ শহরে একটি পরিকল্পিত ট্রাক টার্মিনাল নেই। প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার ট্রাক নগরীতে প্রবেশ করে। তাই একটি আধুনিক ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে চউক চেয়ারম্যানের প্রতি আহবান জানান। তাছাড়া চট্টগ্রামের উত্তর ও দক্ষিণ পতেঙ্গা এলাকার জনগণ বৈরীতার শিকার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনায়াসে বহুতল ভবন নির্মাণ করলেও সাধারণ জনগণের জন্য দ্বিতলের বেশী ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। তিনি এ বৈষম্য দূর করার জন্য চউক চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এছাড়া অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠা অফডক কন্টেইনার ইয়ার্ডগুলো টুটি চেপে হত্যা করছে চট্টগ্রাম শহরের জীবন প্রবাহকে।  অফডক টার্মিনালগুলোর যানজটের কারণে আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর ব্যবহার করতে পারছে না চট্টগ্রামের যাত্রী সাধারন। প্রতিদিনই বিমান বন্দরগামী যাত্রী সাধারনকে নিদারুন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিনিয়তই ফ্লাইট মিস হচ্ছে যাত্রী সাধারনের। তাই চউক কর্তৃপক্ষের এখনই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত একটি শহরের জন্য বিমান বন্দর বেশী গুরুত্বপূর্ণ নাকি অফডক কন্টেইনার ইয়ার্ডগুলো। সম্প্রতি লালদিয়ার চরে টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ টার্মিনাল নির্মাণ হলেও হুমকির মুখে পড়বে চট্টগ্রামের আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরটি। তাই এ টার্মিনাল নির্মাণের পূর্বে বিশিষ্ট ব্যাক্তি এবং নগর পরিকল্পনাবিদদের মতামত নেওয়া জরুরী বলে মত প্রকাশ করেন। তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ইউএসটিসি থেকে ভাটিয়ারী পর্যন্ত নয়নাভিরাম পর্যটন কেন্দ্র এবং বড়শী দিয়ে মাছ শিকার করার উপযোগী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য চউক চেয়ারম্যানের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি আরো বলেন চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দাদের জায়গা জমি হুকুম দখলের নামে বিভিন্ন সরকারি এবং স্বায়ত্ত¦শাসিত প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করেছে। ফলতঃ নিজ ভূমে পরবাসী হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দাগণ। আপনিও চট্টগ্রামের একজন আদি বাসিন্দা। তাই এ ব্যাপারেও উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জনাব সুজন চউক চেয়ারম্যানের প্রতি আহবান জানান। এছাড়া সাধারন জনগণের জন্য নির্মিত রাস্তা সহ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কোন স্থাপনা যাতে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহবান জানান।
 চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যের প্রারম্ভেই নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানান এবং নাগরিক উদ্যোগের প্রস্তাবনাগুলোর সাথে একমত পোষন করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে আস্থা এবং বিশ্বাস নিয়ে আমাকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অর্পন করেছে আমি সে দায়িত্বের পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে চাই। সকল সেবা সংস্থার সমন্বয়ে আলাপ আলোচনা করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষকে একটি জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। ইতিমধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে খালের মাটি উত্তোলনের কাজ চলছে। খালগুলোকে আর এস সীট মূলে অবৈধ দখলমুক্ত করে পুরাতন অবয়বে ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং খালের দুই পাড়ে গার্ড ওয়াল নির্মাণ করা হবে। পরবর্তীতে স্লুইসগেট নির্মাণ, খালের দুই পাশে রাস্তা, ওয়াকওয়ে এবং আনুষাঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া চাক্তাই থেকে কালুঘাট পর্যন্ত স্লুইচগেটসহ বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণ, লালখান বাজার থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন এবং নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ