শনিবার ১০ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

শিগগিরই একনেকে যাচ্ছে খুলনা ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রকল্প

খুলনা অফিস : শিগগিরই একনেক সভায় যাচ্ছে খুলনা মহানগরীতে আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে খুলনার ওয়াসার এক হাজার তিনশ’ কোটি টাকার প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কনসালটেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বর্তমান সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডিজাইন তৈরি চলছে। প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন মিললে ২০১৯ সালের গোড়ার দিকে মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বাস্তবায়ন হলে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় খুলনা হবে দেশের পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত একটি আধুনিক শহর।
ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে শিল্প নগরী খুলনায় আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেয় ওয়াসা। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এক হাজার তিনশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন’ বিষয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সংস্থাটি। ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আর্থিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়। বর্তমান কনসালটেন্ট নিয়োগ শেষে চলছে সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডিজাইন তৈরির কাজ। এরপর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপোজল (ডিপিপি) তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে।
সূত্র জানিয়েছে, এ প্রকল্পে মাটির ৩ মিটার গভীরতায় ৩শ’ কিলোমিটার সুয়ারেজ লাইন স্থাপন করা হবে। নগরীর লবণচরা, আড়ংঘাটা ও দৌলতপুর এলাকায় তিনটি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও ১৩টি পাম্প স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এসব স্থাপনা নির্মাণের জন্য ৭০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে, যার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা। তিনটি শোধনাগারের (ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) মাধ্যমে পরিশোধিত পানি ফেলা হবে নদীতে আর বর্জ্য ব্যবহার হবে নিচু জমি ভরাট ও সার  তৈরির কাজে।
সূত্রটি আরও জানান, পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলেও নগরীর সরু ও অপ্রশস্ত রাস্তার কারণে অনেক মানুষ সুয়ারেজ লাইনের বাইরে থাকবেন। ফলে এসব মানুষকে বিকল্পভাবে মেন্যুয়াল সিস্টেমে প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যাতে কোনভাবেই পরিবেশ দূষণ হতে না পারে। এ ক্ষেত্রে ভাকুটাক ট্রাকসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে প্রথম দিকে কর্পোরেশনের মাধ্যমে ওই সব এলাকার বর্জ্য অপসারণ হবে।
ওয়াসার কর্মকর্তারা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কনসালটেন্ট নিয়োগ শেষ হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডিজাইন তৈরি করে ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের জন্য ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে। একনেকে অনুমোদন মিললে পরবর্তী মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হবে। তারা আরও বলেন, খুলনায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এখনকার মানব বর্জ্য সব গিয়ে নদী ও আশপাশের পানি ও পরিবেশ দূষণ করছে। তাই প্রকল্প বাস্তায়িত হলে পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থায় খুলনা মহানগরী হবে পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত একটি আধুনিক শহর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ