শনিবার ১০ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

জমি অধিগ্রহণের টাকা না দেয়া হলে তিন মাসের মধ্যেই খুলনার সরকারি শিশু হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাতিল

খুলনা অফিস : জমি অধিগ্রহণের আগেই থমকে যেতে পারে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত খুলনা সরকারি শিশু হাসপাতাল নির্মাণ প্রক্রিয়া। আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলা প্রশাসনের অনুকূলে ৫২ কোটি টাকা হস্তান্তর না হলে এ প্রকল্প বাতিল হতে পারে এমনটিও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি স¤প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে পত্র দিয়েও জানানো হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বরাবর দেয়া সিভিল সার্জন ডা. এ,এস,এম আব্দুর রাজ্জাকের পত্রে উল্লেখ করা হয়, খুলনা মহানগরী সংলগ্ন বটিয়াঘাটা উপজেলাধীন কৃষ্ণনগর মৌজায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেডিএ’র ময়ূরী আবাসিক এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে চার এক ৮২ শতক জমি অধিগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। খুলনার জেলা প্রশাসনের এল,এ শাখা এ জমি অধিগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ সর্বমোট ৫২ কোটি দু’লাখ নির্ধারণ করেছে। যা জেলা প্রশাসকও ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন। এজন্য উক্ত টাকা নির্ধারিত ১২০ কার্য দিবসের মধ্যে এল.এ(সা:) ২/২০১৮-১৯ নম্বর কেসের বিপরীতে খুলনা জেলা প্রশাসকের বরাবর ডিডি অথবা চেকের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়। অবশ্য এর আগেও গত ৩০ জানুয়ারি বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে বরাদ্দকৃত অর্থ গণপূর্ত বিভাগ-১, খুলনা’র নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে খুলনা জেলা প্রশাসকের বরাবর পাঠানোর জন্য পত্র দেয়া হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। উক্ত ৫২ কোটি টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না দিলে জমি অধিগ্রহণ যেমন সম্ভব নয় তেমনি প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত এ প্রকল্পটি বাতিলও হতে পারে বলেও আশংকা করা হয়। তাছাড়া স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭ এর ২১ নম্বর আইনের ৮(৪) ধারা মোতাবেক প্রাক্কলিত অর্থ জমা না দিলে মেয়াদ শেষে অধিগ্রহণের যাবতীয় কার্যক্রম বাতিল হবে বলেও জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেছেন। সিভিল সার্জন ডা. এ,এস,এম, আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পত্র দেয়ার পাশাপাশি গত রোববার খুলনার জেলা প্রশাসক এবং তিনি নিজে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে টেলিফোনে কথাও বলেছেন। তিনিও আশ্বাস দিয়েছেন যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ সাপেক্ষে টাকা ছাড় দেয়ার। গণপূর্ত বিভাগ-১, খুলনা’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. লতিফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত প্রকল্প হিসেবেই ইতোমধ্যে খুলনার প্রশাসন বিভাগীয় পর্যায়ের এ শিশু হাসপাতালটি নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে। তিনি সবে যোগদান করেছেন। তিনিও যত দ্রুত সম্ভব কাজটি শুরু করার পক্ষে। কেননা ওই এলাকাকে ঘিরে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা কেডিএ’রও রয়েছে ভূমি পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনা। কেডিএ’র ওই প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে যে নকশা তৈরি হয়েছে তাতেও শিশু হাসপাতালের জন্য জায়গা পৃথক করে দেখানো হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে যদি অধিগ্রহণের টাকা না দেয়া হয় তাহলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তবে জমি অধিগ্রহণ শেষে তাদের কাছে হস্তান্তর করলেই তারা টেন্ডারসহ পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবেন বলেও জানিয়েছেন। খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প হিসেবে এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যে কারণে রোববার তিনি নিজেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে কথা বলেছেন। দ্রুত যাতে টাকা আসে এবং জমি অধিগ্রহণ শেষে তা’ গণপূর্ত বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা যায় সে চেষ্টাও চলছে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত বিভাগীয় পর্যায়ের শিশু হাসপাতাল নির্মাণের জন্য এর আগে খুলনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (মন্নুজান স্কুল) ও লোকষ্ট কলোনীর সামনের খালি জায়গায় উদ্যোগ নেয়া হলেও বিভাগীয় সার্কিট নির্মাণের জন্য নির্দিষ্ট থাকায় সেটি বাতিল হয়। যে কারণে গণপূর্ত বিভাগ পরবর্তী জায়গা হিসেবে সোনাডাঙ্গা সিটি বাইপাস সড়ক সংলগ্ন ময়ূরী আবাসিক এলাকা ও খু’বির মধ্যবর্তী স্থানের প্রায় পাঁচ একর জমিতে সরকারি শিশু হাসপাতাল নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এখন শুধু ক্ষতিপূরণের ৫২ কোটি দু’লাখ টাকা না দেয়াই মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া সা¤প্রতিক পত্র চালাচালি ও আলোচনায় এটিই প্রতীয়মান হচ্ছে যে, অধিগ্রহণের টাকা না দিলে আইন অনুযায়ী প্রকল্পটি বাতিল হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সেজন্য এ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসা উচিত বলেও নাগরিক নেতারা জানিয়েছেন। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা থাকলেও স্বাস্থ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতার কারণেই প্রকল্পটি পিছিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগে সরকারি শিশু হাসপাতাল নির্মাণ হলেও খুলনা কেন পিছিয়ে থাকবে তা’ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি পর্যায়ে খুলনা শিশু হাসপাতাল শিশু স্বাস্থ্য সেবায় ভূমিকা রাখতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি একটি শিশু হাসপাতাল নির্মাণ জরুরি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ