শনিবার ১০ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

শাহজাদপুরে যমুনা অববাহিকায় তিল চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : যমুনা তীরের বেনুটিয়া গ্রামের একটি তিল ক্ষেত

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় চলতি বছর তিলের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার গালা, কৈজুরী, সোনাতনী ইউনিয়নের যমুনা নদীর অববাহিকা ও যমুনার দুর্গম চরে তিল চাষে কৃষকের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কম শ্রম এবং কম খরচে সব মাটিতে উৎপাদন হওয়ায় তিল চাষে আগ্রহ বাড়ছে এই উপজেলার কৃষকদের। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে যাবে তিল চাষীদের ভাগ্য। সওে জমিনে ঘুরে, যমুনার অববাহিকা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে তিল চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আমন ধান কাটার পর ক্ষেত যখন খালি থাকে তখন তিল চাষ করা যায়। এতে ধানের কোনো ক্ষতি হয় না। তিল চাষে সার ও কীটনাশক লাগে না বললেই চলে। গরু ছাগলে তিল খায় না তাই রক্ষণাবেক্ষণে কোনো খরচ হয় না। উপজেলার যমুনা তীরের বেনুটিয়া গ্রামের কৃষক জব্বার মিয়া জানান, ২ বছর ধরে তিনি যমুনা তীরে বালুর মধ্যে তিল চাষ করছেন। গত বছর ১৬ শতক জমিতে ৫০ টাকায় আধা কেজি তিলের বীজ ক্রয় করে চাষ করে ২ মণ তিল পেয়েছেন। উৎপাদিত তিল দিয়ে তৈল বানিয়েছেন । এ বছর তিনি ৩০ শতক জমিতে তিল চাষ করেছেন। পোরজনা ইউনিয়নের ছোট মহারাজপুর গ্রামের কৃষক মানিক শেখ জানান, গত বছর ২০ শতক জমিতে চাষ করে দুই মণ তিল উৎপাদন করে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এ বছর ২০ শতক জমিতে তিল চাষ করেন। কৈজুরী ইউনিয়নের চর গুধিবাড়ী গ্রামের কৃষক বাকের আলী জানান, এ বছর ৪৫ শতক জমিতে তিল চাষ করতে মাত্র ৬৭০ টাকা খরচ হয়েছে। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলার সহকারি  কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, কম খরচে উৎপাদন করে বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে তিল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এ বছর এই উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে তিল চাষ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চলিত মৌসুমে বীজ সহায়তা হিসেবে দেড় কিজি করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৮ জন কৃষককে তিলের বীজ প্রদান করা হয়। এছাড়াও প্রনোদনা হিসেবে উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নের ৫০ জন কৃষককে এক কেজি করে তিলের বীজ ও সার দেয়া হয়। তিল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য তিলের ব্যবহার এবং তিল থেকে উৎপাদিত তৈল আমাদের স্বাস্থ্যে সম্মত, এ বিষয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ