রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি চত্বর

আমজাদ হোসেন ফাহীম : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট দিয়ে ঢোকার পরই বিবিএ ফ্যাকাল্টির সামনেই শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য ‘শান্ত চত্বরটি’ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর শান্তির একমাত্র প্রাণকেন্দ্র। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এই ‘শান্ত চত্বরটি’ ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিকেন্দ্র। চত্বরটিতে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের ছবির ভাস্কর্য ও তার পাশেই লেখা মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এম এম মুজাহিদ উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শান্ত চত্বরটি’ যেন বন্ধুত্ব আড্ডা, শিল্প-সাহিত্য ও ভালোবাসার ছোঁয়ায় ঘেরা অনাবিল সম্পর্কের এক আত্মার বন্ধন।
চত্বরটিতে কখনো গানে গানে ছড়িয়ে পড়ে তারুণ্যের উন্মাদনা, কখনো ছোটখাটো খেলায় মেতে ওঠে তারুণ্যে, কখনো বা সৃষ্টি হয় ভালো লাগা, ভালোবাসা বা প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প, রাজনীতি আন্দোলনের মিলনমেলার বক্তৃতা দেয়ার প্রতিচ্ছবি। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে কিংবা পড়ন্ত বিকালে দেখা যায় তরুণ-তরুণী বা যুগলদের দারুণ প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিন নিয়মিত এ চত্বরটিতে আড্ডার হাট বসে, ভরে ওঠে তারুণ্য।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মনির, জাকারিয়া, তানভির, সাইফ, শাহরুখ, রাকিব, নুর মোহাম্মদ এবং জাহাঙ্গীরের শান্ত চত্বরকে নিয়ে রয়েছে নানা স্মৃতি। তারা বলেন, জবিতে প্রথম বর্ষে যখন ভর্তি হয়েছি, শান্ত চত্বর শান্তির ছায়া হিসেবে একটি বিশাল গাছ ছিল, গত বছরই ঝড়ে গাছটি ভেঙে যায়। গাছটি ভাঙার পর আমাদের হৃদয়ে ক্ষত জমে যায়। তবে শান্ত চত্বর থেকে আমাদের আড্ডা কমাতে পারেনি, ক্যাম্পাসে সময় পেলেই শান্ত চত্বর বসে বিশ্রাম নেই। এখনো বসে গল্প, আড্ডা, পড়াশোনা, কৌতুক-রসাত্মক, বন্ধুত্বের মধ্যে খুনসুটি, সেলফি তোলা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই মেতে উঠি। চত্বরটিতে অন্য রকম এক ভালো লাগা কাজ করে যা ক্যাম্পাসের অন্য কোথায় এ অম্লান শান্তি খুঁজে পাই না।
দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম তাহসান বলেন, যতই দিন যাচ্ছে ততই ক্যাম্পাসের এই শান্ত চত্বরটি ভালো লাগছে, এর প্রতি একটু আলাদা মায়া জন্মাচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে হাজারো স্মৃতি, ক্যাম্পাস জীবন পরবর্তী সময়ে এ স্মৃতিগুলো মনে করিয়ে দেবে, এ স্মৃতিগুলো আটকে থাকবে জমাটবদ্ধ আত্মার বন্ধনে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এমএসএস প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী এ আর ফারুকি বলেন, ক্যাম্পাসের জুনিয়র-সিনিয়র সম্পর্কটা অসাধারণ। সবাই অনেক হেল্পফুল, যেন একটি পরিবার। আর এ শান্ত চত্বরে আড্ডার মাধ্যমে আমাদের সম্পর্কটা আরো সুন্দর ও গভীর হয়। এ যেন একটি আত্মার বন্ধন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ