বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রমজান এলেই খাদ্যে ভেজাল চক্র বেশি মাথাচাড়া দেয়

ডাঃ মোঃ মুহিব্বুল্লাহ : যে  সুস্বাস্থ্য সকল সুখের মূল সে স্বাস্থ্য অটুট থাকার পেছনে আবার সুখাদ্যের ভূমিকাই মোক্ষম। সুখাদ্যের অভাবে শত সচেতনতা সত্ত্বেও সুস্বাস্থ্য তৈরি ও তা অপরিবর্তিত রাখার ব্যাপারে সফলতার মুখ দেখা যায়না। খাদ্যের দ্বারা যেমন স্বাস্থ্য তৈরি তেমন এই খাদ্যের কারনেই আবার স্বাস্থ্য ভঙ্গের সর্বশেষ অবস্থা মানুষের মৃত্যুটাও নিকটবর্তী হয়ে পড়ে। বিড়ি, সিগারেট, মদ এবং এ জাতীয় নেশাদ্রব্যও মানুষের কাছে একটা খাবার। যার মধ্যে দেহ ও মননের জন্য কোন কল্যাণই নাই বললে চলে। যদিও কিঞ্চিৎ থেকে থাকে তাও সবার জন্য কল্যাণকর নয়। পক্ষান্তরে তার ক্ষতির প্রভাবটা সবার পরে অপূরণীয় আঘাত হেনেই থাকে। আবার ভাত একটা খাবার। যায় মধ্যে কারোর মঙ্গল নেই এমন একজন খুঁজে পাওয়া যাবেনা। সবার জন্যই ভাত মঙ্গলময়ী।
চাল, আটা, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, তরী-তরকারি, ফল-মূল, চিনি-মিশ্রী, তৈল, তিশি থেকে শুরু করে ঔষুধ-বড়ি পর্যন্ত এসকল সামগ্রীর প্রতিটি জিনিশই মানুষের জন্য একপ্রকার প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী। যেসকল খাদ্য সামগ্রীগুলো কোন মানুষের প্রয়োজনে আসেনা এমন নেই, হতেও পারেনা। কিন্তু এদুপ্রকার খাবারের মধ্যে একটা সুস্পষ্ট পার্থক্য সকলেরই দৃষ্টিগত আছে। আমরা জানিনা এমন কেউ নেই বললেই চলে যে এহেন নেশা দ্রব্য সমূহ তারা নিজেরাই নিজেদের বদনামের এ্যডভাইজ করে থাকে। যেমন ধূমপান বীষপান ধূমপান মৃত্যু ঘটায় ধূমপান ক্যান্সারের কারণ ইত্যাদি। যেখানে এগুলোর প্যাকেটের গায়ে এহেন সচিত্র সতর্কবাণী লেখা দেখে আমরা তাদেরকে আমাদের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে অতি সহজেই চিনতে পারি। পক্ষান্তরে সেখানে অন্য খাদ্য সামগ্রীগুলো যেমন চাল, আটা, মাছ, মাংশ, দুধ, ডিম, তরী-তরকারী, ফল-মুল, চিনি-মিশ্রী, তৈল, তিশি সহ ঔষুধ-বড়ি পর্যন্ত সকল প্রকার খাদ্য সামগ্রীগুলো তাদের প্রচ্ছদের উপরে নিজেদের সুকৃতিগুলোর এ্যডভাইজ করে চলে। যেমন আমার মধ্যে এতো পরিমাণ খাদ্যশক্তি, এতো পার্সেন্ট প্রোটিন।
এতোটুকুন ওমক ভিটামিন এতোটুকুন তমক ভিটামিন। এভাবে তারা তাদের সুকৃতির পরিচয় তুলে ধরার কারণে তাদেরকেও আমরা অতি সহজে চিনি।
চিনতে পারি কোনটা আমাদের জন্য কল্যাণকর আর কোনটা ক্ষতিসাধক। তবে সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলো গায়ে লেখা বিষ যখন তার পরিচয়ের সাইনবোর্ড গলায় লটকে দাঁড়িয়ে থাকে আর তা জেনেও আমি আমার নিজেকে ধ্বংসের দ্বারে ঠেলে দিতে তা ভক্ষণ করি সে দোষ আমার তার নয়। কিন্তু আমি যাকে তার শানশওকত ওয়ালা সুকৃতি ও সুখ্যাতির সাইনবোর্ড গলায় পরে দাঁড়ান অবস্থায় দেখে একজন সচেতন জনতার পরিচয় দিয়ে স্বাস্থ্যের কল্যাণাকাক্সক্ষী হয়ে তা ভক্ষণকরে বিষক্রিয়ায় তীলে তীলে মরতে বসি তখন আর দুঃখ রাখার যায়গা খুঁজে পাইনা। অথচ আজ এদশাই হয়ে পড়েছে সকল সুখাদ্যে। প্রতিটি খাদ্যেই এখন ভেজাল আর ভেজাল। খাদ্যে ভেজালের এ বাজারে নির্ভেজাল চিনাটাই আজ দুঃসাধ্য। চাল, আটা, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, সাক-সবজী, তরী-তরকারী, ফল-মূল, চিনি-মিশ্রী, তৈল, তিশি, ময়-মশলা, ঔষুধ-বড়ির কি বলবেন যে তাতে ভেজাল নেই। বরং এমনভাবে ভেজাল করা হচ্ছে যা ধরার হিম্মত কোন সাধারণ মানুষের নেই। প্রযুক্তির সাহায্যে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ছাড়া এটা ধরা দারুণ দুঃসাধ্য ব্যাপার। তবে চরম হতাশা থাকলেও আশার দিক হলো বিজ্ঞানের এ যুগে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ আজকের এসমাজে আমরা যান্ত্রিক পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে হলেও খাদ্যে ভেজালের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারি। কিন্তু সবচেয়ে আরো বড় সমস্যা যেটা সেটা হলো রাষ্ট্র কর্তৃক এ পরিক্ষানিরিক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মচারী কর্মকর্তারা হয়ে পড়েছে দারুণ দুর্নীতিবাজ। সে কারণে প্রযুক্তির দ্বারা ভেজালের বিষক্রিয়া সনাক্ত করা সত্ত্বেও কিছু অবৈধ স্বার্থের বিনিময় সে সকল বিষক্রিয়া যুক্ত ভেজাল খাদ্যগুলোকে বৈধতার ঘোষণা দিয়ে দেদার্সে বাজারে ছেড়ে রেখে যাচ্ছে।
যে প্রযুক্তির ব্যাবহার ক্ষমতা সর্বসাধারণের হাতে থাকেনা থাকে শুধুমাত্র সরকারের হাতে। আর একারণে কপালপোড়া জাতি ভেজাল খাদ্যের বেড়াজাল থেকে বের হতে পারছে না। কাচা ফলফলাদিতে ফরমালিন দিয়ে পাকিয়ে চোখ      ধাঁধাঁনো ও আকর্ষণীয় করে মানুষকে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে নিপতিত করা হচ্ছে। এ ফরমালিন দেয়া হচ্ছে চাল, ডাল, মাছ, মাংসসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যে। তবে আরো বেশি পরিতাপের বিষয় হলো বিশ্বের দ্বিতীয় মুসলিম প্রধান দেশ এই বাংলাদেশে প্রতি বছর যখনি বছর ঘুরে মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মৌসুম রমজান মাস আরম্ভ হয় তখন এহেন চক্রগুলো বেশি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। যা রোজাদারদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মহাপ্রলয়ংকরী দুরবস্থার প্রাদুর্ভাব ঘটিয়ে থাকে। এ সিজেনে এমন ভয়ানক অবস্থার সংঘটক চক্রের তালিকায় দেশী ও বিদেশী অনেক চক্র সক্রিয় হয়। পাশরাষ্ট্র ভারত থেকে আসা খেজুর, আঙ্গুর, আপেল, কমলা, লবন ও চিনিসহ সকল প্রকার খাদ্য সামগ্রীতে রয়েছে চরম ক্ষতিসাধক বীষক্রিয়া মূলক ফরমালিনের উপস্থিতি। কিন্তু রাষ্ট্রও সেদেশ থেকে এহেন পণ্য আমদানি থেকে কোনো রকম বিরত হচ্ছে না এবং দেশের ব্যবসায়ী সমাজও সেসব ভেজাল খাদ্য বিক্রি বর্জনের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেনা। তবে দেশও জাতির কল্যাণে রাষ্ট্রযন্ত্র এবং সকল নাগরিকের উচিৎ খাদ্যে ভেজালের দেশী বিদেশী সকল চক্র ও এহেন চক্র সমূহের সহযোগিতায় জড়িতদেরকে চিহ্নিত করে তাদেরকে দমন করার মাধ্যমে সকল সুখের মূল সুস্বাস্থ্যবান জাতি গঠনের দিকে এগিয়ে আসা।
তাই আসুন আমরা সকল সুখের মূল একটি সুস্বাস্থ্যবান জাতি গঠনের প্রত্যয় গ্রহণ করতে খাদ্যে ভেজালদাতা সংশ্লিষ্ট সকল চক্রকে সনাক্ত করে তাদের প্রতিরোধের ব্যাপারে পরিকল্পিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করি। রক্ষা করি মাহে রমজানে সিয়াম সাধনায় তপ্তপেটে ভেজাল খাদ্যের বিষক্রিয়ার মারাত্মক ক্ষতি থেকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ