বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খেতে বসলেই মনে প্রশ্ন জাগে কী খাচ্ছি!

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : বেঁচে থাকার প্রধান মৌলিক চাহিদা খাদ্য খেতে বসলেই মনে প্রশ্ন জাগে কী খাচ্ছি- খাবারের নামে ভেজালের বিষ নয় তো? কি বাড়িতে, কি বাইরে, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ক্যান্টিন কিংবা ক্লাব-মেসের নিজস্ব খাবার ব্যবস্থাপনা- সর্বত্রই অভিন্ন অরুচিকর পরিস্থিতি। জীবনযাত্রার সব স্থানে খাবারই হয়ে উঠেছে প্রধান আতঙ্ক। এমন সন্দেহ, প্রশ্ন আর উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেই চলছে খাওয়া-দাওয়া। বাংলাদেশে খাবারে ভেজাল নিয়ে উদ্বেগ বহু দিনের। সম্প্রতি খাদ্যে ভেজাল নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশের পর উত্তাল সারাদেশ। বিশেষ করে হাইকোর্টের নির্দেশে বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ব্যবহার ও উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে সর্বত্র। হাইকোর্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধে যুদ্ধ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতি মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা ভেজাল খাদ্য ও মানোত্তীর্ণ খাবার বিক্রি করছে। এতে করে ভোক্তাগণ মারাত্মক জীবননাশক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
অতি সম্প্রতি রূপচাঁদা, তীর সরিষার তেল ও প্রাণ এবং এসিআইসহ বিভিন্ন কোম্পানির ৫২টি ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য জব্দ এবং এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার ও উৎপাদন বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দুই কর্মকর্তাকে আদালতে তলব করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দুই কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। এর আগে সকালে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় প্রমাণিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য জব্দ এবং এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার ও উৎপাদন বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়। রিটে এসব পণ্যের গুণগত মান উন্নত না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়। পরে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটের শুনানি হয়।
বিএসটিআই ঘোষিত ভেজাল পণ্যগুলো হলো, সিটি অয়েলের তীর সরিষার তেল, গ্রিন বি¬চিংয়ের সরিষার তেল, শবনম ভেজিটেবল অয়েলের পুষ্টি সরিষার তেল, বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের রূপচাঁদা সরিষার তেল, কাশেম ফুডের চিপস, আরা ফুডের ড্রিংকিং ওয়াটার, আল সাফির ড্রিংকিং ওয়াটার, মিজান ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্নিং ডিউয়ের ড্রিংকিং ওয়াটার, ডানকান ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, আরার ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, দিঘী ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ডুডল নুডলস, শান্ত ফুডের সফট ড্রিংক পাউডার, জাহাঙ্গীর ফুড সফট ড্রিংক পাউডার, ড্যানিশের হলুদের গুঁড়া, প্রাণের হলুদ গুঁড়া, ফ্রেশের হলুদ গুঁড়া, এসিআইর ধনিয়ার গুঁড়া, প্রাণের কারি পাউডার, ড্যানিশের কারি পাউডার, বনলতার ঘি, পিওর হাটহাজারী মরিচ গুঁড়া, মিষ্টিমেলা লাচ্ছা সেমাই, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মিঠাইর লাচ্ছা সেমাই, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, এসিআইর আয়োডিনযুক্ত লবণ, মোল্লা সল্টের আয়োডিনযুক্ত লবণ, কিং-এর ময়দা, রূপসার দই, মক্কার চানাচুর, মেহেদীর বিস্কুট, বাঘাবাড়ীর স্পেশাল ঘি, নিশিতা ফুডসের সুজি, মঞ্জিলের হলুদ গুঁড়া, মধুমতির আয়োডিনযুক্ত লবণ, সান ফুডের হলুদ গুঁড়া, গ্রিন লেনের মধু, কিরণের লাচ্ছা সেমাই, ডলফিনের মরিচের গুঁড়া, ডলফিনের হলুদের গুঁড়া, সূর্যের মরিচের গুঁড়া, জেদ্দার লাচ্ছা সেমাই, অমৃতের লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপারের আয়োডিনযুক্ত লবণ, মদীনার আয়োডিনযুক্ত লবণ, নুরের আয়োডিনযুক্ত লবণ। কনসাস কনজ্যুমার সোসাইটির পক্ষে ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করেন। এর আগে গত ৬ মে বিএসটিআই কর্তৃক বাজারে এসব পণ্যে ভেজাল ধরা পড়ার পরও জব্দ না করা, সেগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা না নেওয়া ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় দুই মন্ত্রণালয়ের সচিব ও তিন প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে আইনি নোটিশ পাঠান ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনসাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি (সিসিএস)।
বাংলাদেশে খাবারে ভেজাল নিয়ে উদ্বেগ বহু দিনের। সম্প্রতি যে ৫২ টি খাদ্যপণ্য বিএসটিআই কর্তৃক মান পরীক্ষায় ব্যর্থ  হয়েছে সেই তালিকায় নির্দিষ্ট পাঁচ ধরনের খাবারের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। সেগুলো হল প্যাকেটজাত লবণ, তেল, হলুদ, লাচ্ছা সেমাই ও বোতলজাত পানি। বাজারের খুব নামকরা সব কোম্পানির খাদ্যপণ্য রয়েছে এর মধ্যে। আর এই বিষয়টি অনেককেই অবাক করেছে। বাংলাদেশের বাজারের নানা ধরনের খাদ্যদ্রব্যের উপর বহুদিন ধরে গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন। তিনি বলছেন, বিএসটিআই যেসব ত্রুটি বা ভেজাল পেয়েছে তা অনেক দিন ধরেই এসব খাদ্য পণ্যে বিদ্যমান রয়েছে। অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলছেন, বাংলাদেশে আইন অনুযায়ী প্যাকেটজাত লবণে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় আয়োডিন মেশানো বাধ্যতামূলক। কারণ বাংলাদেশে আয়োডিনের স্বল্পতার শিকার মানুষের সংখ্যা মারাত্মক হারে বেশি।
বাজারের বেশিরভাগ গুঁড়ো মশলায় কৃত্রিম রং মেশানো হচ্ছে। অন্যান্য ভেজালও রয়েছে। নাজমা শাহীন জানান, এমন কৃত্রিম রং মেশানোর কারণে হলুদ বা মরিচের গুড়ো মশলা দেখতে সুন্দর মনে হচ্ছে- কিন্তু এতে মিশে যাচ্ছে সীসা ও আর্সেনিক। তিনি একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির কথা উল্লেখ করে বলেন, বছর দয়েক আগে ওই কোম্পানির গুঁড়ো হলুদে সীসা পাওয়া গিয়েছিলো বলে যুক্তরাষ্ট্র সেদেশে সেটির আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলো। সেখানে প্রচুর বাংলাদেশি দোকানে এটি বিক্রি হতো। লাচ্ছা সেমাইতে  রয়েছে বাড়তি তেল অথবা চর্বি-জাতীয় পদার্থ। এই জাতীয় সেমাই খুব জনপ্রিয়। খেতে মজার পাশাপাশি এটি খুব দ্রুত রান্না করা যায়। অন্যান্য উপকরণের মধ্যে এতে থাকে ফ্যাট জাতীয় পদার্থ। এতে কতটুকু ফ্যাট থাকবে তার অনুমোদিত মাত্রা ঠিক করে দেয়া আছে। কিন্তু বাজারের নাম করা লাচ্ছা সেমাইতে তার পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে। বেশ কিছু বোতলজাত পানিতে দূষণ পাওয়া গেছে। পানির দূষণ বোঝা যায় এর পিএইচ মাত্রা দিয়ে। অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলছেন সরিষার তেলে কোন আয়রন বা লৌহ জাতীয় পদার্থ থাকার কথা নয়।
কিন্তু সেটি পাওয়া গেছে, আর সেজন্যেই এটি বিএসটিআই এর মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে তিনি বলছেন, সরিষার তেলের যে ঝাঁঝালো ব্যাপারটা আছে, অন্যধরনের তেলের মধ্যে এক ধরনের কেমিক্যাল মিশিয়ে সেই ঝাঁঝটা বানানো হয়। তার পর সেটিকে সরিষার তেল বলে বিক্রি করা হয়।
ূভোক্তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর রমযান মাস এলেই বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, ডিসিসিসহ বিভিন্ন সংস্থা হোটেল-রেস্তোরাঁ, ইফতারি বিক্রেতাদের দোকানে দোকানে অভিযান চালাতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। সেসব অভিযান-জরিমানার জাল কেবল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শ্রেণির হোটেল-রেস্তোরাঁর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠিত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুডের কথিত অভিজাত দোকানে অভিযানের আঁচ পড়ে না বললেই চলে। অতি সম্প্রতি অভিজাত শ্রেণির হোটেল-রেস্তোরাঁয় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাতেই নানা ঘৃণ্যচিত্র বেরিয়ে আসে। ভেজালবিরোধী অভিযানে জরিমানাসহ কারাদ-াদেশ দেওয়ার পরও হোটেলগুলোয় মরা মুরগির বাণিজ্য অব্যাহত থাকছে। সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রায় দেড় মণ মরা মুরগির মাংসসহ দুই মাংস বিক্রেতাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যমতে মরা মুরগির মাংস ক্রেতা হোটেল-রেস্টুরেন্টসমূহে অভিযান চালিয়ে সেসব তথ্যের সত্যতাও পায়। পরে হোটেলগুলোকে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা ধার্যসহ অভিযুক্তদের তিন মাস করে কারাদ-াদেশ দেওয়া হয়। এর আগে ধানমন্ডির একটি স্বনামধন্য রেস্টুরেন্ট থেকেও ৩০০ পিস মরা-পচা মুরগিসহ হাতেনাতে দুজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। একই অভিযোগ মাথায় নিয়ে ধানমন্ডির নামিদামি রেস্টুরেন্টটি এখনো রমরমা বাণিজ্য চালাচ্ছে।
সূত্রমতে, গ্রিল ও শর্মায় সয়লাব রাজধানীর ফাস্টফুড, হোটেল ও রেস্টুরেন্টে অনেক ক্ষেত্রেই মরা মুরগি অহরহ ব্যবহার হচ্ছে। একইভাবে কেক, জেলি ও সসে ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম গন্ধ, রাসায়নিক পদার্থ ও বিষাক্ত রং। ভোক্তাদের আকর্ষণ করতে বেশির ভাগ এনার্জি ড্রিংকে ব্যবহার হচ্ছে ক্যাফেইন ও উত্তেজক পদার্থ সিলডেনাফিল সাইট্রেট।
বাজারে এখন কাঁচা রাবারে তৈরি ডিমের বেচাকেনাও চলছে জোরেশোরে। বিভিন্ন বার্গার পণ্যে এসব ডিমের ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। রাজধানীর সবুজবাগের মান্ডা, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, লালবাগের যত্রতত্র গড়ে উঠেছে বেকারি। কালি-ঝুলি মাখা বেকারি পণ্য কারখানার ভিতরে-বাইরে কাদাপানি, তরল ময়লা, আবর্জনাযুক্ত নোংরা পরিবেশ। দুর্গন্ধের ছড়াছড়ি। আশপাশেই নর্দমা, ময়লার স্তুপ; মশা, মাছির ভনভন আর একাধিক কাঁচা-পাকা টয়লেটের অবস্থান। কারখানাগুলো স্থাপিত হয়েছে টিনশেড ভবনে। বহু পুরনো চালার টিনগুলো স্থানে স্থানে ছিদ্র থাকায় বৃষ্টির পানি অনায়াসেই ঢোকে কারখানা ঘরে। এতে পিচ্ছিল কর্দমাক্ত হয়ে থাকে মেঝে, কাদাপানি ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় খাদ্যে। খাদ্যপণ্যে বেশুমার ভেজালের পরিণতিতে শরীরে বাসা বাঁধছে জটিল রোগবালাই; অকালমৃত্যু পর্যন্তও ঘটছে। এ ছাড়া মায়ের গর্ভেই বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম নেওয়া, অন্ধত্ব, ক্যান্সার, হেপাটাইটিস, কিডনি, লিভারের জটিলতাসহ ১৫টি কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ভেজাল খাদ্যভোগী মানুষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নানাভাবে খাদ্যে ভেজাল বা বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রবেশ ঘটে। সামান্য কিছুটা প্রাকৃতিকভাবে হলেও বেশির ভাগই অসচেতন কৃষক আর স্বার্থান্বেষী, অতিমুনাফালোভী, অসাধু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমেই খাদ্যপণ্যে বিষ ঢুকছে। আর এসব খাবার আমরা নির্বিঘ্নে গিলছি। যদিও বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় এমন খাবারের মধ্যে কয়টাতে বিষ নেই তা হয়তো আঙ্গুলে গোনা যাবে। যেখানে উন্নত রাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে গুরুত্ব দেয় ভেজালমুক্ত খাবারের ওপর। হোটেল-রেস্তোরাঁ, ফুটপাথ দোকানের খাবারের মান নিয়ন্ত্রণসহ তা স্বাস্থ্যসম্মত কিনা নির্ণয় করার মূল দায়িত্ব ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) হলেও প্রতিষ্ঠানটি লোকবল সংকটের কথা উল্লেখ করে বরাবরই দায়িত্ব এড়িয়ে যায়। বিএসটিআই ঢাকার বাইরে কোথাও কোথাও কিছুটা তৎপর থাকলেও খোদ রাজধানীতেই তাদের অভিযান ঝিমিয়ে থাকছে।
এদিকে নিম্নমানের ৫২টি খাদ্যপণ্যের মধ্যে সাতটির লাইসেন্স বাতিল ও ১৮টির লাইসেন্স স্থগিত করেছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই। গেল বুধবার বিএসটিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। মান উত্তীর্ণ না হওয়ায় নিম্নমানের এসব পণ্য বাজার থেকে জব্দ করে ধ্বংস করতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে গত ১২ মে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
কিন্তু আদালতের নির্দেশের পরও এসব পণ্য দেদারসে বিক্রি হতে দেখা যায়।
ই-মেইল: jafar224cu@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ