শনিবার ১০ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

ঈদে অগ্রিম টিকিট বিক্রিতেও থাকছে আধুনিক স্টেশনের পুরাতন দশা

খুলনা অফিস : খুলনায় আধুনিক রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে পুরাতন দশাই বিদ্যমান। আসন্ন ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে অগ্রিম টিকিট বিক্রিতেও বহাল থাকবে এই দশা। টিকিট বিক্রির জন্য কাউন্টার রয়েছে কিন্তু জনবল না থাকায় চালু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, খুলনা আধুনিক রেল স্টেশন ট্রেন চলাচল থেকে সকল সেবা প্রদানের জন্য উদ্বোধন করা হয় গত বছর ২৫ নবেম্বর। কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই করা হয় উদ্বোধন। উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত আধুনিক এই স্টেশনে চালু করা হয়েছে মাত্র দু’টি কাউন্টার। যেখানে যাত্রী সাধারণের টিকিট সংগ্রহের জন্য রয়েছে ছয়টি কাউন্টার। কাউন্টারের জন্য নির্ধারিত সাতজন জনবল রয়েছে। তারা কাজ করেন শিফট ভিত্তিতে। খুলনা-কোলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেসের জন্য টিকিট সংগ্রহকারী সাপেক্ষে চালু করা হয় আরেকটি কাউন্টার। তাও সাময়িক। আসন্ন ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আগামী ২২ মে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদে রেল যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে। যার কারণে টিকিট পেতে অতিরিক্ত কাউন্টার খোলার চিন্তা করেন রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু খুলনা আধুনিক রেল স্টেশনে ছয়টি কাউন্টার থাকার পরেও ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির চাপ সামলাতে তা চালু করা হচ্ছে না। যার ফলে এবারও ভোগান্তি কমবে না যাত্রীদের।

প্রতিবছরই ঈদের সময় ট্রেনে যাতায়াতকারী আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী লালচাঁদ হোসেন বলেন, টিকিট বিক্রিতে সেই ভোগান্তি থাকলেও আধুনিক স্টেশন করে লাভটা কি হলো। কাউন্টার থাকতেও যদি সেই দুইটি কাউন্টারে টিকিট বিক্রি করা হয় তাহলে ওইগুলো করার প্রয়োজন ছিল না।

ঢাকাগামী রেবা পারভীন নামের এক যাত্রী বলেন, বেশি কাউন্টার হলে টিকিট তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে। তখন আর কালোবাজারী করার সুযোগ কমে যাবে। এজন্য এই কাউন্টারগুলো চালু করার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে।

রাজশাহীগামী বেসরকারি এক কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বলেন, আধুনিক স্টেশন হয়েছে। কিন্তু কমেনি যাত্রীদের ভোগান্তি। ঈদের টিকিট পেতে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

কাউন্টারের বুকিং ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, কাউন্টার চালু করার বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। বিষয়টি স্টেশন মাস্টার বলতে পারবেন। এ বিষয়ে তিনি এখনও কোনো ধরনের নির্দেশনা পাননি। নির্দেশনা পেলে জানাতে পারবেন। আর বন্ধনের কাউন্টার নিয়মিতই খোলা থাকে।

এ ব্যাপারে খুলনা রেল স্টেশনের মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, ছয়টি কাউন্টারের মধ্যে দু’টি সাধারণ আর একটি বন্ধনের জন্য সাময়িকভাবে চালু করা হয়। জনবল সঙ্কটের কারণে সব কাউন্টার চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে অগ্রিম টিকিট বিক্রির সময়ও কাউন্টারের একই অবস্থা থাকবে। অতিরিক্ত কাউন্টার চালুর জন্য জনবল চাইলেও তা এখনও পাওয়া যায়নি। যার কারণে নতুন করে কোনো কাউন্টার চালু করা হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ