সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

জামালপুরে ইরি-বোরো ধান কাটা শুরু কৃষি শ্রমিক সংকট ॥ হতাশ কৃষক

জুলফিকার আলম, জামালপুর সংবাদদাতা : জামালপুরে ইরি-বোরো ধানকাটা কৃষি শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও একমণ ধানের দামে মিলছে না একজন ধান কাটা কৃষি শ্রমিক। শ্রমিক সংকটে সময়মতো ধান কাটতে না পেরে হতাশায় পড়েছেন অনেক কৃষক। বর্তমানে জনপ্রতি শ্রমিক মজুরী দিতে হচ্ছে ৩ বেলা খাবার খেয়ে সাথে পান- বিড়ি সিগারেটসহ দৈনিক ৭০০-৮০০ টাকা। এতে জনপ্রতি শ্রমিক মজুরী পড়েছে প্রায় ১০০০ টাকা। এদিকে বাজারে একমণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫৫০-থেকে ৬০০ টাকা। ফলে একমণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের বেতন দিতে না পেরে মহাবিপদে পড়েছেন কৃষকরা। মেলান্দহের নাংলা গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান হক, চান মিয়া, নজরুল, সুমনসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, বোরো চাষে জমি প্রস্তুত, চারা, রোপণ, সেচ সার-কীটনাশক প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার, ধান কাটা শ্রমিক খরচসহ প্রতিমণ ধানের উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ৮শ থেকে ৯শ টাকা। এতে ধান চাষ করে কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। জেলার ৭টি উপজেলার শ্রমিক স্বল্পতার কারণে মাঠের পাঁকা ধান কেটে এগুতে পারছেনা কৃষকরা। ধান পাকার সাথে তাদের উৎপাদিত ফসল দ্রুত কেটে ঘরে তোলার জন্য ব্যস্ত। ইরি-বোরো ধানের শত্রু কালবৈশাখী শিলা বৃষ্টি, ঝড়-তুফান। তাই আকাশে মেঘ দেখলেই কৃষকরা আতংকিত দিশেহারা হয়ে পড়ে। তাই চড়া মূল্যে কৃষকরা শ্রমিক নিয়ে ধান কাটার যেন প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে মাঠে ঘাকে। শ্রমিক সংকটের মুল কারণ বেশিভাগ শ্রমিক শহরে বন্দরে রিক্সা-ভান, ভটভটি, নসিমন, করিমন, আবার অনেকেই অটো রিক্সা সিএনজির মালিক হয়ে পেশা বদল করে রোজগার করে আসছে। এজন্য কৃষি শ্রমিক দিন দিন সংটকে দেখা দিয়েছে। জেলার সদর, সরিষাবাড়ী., মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ এই ৭টি উপজেলায় একই সাথে ধান কাটার ধুম পড়েছে। বসে নেই কৃষাণী গৃহবধূরাও। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে বধুরা দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। খাবার তৈরি করে খাবার পরিবেশনের পর ধান খড় শুকানো, ধান বাতাসে উড়ানো, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে ঘরে তোলছেন গভীর রাত পর্যন্ত।
ইসলামপুর পচাবহলা গ্রামের বাবলু জানান, ত্রিশ বিঘা জমি পাকা ধান মাঠে পড়ে রয়েছে শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারছি না। মেলান্দহ উপজেলার সদারবাড়ি গ্রামের চা- স্টল শ্রমিক শাহজাহান, রিক্সা চালক আল-আমিন জানন, পূর্বে তারা মাঠে কৃষি কাজ করত। কিন্তু কৃষি কাজ বেশি দিন না চলার কারণে চা ষ্টলে কিংবা রিক্সা চালিয়ে সারা বৎসর জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তাই এখন আর সারাদিন ব্যাপি প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে ধান কাঁটা ইচ্ছে করেনা। কিন্তু এখন জমিতে পাকা ধান কাটতে দেখে তাদের খুশিতে মন নেচে উঠে। এবার ইরি-বোরো বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলা কৃষি সূত্রে জানা গেছে, এ জেলায় ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৫শ হেক্টর জমি।
এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে প্রায় ১লক্ষ্য ৩০ হাজার ৯শ ৬০ হেক্টর জমি। প্রতি হেক্টর জমির ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫.৫০ মেট্রিক টন। বর্তমানে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রায় ছাড়িয়ে প্রতি হেক্টরে ফলন হচ্ছে ৬.২৫ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে বোরো আবাদে যদি কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না ঘটে কৃষকরা সঠিক সময়ে ধান কেটে ঘরে তোলতে পারে তাহলে এ জেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ