বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বাগমারায় বোরো ধান নিয়ে কৃষকের মাথায় হাত

বাগমারার বালানগর মাঠে ধান কাটার দৃশ্য

আফাজ্জল হোসেন, বাগমারা (রাজশাহী) থেকে : রাজশাহীর বাগমারায় মওসুমের বোরো ধান কাটা-মাড়ায় কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফণির প্রভাবের পর দ্বিতীয় দফা প্রচন্ড তাপদাহে জন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে এখন পাকা সোনালী ধানের দৃশ্য। শ্রমিকেরা রমজানের কারণে মাঠে ধান কাটতে যেতে পারছেন না। ফলে শ্রমিক সংকটে কৃষকের স্বপ্নের ফসল মাঠে পড়ে থাকছে। চাষের শুরুতে বিদ্যুত সংকট, প্রচন্ড খরার কবলে পড়লেও পরবর্তীতে অনুকূল আবহওয়ায় বোরো আবাদ ভালো হলেও ধানে ব্লাস্টার রোগ, অসময়ে বৃষ্টি ও দু’ দফা ঝড়ে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধিতে ধানে উৎপাদন খরচ জুটছে না। এতসব মিলে এলাকার কৃষকরা চরম হতাশায় ভুগছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৯ হাজার ৩শত ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। গত মওসুমে বোরো ও আউস ধানের ফলন বিপর্যয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবারে এলাকায় অনেক বেশী জমিতে বোরো  আবাদ করা হয়েছে। এখন পুরোদমে ধান কাটা-মাড়ার উপযুক্ত সময়। মাঠের ধান হীর পাকায় পরিপুর্ণ। কিন্তু শ্রমিক সংকটে অতিরিক্ত মুজুরীতে কৃষকের ধান কেটে নিতে মাথায় হাত উঠছে। উপজেলার বালানগর, দেউলিয়া, শ্যামপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর বীজ সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধানের চাষ এবারের চেয়ে প্রায় অর্ধেক উৎপাদন হয়েছিল। এবারে কৃষকরা পুষিয়ে নিতে গত বছরের থেকে বেশী ধান চাষ ও উৎপাদনে তারা ঝুঁকে ছিলেন। কিন্তু পরবর্তিতে অনুকূল আবহাওয়ায় বোরো আবাদ ভাল হলেও অসময়ে বৃষ্টি, দু’ দফা ঝড়ে ধানের ফুল পড়া ও ব্লাস্টার রোগে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতি হয়। বালানগরের কৃষক আক্কাছ আলী জানান, ৪ বিঘা জমিতে এবারে বোরো ধান চাষ করা হয়। ইতি মধ্যে ১০ কাঠা জমির আগাম স্থানীয় জাতের ধান কাটা হয়েছে। ধানের ফলন একরকম।
তবে শ্রমিক না পেয়ে আর ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি। একই ভাবে দেউলিয়া গ্রামের মুকবুল হোসেন জানান, জমির ধান বেশী ভাগ পেকে গেছে, ধানের ফলন ভালো আশা করা গেলেও শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পারছেন না। রমজানে শ্রমিক কাজ করছে ১ বেলা। কিন্তু টাকা দিতে হচ্ছে সারা বেলার। শ্রমিকের মুজুরী ৬শত টাকা আর ১ মন ধান বিক্রি চলছে ৬ শত টাকায়। যতটুকু আবাদ হয়েছে তাতে আবার ন্যায্য মুল্য পাবার সঙ্কায় রয়েছেন তিনি। সব জিনিসের দাম বেশী হবার কারণে শ্রমিকের দামও বেড়ে গেছে। ফলে ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলে পুষাবেনা বলে তিনি মন্তব্য করেন। একডালা গ্রামের কৃষক আব্বাস উদ্দিন জানান, ১ বিঘা জমিতে এবারে বোরো ধান চাষ করতে ১২/১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে বাজারে ৬শত/ সাড়ে ৬শত টাকা দামে ধান বিক্রি চলছে। শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধিতে ধান চাষে বিঘা প্রতি ২ হাজর থেকে ৩ হাজার টাকা লোকশান গুণতে হচ্ছে। একই ভাবে নন্দনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম, শ্যামপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন সব জিনিসের মুল্য বেশী সেই তুলনায় ধানের দাম বাড়ছে না। মোহাম্মাদপুর গ্রামের কৃষক আঃ রহমান, জেহের আলী, আব্বাস আলীসহ অনেকে জানান, ধান চাষে অতিরিক্ত খরচ বেড়েছে। এছাড়া শ্রমিক সংকটে বেকায়দা কৃষকরা। একজন শ্রমিক দিনে মজুরী ৬শত টাকা নিচ্ছে। এতে দিনে একজন শ্রমিক দু’ মন ধান কাটছে। উপকরণ ও শ্রমিক খরচে কোন লাভ মিলছে না। এতে করে ধান চাষে অতিরিক্ত ক্ষতিতে বসছেন তারা বলে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ