সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

অবশেষে ফেনীর এসপি প্রত্যাহার

স্টাফ রিপোর্টার: সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহারের পর তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরে।
পুলিশ সদর দপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ীই তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গতকাল রোববার বিকালে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা এ তথ্য জানান।
এর আগে শনিবার পুলিশের এই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ফেনীর পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তাকে একটি ইউনিটে সংযুক্ত করা হবে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন।
তিনি আরো জানান, এরই মধ্যে ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইউসুফকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় এবং এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল আহাম্মদকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের সবার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে ফেনীর ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
প্রতিবেদনে পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনসহ চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মেলার কথা উল্লেখ করেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার পর ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া ও অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে ফেনীর পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
এর পরই অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে গত ১৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দফতরের উপ-মহাপরিদর্শক এসএম রুহুল আমিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাকেন্দ্রের ছাদে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেয়া হয় নুসরাতকে। গত ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যায় নুসরাত।
নুসরাত হত্যায় কিছু টাকা লেনদেন হয়েছে -সিআইডি
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সামান্য কিছু টাকা লেনদেন হলেও মানি লন্ডারিংয়ের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল রোববার রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত সিআইডি’র প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) মোল্লা নজরুল ইসলাম এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল বলেন, মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত হত্যার ঘটনায় কোনো মানি লন্ডারিং হয়েছে কি না, তা নিয়ে আমরা তদন্ত করেছি। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, নুসরাত হত্যাকান্ডে মানি লন্ডারিং হয়নি। অল্প কিছু টাকা লেনদেন হয়েছে, তবে তা মানি লন্ডারিংয়ের পর্যায়ে পড়ে না।
 মোল্লা নজরুল বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত যে তথ্য পেয়েছি, তাতে দেখা যায়— হত্যাকান্ডের আগে সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাকসুদ আলম অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলাকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এই টাকা দিয়ে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বোরকা, হিজাব, কেরোসিন ও দড়ি কেনা হয়েছিল। এছাড়া আর কোনো লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি আমরা আরও তদন্ত করে দেখছি।
এর আগে সিআইডি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নুসরাত হত্যায় কোনো মোটা অঙ্কের টাকা মানি লন্ডারিং হয়েছে কি না, তা বের করতেই সিআইডি ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে। মানি লন্ডারিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে অর্থ জালিয়াতির মামলাও দায়ের করা হবে।
এর আগে, নুসরাতকে যৌন হয়রানির অভিযোগে তার মায়ের দায়ের করা মামলায় গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দোলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে কারাগার থেকেই তিনি মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাতের পরিবারকে চাপ দিতে থাকেন। তাতে নুসরাত ও তার পরিবার রাজি না হলে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন অধ্যক্ষ। সেই অনুযায়ী, গত ৬ এপ্রিল নুসরাত তার মাদরাসায় পরীক্ষায় অংশ নিতে গেলে তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে যায় অধ্যক্ষের সহযোগীরা। সেখানে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওই দিন রাতেই নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। সেখানে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ৯ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে নুসরাতের চিকিৎসা চলে। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় নুসরাত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ